অটিজম শিশুদের জন্য ভালোবাসা

বিশ্বজুড়ে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘অটিজম’। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধি ও আচরণগত বিকাশ না হওয়ার নামই ‘অটিজম’। অনেক সময় দেখা যায়, ১৫ বছরের একজন কিশোর ৩ বা ৪ বছর বয়সী শিশুর মতো আচরণ করে। তার আচরণ কখনও কখনও ১ বা ২ বছরের শিশুর মতোও হয়। এ সমস্যাটিই অটিজম হিসেবে পরিচিত। অটিজমের লক্ষণগুলো হলোÑ শিশুর অস্বাভাবিক আচরণ। ডাকলে সাড়া না দেয়া। ক্লাস বা ঘরের এক কোণে বসে থাকা। অল্পতে ভয় পেয়ে যাওয়া। অন্যরকমভাবে তাকিয়ে থাকা। খেলনার প্রতি আগ্রহ না দেখা ইত্যাদি। এসব শিশুর প্রতি সুন্দর আচরণ করলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সহজ হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন অটিজম বিশেষজ্ঞরা। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়। সাধারণ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে যে সময় নেয় এ ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে তা একটু লম্বা সময় নিয়ে হয়। তাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করলে এ বিকাশ আরও বিলম্বিত হয়ে পড়বে। তাই আশপাশের সবার উচিত, অন্যদের মতোই তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সুন্দর আচরণ করা। বিশ্বব্যাপী দিন দিন এ ধরনের শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বলা হয়, কিছু অসাবধানতার কারণে শিশু অটিস্টিকে আক্রান্ত হয়। যেমন গর্ভাবস্থায় পরিমিত পুষ্টি না পাওয়া, জন্মের পর সঠিকভাবে শিশুর যতœ না করা ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে অটিজমের সঠিক কারণ এখনও শনাক্ত করতে পারেননি গবেষকরা।
অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের অধিকার রক্ষা ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের জন্য প্রতি বছর ২ এপ্রিল ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন’ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। একটি দিন পালনের মাধ্যমে সারা বছর এ ধরনের শিশুদের প্রতি মমতা দেখানোর প্রক্রিয়া প্রশংসার দাবিদার। মানুষ সচেতন হলো, শিশুদের জীবনও সুন্দর হলো।
শিশুদের প্রতি ভালো আচরণের ব্যাপারে ইসলামের অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমের এবং আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটদের প্রতি রহম-দয়া করবে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান করবে না সে আমার উম্মত নয়।’ (তিরমিজি ও আবু দাউদ)। অন্যত্র হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, এক বেদুইন নবী (সা.) এর কাছে এসে বলল, আপনারা শিশুদের চুমু দেন আমরা তো শিশুদের চুমু দিই না। উত্তরে নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমার অন্তর থেকে দয়ামায়া উঠিয়ে নিলে আমি কী করব? (বোখারি)।
শিশুদের প্রতি ভালোবাসা দেখানো আল্লাহর রহমতের অন্তর্ভুক্ত। হজরত আবু উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, খলিফা ওমর (রা.) এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ করলেন। ওই ব্যক্তি দেখল, খলিফা শিশুদের প্রতি খুবই স্নেহপরবশ। তখন সে বলল, হে মহান খলিফা! আপনি শিশুদের এত আদর করেন, অথচ আমার অনেক সন্তান আছে কাউকে কখনও চুমুও দিই না। এ কথা শুনে ওমর (রা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা ভালো মানুষের অন্তরেই ভালোবাসা ঢেলে দেন। নচেত সবাই ভালোবাসার নেয়ামত পাওয়ার যোগ্য নয়। (আদাবুল মুফরাদ)।
শিশুরা এমনিতেই আমাদের ভালোবাসার দাবিদার। তার ওপর কোনো শিশু যদি সমস্যাগ্রস্ত হয়, চাই শারীরিক বা মানসিক; তবে তার প্রতি দয়া দেখানো আমাদের কর্তব্য হয়ে যায়। হজরত জারের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালাও তার প্রতি দয়া করেন না।’ (মুসলিম)। 
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।’ (মুসলিম)। সুতরাং মহান আল্লাহর রহমত ও বরকতের অমীয় বর্ষণে নিজেকে সিক্ত করতে চাইলে অন্যের প্রতি দরদি হতে হবে। আসুন! অটিজম শিশুদের প্রতি সদয় হই। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করি। তবেই আমাদের জীবনে নেমে আসবে খোদা তায়ালার রহমতের বারিধারা।


সালাত মোমিনের আশ্রয় ও অবলম্বন
কতই না মহান এর মর্যাদা। কি সমুচ্চ এর অবস্থান। এটি
বিস্তারিত
বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় বেড়ে উঠুক আমাদের
ভাষার মাস শেষ হওয়ার পথে। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি
বিস্তারিত
হায় আওরঙ্গজেবের ভারত!
মুসলিম শাসনামলে ভারতের সাধারণ হিন্দু, পুরোহিত, ধর্মনেতা ও ধর্মালয়গুলো “বিশেষ
বিস্তারিত
টঙ্গীর আন-নূর মসজিদে অনুষ্ঠিত হলো
গত জুমায় টঙ্গীর দত্তপাড়া হাসান লেনের আন-নূর জামে মসজিদের উদ্যোগে
বিস্তারিত
মহামারি-রোগব্যাধি থেকে শিক্ষা
জীবন-মৃত্যু আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি বান্দাকে পরীক্ষাস্বরূপ সুুস্থতা-অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা ও সুখ-দুঃখ
বিস্তারিত
মুফতি সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল
মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) একজন আনসারি সাহাবি। উপনাম আবু আবদুর
বিস্তারিত