কাটাপড়া মানুষ : একটি রাজনৈতিক ভাষ্য

মজিদ মাহমুদের কবিতা মানে নতুন নতুন অভিজ্ঞাতার সঙ্গে পরিচিত হওয়া। তার প্রতিটি কাব্যগ্রন্থ বিষয় ও আঙ্গিকগত দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন। ‘কাটাপড়া মানুষ’ও তার ব্যতিক্রম নয়। এ গ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই রাজনৈতিক, রাজনৈতিক ভাষ্য। সময়ের ঘাত-প্রতিঘাত, দ্বন্দ্ব, বৈষম্য ও মানবিক সম্পর্ক এ গ্রন্থের মূল বিষয়। কাব্যগ্রন্থটি পাঠ শেষে আমরা বুঝতে পারব একজন কবির কবি হিসেব তার সামাজিক আর রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা। 
‘রাজা’ শিরোনামে একটি কবিতায় ‘ক্ষমতা’কে মজিদ মাহমুদ বলছেন মডার্ন মেশিন। প্রথমেই কবি আমাদেকে এই প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, রাজার কাছে আমরা কী আশা করি। রাজার (আমরা এখানে মনে মনে আমাদের সরকারপ্রধানকে কল্পনা করে নিতে পারি) সঙ্গে তো আমাদের, প্রজা বা জনসাধারণের সম্পর্ক চাওয়া-পাওয়ার। মজিদ মাহমুদ রাজার স্বরূপ তুলে ধরেন এভাবেÑ

ক্ষমতা হলো একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যাপর
ক্ষমতা কারো ভাই নয়
পিতা কিংবা সন্তান নয়
ক্ষমতা একটি মডার্ন মেশিন।

যথার্থই। বর্তমান পৃথিবীতে আমরা তা-ই দেখছি। পৃথিবীর ইতিহাসও তাই বলে- 

রাজার কাছে ক্ষমতার প্রশ্ন সর্বাগ্রে
কেবল তোমার ছেলে নয়
নিজের ছেলেকেও প্রয়োজনে করে দেবে দূর

বর্তমান সময়ে একটি আলোচিত বিষয় সুন্দরবন। সুন্দরবন নিয়ে যখন আমরা কাউকে কবিতা লিখতে দেখি, তখন আমরা বুঝতে পারি সেই কবির দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। এই গ্রন্থে মজিদ মাহমুদ সুন্দরবন নিয়ে লিখছেন একটি কবিতা। ‘সুন্দরবন’ শিরোনামে লেখা কবিতাটিতে দেখা যায়, প্রথম স্তবকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক বর্ণনা। অবশ্য প্রথম লাইনেই কবি জানাচ্ছেনÑ ‘সুন্দরবনে আমার এখনো হয়নি যাওয়া’। কবি বা কবিতাটির কথকের ভাষ্য অনুযায়ী সুন্দরবনে তার যাওয়া না হলেও মন জানে, কেবল কবির মন বলে নয়, নিজের চোখে না দেখেও জ্ঞানের আলোকে ও তথ্যগত দিক থেকে আমরা দেখতে পারি; মজিদ মাহমুদ জানাচ্ছেন- 

জানি, এই বন কি কিছু গাছ ও প্রাণীর সমাহার
এই বন মানচিত্র ও মাতৃভূমির পরিচয় 

সৃষ্টিশীল কবির বাণী সেøাগান নয়, সৃষ্টিশীল কবিরা এমন করে তার বাণী মানুষের মর্মমূলে প্রবেশ করিয়ে দেন যে, সেই বাণী মানুষের অন্তরের জ্বালানি হয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, এগিয়ে যায় মানুষ মিছিলের অগ্রভাগে, গড়ে তোলে প্রতিরোধের দেয়াল। সুন্দরবন যখন মানচিত্র ও মাতৃভূমির পরিচয়, তখন একে রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। যখন মানচিত্র ও মাতৃভূমির পরিচয়, এ তো আসলে আমিই, আমার থেকে যদি আমার মানচিত্র ও মাতৃভূমি ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে তো আর আমি বলে কিছু থাকে না। সুন্দরবনকে এই যে মায়ের সঙ্গে তুলনা করছেন কবি, সরকার বা কোনো মানুষ মায়ের অঙ্গহানি করবে, এ কি হয়! কবি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন- 

