মানুষের রক্তের মূল্য


জঙ্গিরা ধর্মের নামে, ধর্ম প্রতিষ্ঠার আবেগে নিরপরাধ মানুষের রক্তপান করছে। মূলত  ধর্মের অপব্যাখ্যা তাদের ব্রেন ওয়াশ করে ফেলেছে। ফলে যা মাথায় ঢুকছে তাই সঠিক মনে করছে। ইসলাম ধর্মে একজন মানুষের রক্ত কত দামি, তা কোরআন-হাদিসের 
আলোকে সুস্পষ্ট
 

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের অন্যতম নিদর্শন। তিনি মানবজাতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ আকৃতি ও গঠন দিয়ে সৃজন করেছেন। কিন্তু আজকের এ বিশৃঙ্খল পৃথিবীর বুকে এই শ্রেষ্ঠ মানুষের পবিত্র রক্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছে। আজকের সমাজে মানবরক্তের কোনো মূল্য নেই। চারদিকে লাশের স্তূপ। যুদ্ধবিগ্রহে মানবতা বিধ্বস্ত। অপরদিকে কিছু ধর্মান্ধ লোক ইসলামের নামে নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছে। জঙ্গিবাদ আজকের সমাজের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিককালে এসে আমার জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। চলার পথে কখন জানি বোমা বিস্ফোরণে উড়ে যাইÑ এ আতঙ্কে দেহমন সন্ত্রস্ত। আজ পরিবেশ এতই ভয়ংকর হয়েছে যে, আমার পাশে উপবিষ্ট লোকটির প্রতি আমার বিশ্বাস নেই। হয়তো সে জঙ্গি হতে পারে। না জানি সে আমাকে মেরে ফেলে। 
জঙ্গিরা ধর্মের নামে, ধর্ম প্রতিষ্ঠার আবেগে নিরপরাধ মানুষের রক্তপান করছে। মূলত তারা ধর্মকে ভুল বুঝছে। ধর্মের আদর্শের অপব্যাখ্যা তাদের ব্রেন ওয়াশ করে ফেলেছে। ফলে যা মাথায় ঢুকছে তাই সঠিক মনে করছে। 
ইসলাম ধর্মে একজন মানুষের রক্ত কত দামি, তা কোরআন-হাদিসের আলোকে সুস্পষ্ট। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘এ কারণে আমি বনি ইসরাইল সম্প্রদায়ের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছিলাম যে, পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা ও কোনো প্রাণের বিনিময় ব্যতীত যে ব্যক্তি অন্যকোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করবে, সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানুষকে হত্যা করল। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কোনো প্রাণ রক্ষা করবে, সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সূরা মায়েদা : ৩২)। আলোচ্য আয়াতে একজন মানুষ হত্যাকে পৃথিবীর সমগ্র মানুষের হত্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তদ্রƒপ যে একজন মানুষকে বাঁচাল, সে যেন সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে বাঁচাল। 
অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যেই প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তা তোমরা হত্যা করো না।’ (সূরা ইসরা : ৩৩)। মানবহত্যা এমন গর্হিত অপরাধ, যাতে আল্লাহর ক্রোধ বর্ষিত হয়। সমগ্র আসমানি কিতাবে মানবহত্যাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসুলরা এসেছেন মানবতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মোমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম, যেখানে সে চিরস্থায়ী থাকবে। আল্লাহ তার ওপর (এ কর্মের দরুন) রাগান্বিত হবেন ও লানত (অভিসম্পাত) বর্ষণ করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন।’ (সূরা নিসা : ৯৩)। আলোচ্য আয়াতের আলোকে একজন নিরপরাধ মুসলমানকে হত্যা কত জঘন্য, তা সুস্পষ্ট। 
