ছোট্ট রাজকুমারী

মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে ছোট্ট রাজকুমারীর। সূর্যের আলো তার চোখেমুখে। চোখ ডলতে ডলতে বিছানা থেকে ওঠে ছোট্ট রাজকুমারী। হাতমুখ ধুয়ে সকালের নাশতা খায়। তারপর বইপত্র নিয়ে ছোট্ট একচালা টিনের 
ঘর থেকে বের হয়ে স্কুলের পথে পা বাড়ায়

আম্মু ডাকেন, ‘রাজকুমারী।’
‘রাজকুমারী কী?’ জিজ্ঞেস করে ছোট্ট রাজকুমারী।
‘রাজকুমারী হলো, রাজার মেয়ে। রাজার মেয়ে রাজকুমারী।’
‘রাজা কী?’
‘যার রাজ্য আছে, সেই রাজা।’
‘তবে, বাবার কি রাজ্য আছে?’
‘না!’
‘তাহলে?’
‘তাহলে হচ্ছে, তোমার বাবা রাজ্য ছাড়া রাজা আর তুমি তার মেয়ে। রাজ্য ছাড়া রাজার মেয়ে রাজকুমারী। আমার ছোট্ট রাজকুমারী!’ মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন মা।
‘রাজকুমারী দেখতে কেমন?’
‘রাজকুমারী! রাজকুমারী দেখতে অনেক সুন্দর। পরীর মতো।’
‘পরী কী?
‘পরী হচ্ছে, পরী। পরী দেখতে অনেক সুন্দর। চাঁদের মতো। পরীর পাখা আছে। পরী উড়তে পারে। পরী আকাশ দিয়ে উড়ে বেড়ায়। আবার মাটিতেও নামে।’
‘রাজকুমারীর কি পাখা আছে? সেও কি উড়তে পারে?’
‘না। রাজকুমারীর পাখা নেই। রাজকুমারী উড়তে পারে না। রাজকুমারী হচ্ছে, মানুষ। আমাদের মতো মানুষ। তোমার মতো মানুষ।’ ছোট্ট রাজকুমারীকে দেখিয়ে বলে মা।
‘রাজকুমারী কোথায় থাকে?’
‘রাজকুমারী! রাজকুমারী তো এখন নেই! ছিল। রাজা ছিল। রাজ্য ছিল। রাজমহল ছিল। সেই রাজমহলে থাকত রাজকুমারী।’
‘আমার ঘুম পাচ্ছে না। আমাকে একটা রাজকুমারীর গল্প শোনাও!’
‘রাজকুমারীর গল্প! আচ্ছা ঠিক আছে, তোমাকে একটা গরিব রাজকুমারীর গল্প শোনাই!’
‘রাজকুমারী কি গরিব হয়?’
‘না; তবে এই রাজকুমারীটা গরিব। কারণ রাজকুমারীর বাবা গরিব! আবার এই রাজকুমারীর বাবাই রাজা! কেননা তার মেয়ে রাজকুমারী; তাই সে রাজা।’
‘রাজকুমারীর বাবা গরিব, আবার রাজকুমারীর বাবা রাজা! এটা কেমন কথা?’
‘কী-জানি! আমিও ভাবি, এটা কেমন কথা?’
‘থাক সেসব কথা। এখন তুমি রাজকুমারীর গল্প শোনাও।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে। তবে শোন, এক ছিল রাজা আর এক ছিল রানী। তাদের ছিল এক মেয়ে। ছোট্ট, শান্ত, মিষ্টি একটা মেয়ে। নাম তার ‘স্বপ্ন’। বাবা-মা তাকে ডাকে, ‘রাজকুমারী’।’
‘মাÑ তুমি ...। এটা রাজকুমারীর গল্প না! তুমি আমার কথাই বলছ! এবার ঠিক-ঠিক একটা রাজকুমারীর গল্প বলো।’
‘কী-জানি! আমি তো ভেবেছিলাম, এটা সত্যি সত্যি রাজকুমারীর গল্প। আচ্ছা, ঠিক আছে। তবে, এবার অন্য একটা গল্প বলি। ‘এক ছিল রাজা, এক ছিল রানী। আর ছিল এক রাজকুমারী। রাজকুমারী...’
মায়ের মুখে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে ছোট্ট রাজকুমারী। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ছোট্ট রাজকুমারী স্বপ্নে দেখে, রাজকুমারী ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজমহলের ফুলের বনে। গায়ে তার ঝলমলে সুন্দর পোশাক। মুখে মিষ্টি হাসি। রাজকুমারী মিষ্টি হেসে কথা বলছে, পাখির সঙ্গে, ফুলের সঙ্গে, প্রজাপতির সঙ্গে। ছোট্ট রাজকুমারী ভাবে, তার মা রাজকুমারীর রূপের যে বর্ণনা দিয়েছে, রাজকুমারী তার চেয়েও অনেক সুন্দর! ছোট্ট রাজকুমারী আরও ভাবে, সে নিজেও যদি রাজকুমারীর মতো হতে পারত! মানে রাজকুমারী হতে পারত। তবে খুব মজা হতো।
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে ছোট্ট রাজকুমারীর। সূর্যের আলো তার চোখেমুখে। চোখ ডলতে ডলতে বিছানা থেকে ওঠে ছোট্ট রাজকুমারী। হাতমুখ ধুয়ে সকালের নাশতা খায়। তারপর বইপত্র নিয়ে ছোট্ট একচালা টিনের ঘর থেকে বের হয়ে স্কুলের পথে পা বাড়ায়।
ছোট্ট বাসা থেকে বের হয়ে ছোট্ট রাজকুমারী ভাবে, সবকিছু সুন্দর করে শিখতে হবে তাকে। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আর সব কিছু সুন্দর করে শিখতে শিখতে একদিন সে সত্যি সত্যিই রাজকুমারী হবে!
রাজকুমারী হওয়ার স্বপ্নে ছোট্ট রাজকুমারীর চোখমুখ ঝলমল করে ওঠে; আনন্দে। হ


খবরটি পঠিত হয়েছে ৬৯৪০ বার

ঘুমপাড়ানিরা
নিধিকে কোলে নিয়েই মা এবার বাইরে এলেন। এসে দেখেন, উপল
বিস্তারিত
কবিতা
বোকা নিশীথ দাস মেঘের ডাকে  বৃষ্টি ঝরে উঠোন ছেড়ে আয়রে ঘরে
বিস্তারিত
ফুলপরী ও কাজল
একদিন কাজলের মনে হলো সে যেন আজ বেশি ঘুমুচ্ছে। তার
বিস্তারিত
ছড়ার দেশে
ছড়ার দেশে মানুষ থাকে  সঙ্গে পশু পাখি ফুল ছড়ার দেশে
বিস্তারিত
তোমাদের জন্য নতুন বই
তোমাদের জন্য একাধিক নতুন বই এনেছে প্রতিভা প্রকাশ। এর মধ্যে
বিস্তারিত
তোমাদের জন্য গ্রন্থমেলা
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে শিশুদের বই নিয়ে গ্রন্থমেলা। বঙ্গবন্ধুর
বিস্তারিত