গণবিশ্ববিদ্যালয়

‘আমি ভালো আছি, যদি তোরা ভালো থাকিসÑ নইলে নয়’

এই তো সেদিনের কথা, ১৮ নভেম্বর ২০১৩। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক গ-ি পেরিয়ে চোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে সেদিন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ক্লাস করেছিলাম। নতুন পরিবেশ, আবহাওয়া, নতুন শিক্ষা জীবনÑ সব মিলিয়ে এ যেন এক নতুন জগৎ ছিল আমার জন্য। তবে এসব কিছুর মাঝেও আমাদের ভেতর যে নতুন এক সম্পর্কের খুঁটি স্থাপন হয়েছিল, তার নাম বন্ধুত্ব। বাপ্পি, খান, শামীম, ঊষা, আলিনুর, আল-আমিন, সাদ্দামসহ সবার সঙ্গে খুব সহজেই একটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলাম। একটু একটু করে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ভালো থাকা বা মন্দÑ সবই যেন ভাগাভাগি করতে শুরু করলাম আমরা। তারপর গল্প, আড্ডা, গান কিংবা খুনসুটি সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিল সময়গুলো; কিন্তু দেখতে দেখতে কখন যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ মুহূর্তে পা দিয়েছি, তা বুঝতে পারিনি কখনও। ঠিক এভাবেই মনের কথাগুলো বলছিল অন্তর।
সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ষষ্ঠ ব্যচের শিক্ষার্থী তারা সবাই। সবার আনমনের কারণ, আজ ক্যাম্পাস জীবনের শেষ ক্লাসের মধ্য দিয়ে আমাদের সমাপ্তি ঘটবে। তাদের ৪ বছরের শিক্ষা জীবনের ইতিতে বাঁধা পড়বে ক্যাম্পাস জীবন। আর এর জন্যই উৎসবের দিন সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। যদিও শেষ ক্লাসের পর একসময় শিক্ষা সমাপনী উৎসবে মেতে উঠেছিলাম আমরা সবাই। এরপর আনুষ্ঠানিকতার প্রথম পর্বে রেজিস্ট্রার মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ বিভাগের সব শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতিতে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৪১৮নং রুমে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় আমাদের শিক্ষা সমাপনী উৎসব। দ্বিতীয় অংশে নাচ, গান দিয়ে শুরু হলেও এর সামাপ্তি ঘটে চোখের জলে। মার্কারে সবাই সবার টি-শার্টে লিখে দেন মনের কথা, ভালোবাসার কথা, আর এতে বাদ পড়েননি শিক্ষকরাও। আবিরের রঙে রাঙানো মুখগুলো অশ্রুতে ভেসে যায় একে অপরকে জড়িয়ে কান্নার মাধ্যমে। এ সময় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন তাদের মনের কথা, জানান তাদের অনুভূতি।  
‘আমাদের শেষ ক্লাসটা কেন যেন একটা ঘোরের ভেতর দিয়েই ওইদিন শেষ হয়েছিল। স্যারের কথা, উপদেশÑ সবই বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু কী যেন এক অদ্ভুত কারণে সেদিন আমি কিছুই বলতে পারছিলাম না। শুধু তাকিয়ে ছিলাম স্যারের দিকে। অনুভব করছিলাম বুকের ভেতরটা কেন যেন ধুকধুুক করছে।’ এভাবেই অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন মামুন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কানিজ ফাতেমা জানান, ‘হয়তো তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে ভার্চুয়াল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবার সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে; কিন্তু একসঙ্গে সেই আড্ডা, সেই গান, একটু দুষ্টুমি কিংবা অতি সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা আর হয়তো হবে না। সবাইকে খুব মিস করব।’
আবেগাপ্লুত বিদায়ী শিক্ষার্থী সোহেল অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৫ জুন ২০১৫, হয়তো সেদিনই ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন। দিনভর রিমঝিম বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আন্তঃসেমিস্টার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে সেদিন লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলাম আমরা। আজও সেদিনটি খুব মিস করি। খুব ভালো হতো যদি দিনটি আমরা ফিরে পেতাম। 
ফিরোজ কবির তার আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটান এইভাবেÑ ‘বুক ভরা স্বপ্ন আর চোখজড়ানো আলোর উদ্দীপনা নিয়ে আমরা গণবিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু করেছিলাম। আজ তার শেষ প্রান্তে এসে আমরা তিলে তিলে টের পাচ্ছি বন্ধু হিসেবে সবাই পরস্পরের প্রতি কতটা আন্তরিক ছিলাম; কতটা গভীর ছিল আমাদের ভালোবাসা। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলেও অটুট থাকবে আমাদের বন্ধুত্ব।’ তবে এ বিদায় চিরস্থায়ী নয়, কেননা ক্যাম্পাসের সঙ্গে ভালোবাসার যে সম্পর্ক, তা কখনও অস্বীকার করার নয়। শিক্ষাজীবন শেষে কর্মব্যস্ত বাস্তবতায় প্রবেশ করলেও ৪ বছরের বন্ধুত্ব; প্রিয় ক্যাম্পাস; প্রিয় মুখগুলো অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভালোবাসার গল্পে সারা জীবনের সাথী হয়ে থাকবে। ক্যাম্পাস জীবনের পরও বন্ধুত্ব হয়; কিন্তু সহপাঠীদের সঙ্গে এ বন্ধুত্বের আবেদনটা চিরকালই একটু অন্যরকম রয়ে যায় মনের মাঝে। তবে আমি ভালো আছি, যদি তোরা ভালো থাকিসÑ নইলে নয়।
সিহাব শাহীন
 


খবরটি পঠিত হয়েছে ৪৪৪০ বার

পেশা যখন ফটোগ্রাফি
ছবি তোলা কি আপনার শখ? একে শুধু শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ
বিস্তারিত
ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
শিক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে বিশ্বে এক নম্বর র‌্যাংকিংয়ে রয়েছে ফিনল্যান্ড।
বিস্তারিত
সাংবাদিক ও গণযোগাযোগ কর্মী হতে
আধুনিক জীবনে ইলেকট্রনিক কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার অনুপস্থিতি আর কল্পনাও করা
বিস্তারিত
সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্সের পাশাপাশি অনার্স করার সুযোগ
বিস্তারিত
কানাডায় উচ্চশিক্ষা এবং কিছু প্রয়োজনীয়
কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কাজ
বিস্তারিত
সোনালি ভবিষ্যৎ গড়তে বিএসডিআই
তথ্যপ্রযুক্তির জোয়ারে আজ সব বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্মুক্ত। আর সেই শিক্ষাকেই
বিস্তারিত