পবিত্র হাদিসে মানবরক্তের পবিত্রতা ও মর্যাদার আদর্শবাণী আরও ব্যাপকভাবে বিবৃত হয়েছে। প্রিয়নবী (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে জোর তাগিদ দিয়ে বলেছিলেন, ‘নিশ্চয় আজকের এ পবিত্র শহরে (মক্কায়) পবিত্র মাসে (জিলহজ) পবিত্র দিবসের (আরাফার দিন) পবিত্রতার ন্যায় তোমাদের জানমাল ও ইজ্জত-সম্মান অপরের জন্য (তাতে হস্তক্ষেপ করা) হারাম।’ (বোখারি : ৬৭ ও মুসলিম : ১৬৭৯)। হজের দিবসে রক্তপাত করা হারাম। অন্যায় কর্ম করা নিষিদ্ধ। তদ্রƒপ আরেকজনের জানমালে হস্তক্ষেপ করাও চরমভাবে নিষিদ্ধ। 
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আকাশ-জমিনের সবাই একত্র হয়েও যদি একজন মোমিনের প্রাণ নাশ করে, তাহলে আল্লাহ (বদলাস্বরূপ) সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (তিরমিজি : ১৩৯৮)।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) বলেন, হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের পারস্পরিক বিচারে সর্বপ্রথম রক্তের ফয়সালা করবেন।’ (তিরমিজি : ১৩৯৬)।
হজরত বারা বিন আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, ‘একজন মোমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা আল্লাহর কাছে সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস করে দেয়া থেকেও মারাত্মক জঘন্য।’ (নাসাঈ : ৩৯৮৮; ইবনে মাজাহ : ২৬১৯)। চিন্তা করুন, একজন মানুষের রক্তের দাম কত বেশি!
হজরত মুয়াবিরা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করতে পারেন তবে দুইটি গোনাহ ব্যতীতÑ এক. কাফের অবস্থায় যে মারা গেছে। দুই. যে অন্যায় ও ইচ্ছাকৃতভাবে আরেক মুসলিমকে হত্যা করেছে।’ (নাসাঈ : ৩৯৮৪, আবু দাউদ : ৪২৭০)।
আজকের বিশ্বে জঙ্গিরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য উগ্রপন্থা অবলম্বন করেছে। আসলে তাদের মূল টার্গেট ইসলাম প্রতিষ্ঠা নয়, বরং ইসলাম ধ্বংস করা। ইসলামের আদর্শ ও নৈতিকতা বিবর্জিত তাদের এ চিন্তাচেতনা ইসলাম কখনও সমর্থন করে না। ‘হুরমাতুন নফস’ তথা মানবাত্মাকে ইসলাম যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, তা সম্পর্কে অজ্ঞতাই চলমান উগ্রপন্থার জন্য দায়ী। জঙ্গিরা প্রতিপক্ষের রক্তকে হালাল মনে করে। সে যেই হোক না কেন। প্রতিপক্ষ তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেও তাকে হত্যা করতে পরোয়া করে না। অথচ ইসলাম নিরপরাধ মানবহত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম করেছে। অধিকন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে, সে আমার উম্মত নয়।’ (বোখারি : ৬৮৭৪)।
উপরে বর্ণিত কয়েকটি আয়াত ও হাদিসের মর্ম জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থা দমনে যথেষ্ট। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয় ভ্রান্ত চিন্তাধারা থেকে। তাই তরুণ প্রজন্মকে ধর্মের সঠিক আদর্শ শিক্ষা দিতে হবে। সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বলপ্রয়োগ কোনো চিরস্থায়ী সমাধান নয়।
লেখক : অধ্যয়নরত, আরবি ভাষা ও সাহিত্য মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়


পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : আল-কুরআনে শিল্পায়নের ধারণা লেখক : ইসমাঈল হোসাইন মুফিজী প্রচ্ছদ :
বিস্তারিত
উম্মতে মুহাম্মদির মর্যাদা
আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়কে আমাদের জন্য পূর্ণতা দিয়েছেন, যে বিষয়টিকে
বিস্তারিত
যেভাবে সন্তানকে নামাজি বানাবেন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে ‘তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। আর
বিস্তারিত
আবু বাকরা (রা.)
নোফায় বিন হারেস বিন কালাদা সাকাফি (রা.)। তার উপনাম আবু
বিস্তারিত