ইজাব কবুল প্রসঙ্গ

প্রশ্ন : ইজাব-কবুল এর শব্দের রূপ সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর : আল্লামা আলাউদ্দীন কাসানী (রহ.) ‘বাদায়িউস সানায়ি’র মধ্যে উল্লেখ করেন, ‘ইজাব কবুল কোনো কোনো সময় অতীতকালসূচক ক্রিয়া দ্বারা সম্পাদিত হয়, আবার কোনো কোনো সময় বর্তমানকাল জ্ঞাপক ক্রিয়া দ্বারাও সম্পাদিত হয়। অতীতকাল সূচক ক্রিয়া দ্বারা যেমনÑ কেউ বলল, আমি বিক্রয় করে দিয়েছি, ক্রেতা বলল, আমি ক্রয় করেছি। এরূপ বলার দ্বারা বেচাকেনা সংঘটিত হয়ে যাবে। 
আবার কোনো কোনো সময় বর্তমানসূচক ক্রিয়া দ্বারাও ইজাব কবুল সম্পাদিত হয়। যেমনÑ বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল যে, আমি তোমার কাছে এ বস্তুটি বিক্রয় করছি। এর দ্বারা ইজাব সাব্যস্ত হওয়ার পর ক্রেতা বলল যে, আমি ক্রয় করলাম অথবা বলল যে, আমি তোমার থেকে বস্তুটি ক্রয় করছি। এ অবস্থায় ইজাব কবুল পূর্ণ হয়ে যাবে আর বেচাকেনা সংঘটিত হয়ে যাবে।
ইজাব কবুল ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া দ্বারা সম্পাদন হতে পারে না। যেমনÑ কেউ বলল যে, আমি এ বস্তুটি তোমার কাছে বিক্রয় করব, আর ক্রেতা বলল যে, আমি ক্রয় করব। এরূপ বলা শুদ্ধ হবে না। এর দ্বারা বিক্রয় করার ওয়াদা হবে ঠিকই; কিন্তু বেচাকেনা সংঘটিত হবে না।
এ মর্মেও ফিকাহবিদরা সবাই একমত যে, প্রশ্নবোধক শব্দ দ্বারা ইজাব কবুল সংঘটিত হবে না। যেমনÑ কোনো ব্যক্তি বলল যে, তুমি কি আমার থেকে এ বস্তুটি ক্রয় করবে? অথবা বলল যে, তুমি কি এ বস্তুটি এত টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করে দিয়েছ? এরপর বিক্রেতা উত্তরে বলল যে, আমি বিক্রয় করে দিয়েছি। এ অবস্থায় বেচাকেনা সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতা পুনরায় এ কথা না বলবে যে, তাহলে আমি ক্রয় করেছি।
এরপর প্রশ্ন জাগে, নির্দেশসূচক ক্রিয়া দ্বারা বেচাকেনা সংঘটিত হবে কিনা? যেমনÑ ক্রেতা বিক্রেতাকে বলল যে, তোমার গাড়িটি আমার কাছে বিক্রয় করে দাও, আর বিক্রেতা বলল যে, আমি বিক্রয় করে দিয়েছি। এ ক্ষেত্রে ফিকাহবিদরা বলেন, উক্ত অবস্থায় বেচাকেনা সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতা পুনরায় এ কথা না বলবে যে, তাহলে আমি ক্রয় করেছি। 
আল্লামা কাসানীর (রহ.) উপরিউক্ত বক্তব্য বেচাকেনার প্রসঙ্গে বলা হলেও তা শিরকাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। কেননা দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়ার দিক দিয়ে শিরকাতও বেচাকেনার অনুরূপ একটি লেনদেন।
কাজেই কেউ যদি শিরকাতের ক্ষেত্রে অতীতকালসূচক ক্রিয়া দ্বারা এ কথা বলে, আমি তোমার সঙ্গে শিরকাত করেছি, আর অপর পক্ষ বলে, আমি কবুল করেছি; তখন শিরকাত সম্পাদিত হয়ে যাবে। এভাবে বর্তমানকালসূচক ক্রিয়া উল্লেখ করে কেউ বলল, আমি তোমাকে অংশীদার বানাচ্ছি, অপর পক্ষ বলল, আমি কবুল করছি; তখন শিরকাত পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তবে প্রশ্নবোধক ক্রিয়া উল্লেখপূর্বক যদি কেউ একথা বলে, তুমি কি আমাকে অংশীদার করবে? অপর পক্ষ বলল, আমি অংশীদার