উপার্জনের কতিপয় হারাম পন্থা

চুরি, ডাকাতি ও জবরদখল
কারও সংরক্ষিত মাল তার অজ্ঞাতে নিয়ে যাওয়াকে চুরি বলা হয়। আর অন্যায়ভাবে কারও সম্পদের ওপর জবরদখল বা আধিপত্য কায়েম করাকে বলা হয় ডাকাতি। এ উভয় পন্থায় মালসম্পদ উপার্জনের প্রক্রিয়াকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করে দিয়েছেন। চুরি-ডাকাতির মাধ্যমে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হয়ে থাকে। অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ গ্রাস করা ইসলাম কখনোই অনুমোদন করে না। তাছাড়া চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে ইসলাম কঠোর শাস্তির কথা ঘোষণা করেছে। চুরির শাস্তি সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে, ‘চোর ও চুন্নির হাত কেটে দাও।’ (সূরা মায়েদা : ৩৮)। আরও এরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা আল্লাাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে ধ্বংসাত্মক কাজ (যেমন ছিনতাই, ডাকাতি) করে বেড়ায়; তাদের শাস্তি এই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে দেয়া হবে বা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করে দেওয়া হবে।’ (সূরা মায়েদা : ৩৩)। 
চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি পন্থায় অন্যের মাল আত্মসাৎ করা যে বৈধ নয়, এ সম্পর্কে হাদিসেও সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। এমনকি এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান ব্যক্তির মাল তার স্বতঃস্ফূর্ত সন্তুষ্টি ছাড়া বৈধ নয়।’ আমাদের সমাজে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অন্যের জমি জবরদখল করে থাকেন। এ মর্মে রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারও জমি দখল করবে, সাত স্তবক ভূমির সেই পরিমাণ তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।’
মজুদদারি, কালোবাজারি ও ভেজাল মিশ্রণ
অধিক লাভের প্রত্যাশায় পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে গুদামজাত করে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করাকে বলে মজুদদারি। মজুদকৃত পণ্য সংকটকালে অধিক লাভে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করাকে বলে কালোবাজারি। আর অধিক মুনাফার লোভে উন্নত পণ্যের সঙ্গে নিম্নমানের কোনো পণ্য বা মূল্যহীন কোনো দ্রব্য মিশ্রিত করে উত্তম পণ্যের দরে বিক্রি করাকে বলে ভেজাল দেয়া। ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি ৪০ দিন পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য মজুদ করে রাখে, সে আল্লাহর দায়দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যায়। আর আল্লাহও তার দায়দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যান। (মুসনাদে আহমদ)। ‘উপরোক্ত হাদিসগুলোর আলোকে একথা স্পষ্ট যে, যেসব পন্থায় অবাধ ক্রয়বিক্রয় ও ধন বিনিময় ব্যাহত হয়; ইসলামী অর্থনীতি সেসব পন্থাকে অনুমোদন করে না। যদি ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুদ রেখে অধিক মুনাফা লাভের চেষ্টায় প্রবৃত্ত হন, তাহলে রাষ্ট্র এমন প্রবণতা রোধের জন্য সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। মজুদকৃত পণ্য বাজেয়াপ্ত করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ উল্লেখ্য, যদি কোনো ব্যক্তি নিজের জমির ফসল থেকে নিজের ও পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজন পরিমাণ ফসল সঞ্চয় করে রাখে, তাহলে সেটা মজুদদারির পর্যায়ে পড়ে না।
