‘মুসলিম ল্যাপটপ ব্যান’

বুদ্ধিমত্তা নাকি বোকামি?

আলোচনার শুরুতেই ‘মুসলিম ল্যাপটপ ব্যান’ বিষয়টির ওপর একটা স্পষ্ট ধারণা দেয়া যাক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশ কিছু মুসলিম দেশের অধিবাসীদের ওপর অনৈতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতোই (যদিও তা মার্কিন আদালতের রায়ে স্থগিত হয়েছে), এই নিষেধাজ্ঞাও ট্রান্স আটলান্টিক ফ্লাইটে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ইলেকট্র্রনিক যন্ত্রের ব্যবহারের ওপর আরোপ করা হয়েছে।
এর দ্বারা অবাধ ভ্রমণের কোনো সমস্যা হবে না বা আপনাকে পরিবার থেকেও দূরে থাকতে হবে না। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আপনাকে মার্কিন বিমানবন্দরে কোনো লাঞ্ছনা বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখিও হতে হবে না। এই আইনের অধীনে একজন ট্রান্স আটলান্টিক ভ্রমণকারীর শুধু এই সমস্যাটুকুই হবে যে তিনি কোনো মুভি দেখা বা গেমস খেলতে পারবেন না এবং তার কোনো ই-মেইল বা কাজের ক্ষেত্রে জরুরি কোনো ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে পারবেন না ভ্রমণকালীন সময়ে।
এক্ষেত্রে তর্ক হতে পারে যে, ১৩ ঘণ্টার ক্লান্তিকর ফ্লাইটে দীর্ঘ সময় ধরে মুভি দেখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও মানবাধিকার আদালতে এ যুক্তি খুব একটা ধোপে টেকার নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এ ঘোষণার বিপরীতে যে ধরনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে, বিশেষত উপসাগরীয় অঞ্চলে, তাতে বিষয়টি নিঃসন্দেহে ফ্লাইট চলাকালীন বিনোদন ছাড়িয়ে আরও গভীর দিকে মোড় নিয়েছে।
মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণার পর পর, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও এ ধরনের একটি ভিন্ন ধরনের ঘোষণা আসার পেছনের উদ্দেশ্য আসলে কী? এগুলো কী আসলে বিমানে কোনো ধরনের টেররিস্ট আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত ইন্টেলিজেন্সের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ? নাকি একটি অদূরদর্শী ওভার রি-অ্যাকশন, যা মুসলিম বিশে^র মধ্যে বন্ধু ও শত্রু  নিরূপণের ব্যর্থতার প্রতীক এবং এর ফলে আসন্ন বোমা হামলা নিরসন কি আরও দুরূহ হয়ে পড়বে না? অর্থাৎ এটা কি বুদ্ধির প্রকাশ না কি বোকামির?

সোমালিয়ার শিক্ষা
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয়ই পুরনো নীতিতে আটকে আছে। পশ্চিমে হামলার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের প্রাধান্যের শীর্ষে রয়েছে বাণিজ্যিক বিমানসেবাগুলো; আর উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য হলো এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আঁতুড়ঘর যেখানে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা ব্যাপক হারে করা হয়ে থাকে; আর সন্ত্রাসবাদীদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন তারা আই প্যাডের মতো একটি ক্ষুদ্র ডিভাইসও হামলার কাজে ব্যবহার করতে পারে।
পশ্চিমা বিশে^র এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সম্ভবত গত বছরের সোমালিয়ার হামলার ঘটনাটি, যেখানে দুষ্কৃতকারীরা একটি বিমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ল্যাপটপের ভেতরে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে এসেছিল, যদিও বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
সাম্প্রতিক ‘ইভ্যালুয়েটেড ইন্টেলিজেন্স’ এর সূত্র ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয় পক্ষই এ ব্যাপারে একমত হয়েছে যে, একটি ‘নিষেধাজ্ঞা’ প্রয়োজন, বলা যায় খুবই জরুরি, বিশেষত বিমানভ্রমণকারীদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে। ব্রিটিশ ও মার্কিন উভয় সরকারেরই তাদের সীমান্ত ও নাগরিকদের রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে। আর এই উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নীতিমালার প্রতি সম্মান দেখানো এবং তা অনুসরণ করা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোরও দায়িত্ব।

প্রতারণার অনুভূতি
কিন্তু এটাও সত্যি যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সমঝোতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব এই মুহূর্তে প্রতারিত বোধ করছেÑ কারণ, অল্প কিছুদিন আগেই ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে তাদের একাত্মতা প্রকাশ করেছে। আর তারই সূত্র ধরে সম্প্রতি জেদ্দা ও রিয়াদ এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা ইস্যুতে সৌদি সরকার অত্যন্ত জোরালো পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে পশ্চিমা বিশে^র অন্যতম সহযোগী দেশ হলো সৌদি আরব।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের এয়ারপোর্টের নিরাপত্তার ব্যাপারে খুব বেশি বিনিয়োগ না করা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সৌদি বিমানবন্দরকেও এক করে ফেলা হয়েছে। আর সৌদি আরবের ক্ষোভও এখানেই। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আরব আমিরাত ও কাতার। কারণ এই নিষেধাজ্ঞার দ্বারা পরোক্ষভাবে এটাই বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তারাও সন্দেহ তালিকার ঊর্ধ্বে নয়। 

ওপেন স্কাই রো
আরব আমিরাত ও কাতার উভয় দেশই এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ যে, শুধু আমেরিকা তাদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ব্রিটিশরা নয়। তার অর্থ কি এই যে, আমেরিকান কর্তৃপক্ষ এই দুইটি দেশের ব্যাপারে এমন কিছু জেনেছে যা তারা ব্রিটিশদের সঙ্গে শেয়ার করেনি? নাকি উপসাগরীয় এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসা আরও কঠিন করে তুলতে ট্রাম্প প্রশাসন এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইছে? ‘ওপেন স্কাই রো’ ডিলের অধীনে সম্প্রতি তিনটি বৃহৎ পরিসরের মার্কিন এয়ারলাইন্স কোম্পানি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চাইছে। তাদের বাজার তৈরি করে দেয়াই কি এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য? কারণ, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে। সেটাও ততটা যুক্তিসংগত নয়। কারণ, এই কোম্পানিগুলোর বিমান এমনিতেও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচল করে না।
সবশেষে, সব ধরনের ইনফ্লেমেবল ইলেকট্রনিক যন্ত্র যার মধ্যে লিথিয়াম ব্যাটারির মতো অগ্নিবান্ধব উপকরণের যথেষ্ট উপস্থিতি আছে, নিঃসন্দেহে সেটা যে কোনো বিমানে থাকাটা যথেষ্টই বিপজ্জনক। যে কোনো সন্ত্রাসীর জন্য তা অত্যন্ত লোভনীয় টার্গেট হতে পারে। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহই নেই যে, এই ‘মুসলিম ল্যাপটপ ব্যান’ একটি অদূরদর্শী বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। 
আরব নিউজ অবলম্বনে 
তানজিনা বিনতে নূর


সালাত মোমিনের আশ্রয় ও অবলম্বন
কতই না মহান এর মর্যাদা। কি সমুচ্চ এর অবস্থান। এটি
বিস্তারিত
বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় বেড়ে উঠুক আমাদের
ভাষার মাস শেষ হওয়ার পথে। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি
বিস্তারিত
হায় আওরঙ্গজেবের ভারত!
মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ হিন্দু, পুরোহিত, ধর্মনেতা ও ধর্মালয়গুলো “বিশেষ
বিস্তারিত
টঙ্গীর আন-নূর মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো
গত জুমায় টঙ্গীর দত্তপাড়া হাসান লেনের আন-নূর জামে মসজিদের উদ্যোগে
বিস্তারিত
মহামারি-রোগব্যাধি থেকে শিক্ষা
জীবন-মৃত্যু আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি বান্দাকে পরীক্ষাস্বরূপ সুুস্থতা-অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা ও সুখ-দুঃখ
বিস্তারিত
মুফতি সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একজন আনসারি সাহাবি। উপনাম আবু আবদুর
বিস্তারিত