করলাম; তখন শিরকাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রথম পক্ষ একথা পুনরায় না বলবে যে, আমি অংশীদারিত্ব কবুল করেছি। অনুরূপ যদি নির্দেশসূচক ক্রিয়া ব্যবহার করে বলে যে, তুমি আমাকে অংশীদার বানিয়ে নাও, অপর পক্ষ বলল যে, আমি অংশীদার বানিয়ে নিয়েছি, তখনও শিরকাত সংঘটিত হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত প্রথম পক্ষ এ কথা পুনরায় না বলবে যে, আমি গ্রহণ করেছি।
উল্লিখিত আলোচনা ছিল হানাফি মাজহাবের আলোকে। এক্ষেত্রে মালেকি মাজহাব সম্পর্কে আল্লামা হাত্তাব মালেকি বলেন, ‘ইজাব-কবুলের জন্য নির্ধারিত কোনো শব্দ নেই। যে শব্দ দ্বারাই ইজাব কবুল বোধগম্য হয়, সে শব্দ দ্বারাই বেচাকেনা ও অন্যান্য লেনদেন সংঘটিত হয়ে যাবে। 
আল্লামা দারদীর (রহ.) ‘আশ-শারহুস সগীর’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘উভয়পক্ষ থেকে বা কোনো একপক্ষ থেকে মৌখিক বা লিখিতভাবে কিংবা ইশারা-ইঙ্গিতে যদি সম্মতিমূলক কোনো কিছু পাওয়া যায়, তাহলে এর দ্বারা বেচাকেনা সংঘটিত হয়ে যাবে। মোটকথা, মালেকি মাজহাব মতে, ইজাব কবুলই হলো আকদ সংঘটিত হওয়ার মূলভিত্তি। তা ক্রিয়াকর্ম দ্বারাও হতে পারে, ইঙ্গিত বা লেখা দ্বারাও হতে পারে। 
তবে শাফিয়ি মাজহাবের ফিকাহবিদরা শিরকাত সংঘটিত হওয়ার জন্য এমন শব্দের ব্যবহারকে জরুরি মনে করেন, যদ্দ¦ারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্মতি প্রকাশ পায়। তবে বোবারা যদি লেখার মাধ্যমে বা অন্য কোনো স্পষ্ট উপায়ে তাদের সম্মতি প্রকাশ করে, তাহলে তদ্দ¦ারাও তাদের মতে শিরকাত সংঘটিত হয়ে যাবে। 
হাম্বলী মাজহাবের ফকিহদের অভিমত হানাফি মাজহাবের অনুরূপ। 
লেখা বা চিঠির মাধ্যমে ইমামদের সর্বসম্মতিক্রমে ইজাব কবুল হয়ে যাবে। কারণ লেখা হলো সম্বোধন ও মুখে বলার অনুরূপ। ইমাম শাফিয়ি (রহ.) ছাড়া অন্যান্য ইমামের মতে, কাজের দ্বারাও ইজাব কবুল সংঘটিত হয়ে যায়।

মুফতি মুহাম্মদ ছলিমুল ওয়াহেদ
সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিয়া বায়তুল আমান, মোহাম্মদপুর


সালাত মোমিনের আশ্রয় ও অবলম্বন
কতই না মহান এর মর্যাদা। কি সমুচ্চ এর অবস্থান। এটি
বিস্তারিত
বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় বেড়ে উঠুক আমাদের
ভাষার মাস শেষ হওয়ার পথে। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি
বিস্তারিত
হায় আওরঙ্গজেবের ভারত!
মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ হিন্দু, পুরোহিত, ধর্মনেতা ও ধর্মালয়গুলো “বিশেষ
বিস্তারিত
টঙ্গীর আন-নূর মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো
গত জুমায় টঙ্গীর দত্তপাড়া হাসান লেনের আন-নূর জামে মসজিদের উদ্যোগে
বিস্তারিত
মহামারি-রোগব্যাধি থেকে শিক্ষা
জীবন-মৃত্যু আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি বান্দাকে পরীক্ষাস্বরূপ সুুস্থতা-অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা ও সুখ-দুঃখ
বিস্তারিত
মুফতি সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একজন আনসারি সাহাবি। উপনাম আবু আবদুর
বিস্তারিত