বেড়েই চলেছে বিসিএস পরীক্ষার আবেদনকারীর সংখ্যা

এক বছরের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় পিএসসি

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা দেশের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরীক্ষা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েই চলছে এ পরীক্ষার আবেদন সংখ্যা। ক্রমেই বিসিএসে আগ্রহ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের। অন্যদিকে প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষা।
২০০৮ সালে ২৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ১৬৪ জন। বর্তমানে ৩৪, ৩৫, ৩৬ এবং ৩৭তম বিসিএসে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখে। ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে আবেদনের সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৫, ৩৫তমতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭, ৩৬তমতে ২ লাখ ১১ হাজার ৯১২ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ৩৭তম বিবিএসের বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে আবেদনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন নীতিমালা এবং নতুন নতুন পে-স্কেল আসার কারণে আবেদনকারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করায় ক্রমেই বিসিএসে আগ্রহ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের।
প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাÑ তিন ধাপের এ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের বাছাই করে থাকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। তিন ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে পিএসসি। পরে মন্ত্রণালয় থেকে চাকরিতে যোগদানের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চাকরিতে যোগদানের গেজেট, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ পর্যন্ত লাখো তরুণ-তরুণীর মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। ৩৪তম বিসিএসের এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লেগেছে তিন বছর চার মাস আর ৩৪তম বিসিএসের দুই বছর ৬ মাস। তবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে পিএসসি। পিএসসি বলছে, আগামীতে তাদের লক্ষ্য থাকবে ১২ মাসের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করা। এজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
গেল ৮ এপ্রিল পিএসসির ৪৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পিএসসির কার্যালয়ের এক সেমিনারে ‘বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিকট প্রজাতন্ত্রের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএসসির সদস্য ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার খান। তার এই প্রবন্ধ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
ওই প্রবন্ধ ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন আদেশ (রাষ্ট্রপতির ৩৪নং আদেশ) জারির মাধ্যমে কর্মকমিশন গঠন করা হয়। তবে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭৭ সালে ‘The Bangladesh Public Service Commission Ordinance, 1977’ এর মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় কমিশনকে একীভূত করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকমিশন সংবিধনের ৮৮, ১৩৭-১৪১ ও ১৪৭ অনুচ্ছেদ এবং অর্ডিন্যান্স দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব যা সংবিধানের ১৪১ (১)-এর ক অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদিগকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনা।’
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (বিপিএসসি) যে পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করে থাকে তার মধ্যে রয়েছে ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা, নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা, ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা ও সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা। ক্রমেই ক্যাডার সার্ভিসের প্রতি প্রার্থীদের আসার আগ্রটা বাড়ছে। সেজন্য বেড়েই চলছে আবেদনকারীর সংখ্যা। ২৮তম বিসিএসের তুলনায় ৩৭তম বিসিএসসে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় শতভাগ। আগে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় শতকরা ২০ জন উত্তীর্ণ হতো, বর্তমানে এটা এত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে, যেখানে সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি কৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গেল ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ২০.৮৭ শতাংশ, ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ৮.৩৫ শতাংক, ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ৬.৫৪ এবং সর্বশেষ ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে কৃতকার্য হয়েছেন মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ প্রার্থী। লিখিত পরীক্ষায় আগে ১০ শতাংশ কৃতকার্য হলেও এখন তা আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে। এখন তা ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সর্বশেষ ৩৫তম লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে ২.৪৯ শতাংশ। সম্প্রতি যেখানে আড়াই লাখ প্রার্থী আবেদন করছে, সেখান থেকে মাত্র ১ শতাংশ প্রার্থী বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে। এটা চমৎকার প্রতিফলন যে, মেধার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস উপযুক্ত দক্ষ, একনিষ্ঠ প্রাীর্থীদের বাছাই করছে।
অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার খানের প্রবন্ধ থেকে পাওয়া যায়, ‘পিএসসি ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্যাডারে নিয়োগ হয়েছিল মোট ১২ হাজার ৭৯৩ জন। তবে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণে, অর্থাৎ ২৬ হাজার ১৯৫ জনে। ঠিক একইভাবে নন-ক্যাডেরে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নিয়োগ হয়েছিল ৩ হাজার ৮৩৪ জন এবং ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে চারগুণে, অর্থাৎ ১৬ হাজার ৬২৭ জনে। গত ১৫ বছরে প্রায় ৪০ হাজার ক্যাডার নিয়োগ হয়েছে এবং ২০ হাজার নন-ক্যাডার নিয়োগ হয়েছে। সার্বিক কর্মকা- বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিপুল সংখ্যাক ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের অবদান অপরিসীম। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বৈশ্বিক মন্দার মাঝেও দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬-এর ওপরে। ২০১৬ সালে ছিল ৭.০৫। গেল ১০ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে সাতগুণ আর মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিনগুণ।’
তবে পিএসসির আগামীর চ্যালেঞ্জ হবে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজন দেশপ্রেমিক ও দক্ষ সিভিল সার্ভিস অফিসার। আর প্রজাতন্ত্রের প্র্যাতাশা, বিদ্যমান কোটা পর্যালোচনা, যৌক্তিকরণ ও মেধা কোটা বৃদ্ধি (জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, ২০১২), স্বল্পতম সময়ে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার নিয়োগ, লিখিত পরীক্ষার খাতাগুলোর দ্বিতীয় মূল্যায়ন, নন-ক্যাডার তালিকা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়োগ, নতুন ক্যাডার সৃজন এবং বিদ্যমান ক্যাডারগুলোর পদোন্নতির সোপান প্রস্তুতকরণ।
বিদ্যমান কোটা পর্যালোচনা : বর্তমানে বিসিএসে ৫৫ শতাংশ প্রাধিকার কোটা এবং ৪৫ শতাংশ মেধা কোটায় নিয়োগ হয়। প্রাধিকার কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৫ শতাংশ। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রাধিকার কোটা প্রয়োগ করা হয়। ৩৫তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটা শিথিল করা হয়েছে। এরই ফলে ৬৭ শতাংশ মেধায় নিয়োগ হয়েছে। এটাকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছে। এটি ছিল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের পক্ষে নেয়া সম্ভব।
স্বল্পতম সময়ে ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার নিয়োগ : স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পিএসসি ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার নিয়োগে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। ‘বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিকট প্রজাতন্ত্রের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, ২৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করতে সময় লাগে ২৮ মাস আর ২৯তম বিসিএসের ২৫ মাস। তবে সর্বশেষ ৩৫তম বিসিএসসের সময় লাগে ১৮ মাস। তবে আগামীতে লক্ষ্যে থাকবে ১২ মাসের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করা। এজন্য পিএসসি বিভিন্ন পদক্ষেপ এরই মধ্যে গ্রহণ করেছে।
নতুন ক্যাডার সৃজন : বর্তমানে বিসিএসে মোট ২৭টি ক্যাডার রয়েছে। আমরা মনে করি, এখানে নতুন ক্যাডার সৃজন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ এবং ২০১৪ বাস্তবায়নে ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি অন্যতম মাইলফলক। তাই আমরা মনে করি, তথ্যপ্রযুক্তি ক্যাডার সৃজন এখন সময়ের দাবি।


খবরটি পঠিত হয়েছে ৭৯০০ বার

যারা স্বপ্ন বোনে সুতোয়
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস অনেক পুরনো। ১৯২১ সালে যার শুরু
বিস্তারিত
ইরানের ‘৩৫তম ফজর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম
বৃত্তির অংশ হিসেবে তিনি বিমান ভাড়াসহ ইরানে থাকা-খাওয়া ও অভ্যন্তরীণ
বিস্তারিত
বিশ্বের কয়েকটি জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন
বিশ্বের জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করার ইচ্ছা সবারই থাকে। কিন্তু অর্থনৈতিক
বিস্তারিত
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বর্ষবরণ
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল
বিস্তারিত
ডাক্তার হতে চাইলে আগে জানতে
বড় হয়ে ডাক্তার হব! বিজ্ঞান শাখার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের আজন্ম ইচ্ছা
বিস্তারিত
সফলতা পেতে যা কিছু করবেন
মানুষ চেষ্টা করলেই সফল হতে পারে। এর জন্য শূন্য থেকেই
বিস্তারিত