জুয়া, লটারি, বাজি
জুয়া হলো অর্থসম্পদ লেনদেনের এমন শর্তযুক্ত চুক্তি, যা হারজিতের ওপর নির্ভরশীল। যা দ্বারা দুই পক্ষের এক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর অপর পক্ষ কোনোরূপ বিনিময় ছাড়াই প্রথম পক্ষের অর্থসম্পদ লাভ করে। এ জুয়া এক পক্ষের লাভ ও অন্য পক্ষের ক্ষতির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এক পক্ষ জিতলে লাভবান হয় আর অপর পক্ষ পরাজিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম এ ধরনের ব্যবসায়ী লেনদেনের সমুদয় চুক্তিকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ‘হে মোমিনরা, মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে।’ (সূরা মায়েদা : ৯০)।
জুয়া : আমাদের দেশে জুয়াড়িরা টাকা দিয়ে যে জুয়া খেলে থাকে তারও বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন তাস খেলায় যে জিতবে, সে ১০০ টাকা পাবে। এ টাকা পরিশোধ করবে তার সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণকারী পরাজিত অন্য সঙ্গীরা। পাশা খেলাও এক ধরনের জুয়া। তাছাড়া পটের খেলা ও হাউজি খেলাও জুয়ার আধুনিক পদ্ধতি।
আধুনিক লটারি : আধুনিককালে লটারির টিকিট বিক্রি করে টিকিট ক্রয়কারীদের জন্য যে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, তাও জুয়ার এক নতুন সংস্করণ। এ পদ্ধতিতে উদ্যোক্তারা ১০ টাকা বা ৫০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করে থাকেন। টিকিট বিক্রির আয় থেকে তারা নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে লাখ লাখ টাকার পুরস্কার প্রদান করে থাকেন। এক্ষেত্রে যারা পুরস্কার পান না তারা ১০ বা ৫০ টাকা দিয়ে যে টিকিট ক্রয় করে থাকেন, সে টাকার বিনিময়ে তারা কিছুই পান না। এ টাকা তার গচ্ছা যায়। আর ওদিকে উদ্যোক্তারা লটারি বিক্রির আয় থেকে পুরস্কারের টাকা পরিশোধ করেও লাখ লাখ টাকা লাভ করে থাকেন। বিনা পুঁজিতে তারা হয়ে যান টাকার কুমির। আর লোভের বশবর্তী হয়ে শোষিত হয় লাখ লাখ মানুষ।
‘বাহ্যিক দৃষ্টিতে লটারিতে উপকার আছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ হচ্ছে জুয়া ও ধোঁকা। কাজেই শরিয়তের দৃষ্টিতে লটারিও হারাম। কোনো মহৎ কাজের জন্য নাজায়েজ পদ্ধতি অবলম্বন করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। কোরআন-হাদিসে এর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। জনকল্যাণের কথা বলে যারা এ লটারির ব্যবস্থা করে থাকে জনসেবার পরিবর্তে আত্মসেবাই তাদের মুখ্য। সুন্দর চাকচিক্যময় লেবেল লাগিয়ে মানুষের টাকা হাতিয়ে নেয়া ও রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়াই তাদের লক্ষ্য।’
বাজি : বাজি ধরার দ্বারা অর্থ উপার্জনের প্রক্রিয়াও এক ধরনের জুয়া। কেননা এখানেও দুই পক্ষ এ মর্মে শর্ত করে থাকে যে, যদি তুমি জয়ী হও তাহলে আমি তোমাকে ১০০ টাকা দেব, আর তুমি যদি পরাজিত হও তাহলে তুমি আমাকে ১০০ টাকা দেবে বা দুই পক্ষের এক পক্ষ অপর পক্ষকে বলল, তুমি জয়ী হলে ১০০ টাকা পাবে আর পরাজিত হলে ১০০ টাকা আমাকে দেবে। এ ধরনের বাজিতেও এক পক্ষের নিশ্চিত লাভ ও অপর পক্ষের নিশ্চিত ক্ষতির প্রশ্ন জড়িত আছে। তাই এ পদ্ধতিও নিষিদ্ধ। কিন্তু এক  থেকে যদি এরূপ ঘোষণা করা হয়, যদি তুমি জয়ী হও তাহলে ১০০ টাকা পাবে। আর জয়ী হতে না পারলে কিছুই পাবে না, তাহলে এটাকে পুরস্কার বলে গণ্য করা হবে এবং তা বৈধ হবে।


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত