ফুলপরী ও কাজল

একদিন কাজলের মনে হলো সে যেন আজ বেশি ঘুমুচ্ছে। তার মনে পড়ে গেল ফুলপরীর কথা। সে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখল বাইরে ফর্সা হয়ে যাচ্ছে। কাজল বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল, আজ ফুলপরী এলো না কেন? এভাবে নানা প্রশ্ন জাগছিল তার মনে। ধীরে ধীরে সকাল হয়ে গেল। বাড়ির সবাই ঘুম থেকে ওঠে গেল। কাজল ঘর থেকে বের হয়ে দেখল ফুল গাছটির গোড়া কে যেন কেটে দিয়ে গেছে
কাজলদের গ্রামের নাম ডুমুরিয়া। তাদের গ্রামটাও অন্যান্য গ্রামের মতো সবুজ-শ্যামল, কাঁচা-পাকা ফসলে ভরা মাঠ। তার বাবা কৃষি কাজ করেন আর মা ঘরের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। কাজলের বয়স এখন ৫ বছর হতে চলল, সে এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি। বান্ধবীদের সঙ্গে পুতুলের সংসার গুছানো নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সন্ধ্যা হতেই মা তাকে ‘আদর্শলিপি’ বই হাতে দিয়ে পড়তে বসায়, সে তার স্বরে পড়তে থাকেÑ

‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’

