মদিনা শরিফের জুমার খুতবা

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এস্তেগফার

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কল্যাণ ও সৎকর্মের অনেক দ্বার এবং বহু পন্থা রেখেছেন। এটা তাঁর দয়া, অনুগ্রহ, দান ও রহমত। যাতে মুসলিম ব্যক্তি কল্যাণের যে কোনো এক পথ অবলম্বন করতে পারে। আনুগত্যের কোনো একটি পথে চলতে পারে। এর দ্বারা আল্লাহ তার পার্থিব অবস্থা পরিশুদ্ধ করেন। পরকালীন মর্যাদা উন্নিত করেন। দুনিয়ায় সে পবিত্র ও সুখী জীবন লাভ করে ধন্য হয়। মৃত্যুর পর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যাবতীয় কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো।’ (সূরা বাকারা : ১৪৮)। এস্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এরকমই একটি কল্যাণের দ্বার, সৎকর্মের পন্থা ও পাপ মোচনের উপায়। এস্তেগফার নবী-রাসুলদের অনুসৃত আদর্শ।
মানবজাতির আদি মা-বাবা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সূরা আরাফ : ২৩)। ইবরাহিম (আ.) সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার মা-বাবাকে এবং মোমিনদের ক্ষমা করো।’ (সূরা ইবরাহিম : ৪১)। নবী করিম (সা.) কে নির্দেশ করে আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখ, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই, ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ও মোমিন নর-নারীদের ত্রুটির জন্য।’ (সূরা মুহাম্মাদ : ১৯)।
আমাদের নবী (সা.) অধিক পরিমাণে এস্তেগফার করতেন, যদিও আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সবকিছু ক্ষমা করে দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর আগে বেশি বেশি বলতেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ (বোখারি ও মুসলিম)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলের চেয়ে বেশি আর কাউকে আমি ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি’ বলতে দেখিনি। (নাসাঈ)। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের সালামের পর তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহা’ বলতেন। (মুসলিম)।
এস্তেগফার করা মোমিন ও খোদাভীরু লোকদের নিয়মিত স্বভাব, অভ্যাস ও আমল। আল্লাহ বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা করো, আমাদের মন্দ কার্যগুলো দূরীভূত করো এবং আমাদের সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিও।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯৩)। তিনি আরও বলেন, ‘এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে অথবা নিজেদের ওপর অন্যায় করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৩৫)।
নির্দিষ্ট গোনাহের জন্য বান্দা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো বান্দা গোনাহ করে বলল, হে রব, আমি পাপ করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করো। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা জেনেছে, তার একজন রব আছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং পাকড়াও করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম।’ (বোখারি ও মুসলিম)। বান্দা সাধারণ অবস্থাতেও ক্ষমা চাইবে। আল্লাহ বলেন, ‘বল, হে রব, আমাকে ক্ষমা করো ও দয়া করো, তুমি তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সূরা মোমিনুন : ১১৮)। বান্দা জানা-অজানা সব পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) দোয়ায় বলতেন, ‘হে আল্লাহ আমার ছোট-বড়, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, গোপনে-প্রকাশ্যে, শুরুতে ও শেষে কৃত সব গোনাহ ক্ষমা করে দাও।’ (মুসলিম)। বান্দা তওবা ও এস্তেগফারের সমন্বয় করে দোয়া করবে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘হে লোকেরা, তোমরা তোমাদের রবের কাছে তওবা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি ও ক্ষমা চাই।’ (নাসাঈ)।
প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া মানুষের খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে পাপাচার ও দুষ্কৃতিতে সয়লাব হয়ে যাওয়া বর্তমান সময়টাতে। যেন আল্লাহ স্বীয় কৃপায় জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর তার অবস্থা সংশোধন করে দেন। এস্তেগফার প্রভূত কল্যাণের দ্বার। তা যাবতীয় অনিষ্ট ও শাস্তি লোপকারী। মুসলিম উম্মাহর জন্য সবসময় এস্তেগফার খুবই জরুরি। যাতে আল্লাহ উম্মতের ওপর আপতিত শাস্তি তুলে নেন ও আগত শাস্তি প্রতিহত করেন। শয়তান যাকে বিভ্রান্ত করেছে, যে কল্যাণ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং দোয়ার উপকারিতা ও বরকত যার জানা নেই শুধু সেই এস্তেগফার থেকে দূরে থাকে।
কোরআন ও সুন্নাহ এস্তেগফারের ফজিলত বর্ণনায় ভরপুর। আল্লাহ বলেন, ‘কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ না, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার?’ (সূরা নামল : ৪৬)। এস্তেগফারের ফলে জাতি রহমত লাভ করে। আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচে। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ এমন নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।’ (সূরা আনফাল : ৩৩)। আবু মুসা (রা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে দুইটি নিরাপত্তা ছিল। নবী, তিনি তো চলে গেছেন। তবে কেয়ামত পর্যন্ত বাকি থাকবে এস্তেগফার।’ 
আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ হাদিসে কুদসিতে বলেন, ‘হে আমার বান্দা, তোমরা দিনে-রাতে ভুল করে থাক আর আমি সব পাপ ক্ষমা করি। তাই তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করব।’ (মুসলিম)। তাই তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবার দিকে ধাবিত হও। তবেই আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ দেখতে পাবে। পাপ মোচন হবে। মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যদি তোমরা গোনাহ না করো তবে আল্লাহ তোমাদের বাদ দিয়ে এমন এক জাতি সৃষ্টি করবেন, যারা গোনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, তিনি তাদের ক্ষমা করবেন।’ (মুসলিম)। কারণ তিনি যে দয়ার আধার। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে মন্দ কাজ করে অথবা নিজের ওপর অন্যায় করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও দয়ালু হিসেবে পাবে।’ (সূরা নিসা : ১১০)।

৩ রজব ১৪৩৮ হিজরি মসজিদে নববির জুমার খুতবার সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর করেছেন 
মাহমুদুল হাসান জুনাইদ


প্রাণীর প্রতি নবীজির মমতা
‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া :
বিস্তারিত
স্রষ্টাকে খুঁজি সাগরের বিশালতায়
বিশাল জলরাশির উত্তাল তরঙ্গমালায় প্রবাহিত সমুদ্র আল্লাহর এক অপূর্ব সৃষ্টি।
বিস্তারিত
দুধপানের উপকারিতা
দুধের পুষ্টিগুণ বিচারে এটি মহান আল্লাহ তায়ালার বড় একটি নেয়ামত।
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ ২২ মার্চ
বাংলাদেশের আকাশে সোমবার রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার থেকে
বিস্তারিত
পবিত্র শবে মেরাজ কবে, জানা
১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ নির্ধারণ এবং রজব
বিস্তারিত
মাতৃভাষার নেয়ামত ছড়িয়ে পড়ুক
ভাষা আল্লাহ তায়ালার বিরাট একটি দান। ভাষার রয়েছে প্রচ- শক্তি;
বিস্তারিত