যে সন্তান মাকে দেয় না ভাত-কাপড়
তাদের জন্য সরকার করেছে আইন
মায়ের অঙ্গহানিও তারা সইবে না জানি

সুন্দরবনের অঙ্গহানি কেউ করতে পারবে না, কবি এই আশা পোষণ করলেও, সুন্দবনের ধ্বংসস্তূপ কবি নিজের চোখে দেখার আতঙ্কে কেঁপে উঠেছেন। আর তা-ই, শেষে এসে আবার কবি বলছেনÑ 

শেষকৃত্য দেখার জন্য চাই না সেখানে যেতে
সুন্দরবন বরং থাক আমার অদেখা স্মৃতিতে। 

মর্মান্তিক একটি কবিতা ‘যুদ্ধ’। ‘যুদ্ধ’ কবিতাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা সাহিত্যের বহুল পঠিত কাব্যগ্রন্থের একটি মজিদ মাহমুদেরই রচিত ‘মাহফুজামঙ্গল’ এর ‘যুদ্ধমঙ্গল’ পর্বের কবিতাগুলো। ‘যুদ্ধমঙ্গল’ পর্বের কবিতাগুলোতে ফুটে উঠেছে যুদ্ধের বীভৎসতা, আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিনিয়ত যে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বা যেতে হচ্ছে, যেতে বাধ্য করা হচ্ছে; তার দিনলিপিও উঠে এসেছে ‘যুদ্ধমঙ্গল’-এ। ‘কাটাপড়া মানুষ’-এ অন্তর্ভুক্ত ‘যুদ্ধ’ কবিতাটিতে দেখা যাচ্ছে- যুদ্ধের পরিণতি বা যুদ্ধ-পরবর্তী মর্মান্তিক ও সুখকর চিত্র, কেন আমরা যুদ্ধ করি। যুদ্ধ কেন- দেশ রক্ষার নামে আবার দেশ দখলের নামেও, প্রেম ও ঘৃণার জন্য, বাঁচার জন্য আমরা অস্ত্র রফতানি করি আবার মারার জন্যও; এসবই উঠে এসেছে কবিতাটিতে। যুদ্ধ কে বা কারা বাধায়? এর উত্তর জানা এবং সহজ, রাষ্ট্র। যদিও ‘রাষ্ট্র আমাদের রক্ষাকর্তা’। কিন্তু ‘অস্ত্র প্রয়োগে তার রয়েছে বৈধ অধিকার।’ হ


নৈসর্গ, পাহাড় ও নদীর কবি
কবি ও কথাসাহিত্যিক আফিফ জাহাঙ্গীর আলির জন্মদিন পহেলা জানুয়ারি। ১৯৭৮
বিস্তারিত
এলোমেলো
মনে করো কেউ তোমাকে ডাকেনি,  অথচ তুমি শুনতে পাচ্ছো অতল
বিস্তারিত
বুড়ি চাঁদ
সুগন্ধি রোমাল হাতে         তুমি মেপে গেলে ষাঁড়ের
বিস্তারিত
প্রেমিক হতে পারি না আজকাল
প্রেমিকার উষ্ণ চুম্বনে কৃষ্ণগৌড় ঠোঁটে  ভেসে ওঠে শোষিত মানুষের রক্তের দাগ! 
বিস্তারিত
এ মাটি
এ মাটি আমাকে দিয়েছে জীবনের যতো গান, বাতাসে রৌদ্রের ঝিলিমিলি প্রজাপতি
বিস্তারিত
নোনাজলের ঢেউ
যাবতীয় আয়োজন শেষে কত ভেঙেছি  এ নদীতে নোনাজলের মিছিলের ঢেউ  শব্দবাণে
বিস্তারিত