কাজলের বাবা একদিন তার জন্য হাসনাহেনা ফুলের একটি চারা কিনে আনল, সে বাবাকে নিয়ে তাদের ঘরের বারন্দার পাশে চারাটি লাগিয়ে দিল। খেলার ফাঁকে ফাঁকে সে খোঁজ রাখে কেউ আবার গাছটিকে নষ্ট করে দিলে কিনা? সকাল-বিকাল গাছের গোড়ায় পানি দেয়। কাজলের সঙ্গে ফুলগাছটিও বড় হতে লাগল। শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে বারান্দার জায়গাও কিছুটা দখল করে নিল। মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গাছেরও পরিবর্তন হতে লাগল। কলিতে ভরে গেল গাছ। কাজল আনন্দিত হয়। তার সব বান্ধবীকে জানিয়ে দেয় তার গাছ কলিতে ভরে গেছে। তার আনন্দে সবাই আনন্দিত হয়। বাড়ির অন্য কারও গাছের প্রতি দৃষ্টি নেই। সে দৃষ্টি রাখে ফুল ফুটল কিনা? 
কিছুদিন পর এক রাতে কেন যেন শেষ রাতেই তার ঘুম ভেঙে গেল। মনে হলো কেউ যেন তাকে ইশারায় ডাকছে। ঘুম ঘুম চোখে সে দেখল তার ঘরের জানালার পাশে তার মতোই ফুটফুটে একটি সুন্দরী মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাত ইশারায় ডাকছে। সে অবাক হলো! কে এই মেয়ে! সে তো তাকে চেনে না। কাজল চুপিসারে ঘর থেকে বের হলো। বের হয়েই যেন অবাক হলোÑ কে এই মেয়ে? তার দুইটি প্রজাপতির মতো ডানাও দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ মেয়েটি হেসে উঠল, কি কাজল কেমন আছো? দেখেছ তোমার গাছে ফুল ফুটেছে। কাজলের সবকিছুই কেন যেন ওলটপালট মনে হলো। চারদিকে ফুলের ঘ্রাণে ম-ম করছেÑ এতক্ষণ সে বুঝতেই পারেনি। কাজল জিজ্ঞেস করল, তুমি কে? মেয়েটি বলল, আমি ফুলপরী, তোমার গাছের ফুলের ঘ্রাণে আমি ছুটে এসেছি। তুমি তো আমাকে চিনবে না। 
কাজল জিজ্ঞেস করল, তুমি কি সত্যি সত্যি ফুলপরী? 
হ্যাঁ, সত্যি সত্যি আমি ফুলপরী। এসো কাজল আজ থেকে তুমি আমার বান্ধবী, আমি প্রতিদিন এ সময় তোমার কাছে আসব, নাচব, গাইব, আনন্দ করব। কাজল বলল, আচ্ছা। ফুলপরী আবার বলল, কাজল তুমি কিন্তু আমার কথা তোমার মা-বাবাকে বলবে না, তবে কিন্তু আমি আর আসব না। কাজল বলল, আচ্ছা বলব না। আজ এ পর্যন্ত বলেই ফুলপরী অদৃশ্যে হয়ে গেল। 
চারপাশে হাসনাহেনার ঘ্রাণে ম-ম করছে। কাজলের মন আনন্দে ভরে গেল; কিন্তু কাজল মাঝে মাঝেই চিন্তা করছে সত্যিই কি তার কাছে ফুলপরী এসেছিল? নাকি সে স্বপ্ন দেখেছে। এভাবে হাসি আনন্দে দিন কেটে গেল। 
আজও শেষ রাতে কাজল ঘুম থেকে উঠে গেল। সত্যি সত্যি দেখতে পেল তাদের জানালার পাশে গতকালের ওই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে, কাজল চুপি চুপি ঘর থেকে বের হয়ে এলো। ফুলপরী জিজ্ঞেস করল, কেমন আছো কাজল? সে বলল, ভালো। ফুলপরী বলল, এসো আমরা গাছের নিচে নৃত্য করি। এসো বলে কাজলও এগিয়ে এলো। কাজল কখনও এগুলো কারও কাছে বলত না। এভাবে কেটে যেতে লাগল অনেক দিন।
একদিন কাজলের মনে হলো সে যেন আজ বেশি ঘুমুচ্ছে। তার মনে পড়ে গেল ফুলপরীর কথা। সে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখল বাইরে ফর্সা হয়ে যাচ্ছে। কাজল বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগল, আজ ফুলপরী এলো না কেন? এভাবে নানা প্রশ্ন জাগছিল তার মনে। ধীরে ধীরে সকাল হয়ে গেল। বাড়ির সবাই ঘুম থেকে ওঠে গেল। কাজল ঘর থেকে বের হয়ে দেখল ফুল গাছটির গোড়া কে যেন কেটে দিয়ে গেছে। তার মন ব্যথায় ভরে উঠল। সে জোরে জোরে ডাকতে লাগল, আম্মু আম্মু আমার গাছটি কে যেন কেটি ফেলেছে! সে কাঁদতে থাকলে সবাই তাকে সান্ত¡না দিল এ বলে যে, আরেকটি গাছ এনে দেবে; কিন্তু কাজল কেন যে কেঁদেই চলেছে কেউ বুঝতে পারল না।


রাজিন ফিরে এলো
রাজিনের মাথাটা ঘুরে এলো। তার পুরো শরীর থরথর করে কেঁপে
বিস্তারিত
বোনের পাশে ভাই
বোনের পাশে ভাই থাকলে আর কি থাকে ভয়... দুজন মিলে ভয়কে
বিস্তারিত
শীত তোর বাড়ি কই
শীত তোর বাড়ি কই সঙ্গী তোর কে? অগ্রহায়ণের হাওয়া পেয়ে
বিস্তারিত
সাতটি রঙে আঁকা
বাংলাদেশের মানুষ রে ভাই বাংলাতে মোর বাস এ দেশেতে সুখে
বিস্তারিত
ভর দুপুরে
ঘাসফড়িংরা ভরদুপরে তিড়িংবিড়িং ওড়ে ডালিম গাছের ডগার ওপর ডিগবাজিতে ঘোরে। ঝিঙে
বিস্তারিত
শুদ্ধ বলি শুদ্ধ লিখি
শুদ্ধ বলি শুদ্ধ লিখি শুদ্ধ হলো শিষ্টাচার শুদ্ধ জানা শুদ্ধ
বিস্তারিত