লাইলাতুল কদরের ফজিলত

লাইলাতুল কদর বা শবেকদর উম্মতে মুহাম্মাদির এক শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আল্লাহর প্রেমে সিক্ত হওয়া, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ রয়েছে এ রাতে। উম্মতে মুহাম্মাদির শ্রেষ্ঠত্বের এক অন্যতম নিদর্শন এ রাত। এ রাতের ফজিলত আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করেছেন স্পষ্টভাবে, নাজিল করেছেন স্বতন্ত্র একটি সূরাও। নির্জনে, নীরবে একাগ্রচিত্তে এ রাতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিল করা সম্ভব। তবে সাধারণ জনগণকে আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদানার্থে মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে সব রাতে না পারলেও কোনো এক রাতে সম্মিলিতভাবে ইবাদত-বন্দেগি করায় কোনো দোষ নেই, বরং উত্তম। নিম্নে পাঠক সমীপে এ রাতের ফজিলত ও আমল নিয়ে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো।
 
লাইলাতুল কদরের ফজিলত
কোরআন অবতীর্ণের রাত : মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা কদরের ১ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন, ‘আমি একে (কোরআন) শবেকদরে অবতীর্ণ করেছি।’ 
এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী : আল্লাহ তায়ালা সুরা কদরের ৩ নম্বর আয়াতে এরশাদ করেন, ‘শবেকদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ ইমাম তাবারি (রহ.) তার তাফসিরে তাবারিতে উল্লেখ করেন, ‘লাইলাতুল কদরের আমল হাজার মাসের আমলের চেয়েও উত্তম, যার মধ্যে অন্য কোনো কদরের রাত নেই।’ (তাফসিরে তাবারি)। আর এ বক্তব্যকে ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) তার তাফসির গ্রন্থে সত্যায়ন করেছেন। 
বরকতময় রজনী : সূরা দুখানের ৩ নম্বর আয়াতে এরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয় আমি এটা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি একটি বরকতময় রাতে।’ আর এ রাত হলো শবেকদর। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘ফেরেশতারা এ রাতে রহমত, বরকত ও প্রশান্তি নিয়ে অবতরণ করেন।’ আবার কারও কারও মতে, ‘আল্লাহ তায়ালা এ বছর যেসব বিষয় নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন, ফেরেশতারা তা নিয়ে অবতরণ করেন।’
গোনাহ মাফ : রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে (রাত্রি জাগরণ করবে), তার পেছনের সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (বোখারি : ১৮০২)। 
সব কুমন্ত্রণা থেকে মুক্ত : বরকতময় এ রজনীটি মহান রাব্বুল ইজ্জত সব কুমন্ত্রণা, শয়তানি ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত রেখেছেন, অকেজো রেখেছেন শয়তানের সব কাজকে। হজরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) বলেন, ‘শয়তান এ রাতে কাউকে ক্ষতি বা রুগ্ণ করতে পারে না, অথবা কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে না এবং কোনো জাদুকর তার জাদু কার্যকর করতে পারে না।’ 

কোন তারিখে শবেকদর
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে : রমজান মাসের কোন তারিখে শবে কদর এ ব্যাপারে পবিত্র হাদিস ও তাফসির গ্রন্থগুলোতে একাধিক মত পাওয়া যায়। নিম্নে এ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলোÑ
হজরত উবাদাতা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, লাইলাতুল কদর হচ্ছে (রমজানের) শেষ দশকে। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় এ রাতে জাগরণ করবে আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বাপর গোনাহ ক্ষমা করবেন। আর সে রাত্রিটি বেজোড় রাত্রিতে ২৯, ২৭, ২৫, ২৩ অথবা ২১ তারিখে।’ (ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরে ইবনে কাসির, দারুল হাদিস, কায়রো, খ- : অষ্টম)। 
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবেকদর অনুসন্ধান করো।’ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হলো। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গেছি। অতএব, তোমরা তা রমজানের শেষ দশকে অনুসন্ধান করো।’ (মুসলিম, হাদিস নং-২৮২৫)। কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, দুই ব্যক্তির বিবাদের কারণে রাসুল (সা.) ভুলে গেছেন।
২৭ তারিখে শবেকদর : ইমাম মুসলিম (রহ.) তার মুসলিম শরিফে উল্লেখ করেন, ‘হজরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই এটা (শবেকদর) রমজানের ২৭ তারিখ।’ (ইমাম মুসলিম (রহ.), মুসলিম, হাদিস নং-২৮৩৪, ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরে ইবনে কাসির, দারুল হাদিস, কায়রো, খ- : অষ্টম)।
‘হজরত মুয়াবিয়া, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এছাড়া আরও অনেক সাহাবি রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই এটা (শবেকদর) হচ্ছে (রমজানের) ২৭ তারিখে। আর এটা একদল সালফে-সালেহিন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)ও বর্ণনা করেছেন।’ (ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরে ইবনে কাসির, দারুল হাদিস, কায়রো, খ- : অষ্টম, সূরা কদরের তাফসির অংশ)।
‘ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি উমর (রা.) কে বললাম, আমি জানি বা ধারণা করি লাইলাতুল কদর কোনটি? উমর (রা.) বললেন, সেটি কোন রাত? ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, সেটি (রমজানের) শেষ দশকের সপ্তম রাত।’ (ইমাম ইবনে কাসির, তাফসিরে ইবনে কাসির, দারুল হাদিস, কায়রো, খ- : অষ্টম, সূরা কদরের তাফসির অংশ)।

সমাধানমূলক বক্তব্য
উপরোক্ত বর্ণনা থেকে এ কথা স্পষ্ট হয় যে, রমজানের শেষ বেজোড় রাতের যে কোনো এক রাতে শবেকদর। আমাদের দেশে মসজিদগুলোতে সাধারণত মানুষকে আমলের প্রতি উৎসাহ দেয়ার উদ্দেশ্যে শবেকদরের ফজিলত বর্ণনা করার মানসে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ তারিখে যে শবেকদর পালন করা হয় তাও হাদিস, সালফে-সালেহিন ও মুজতাহিদ ইমামদের বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত। সুতারং একে অসার, ভিত্তিহীন বলার সুযোগ নেই। মূলত জ্ঞানে অপরিপক্ব ব্যক্তিরাই এমন মন্তব্য করে থাকে। তবে শবেকদরকে শুধু এক রাতেই নির্দিষ্ট করা ঠিক নয়। বরং, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোকে শবেকদর মনে করেই ইবাদত-বন্দেগি করা উচিত। সম্ভব হলে শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতেকাফ করে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে চেষ্টা করা। 

লেখক : প্রভাষক, দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা, ঢাকা। 


আলেপ্পোর শিশুরা হত্যা ও নিধনযজ্ঞের শিকার
সিরিয়ায় বেঁচে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করুন! এ স্বাধীন বিশ্ব কখন
বিস্তারিত
রোহিঙ্গা শিশুদের বিপর্যস্ত জীবন
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার
বিস্তারিত
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের টুকরো স্বস্তি ‘সৌরবিদ্যুৎ’
বাংলাদেশে নতুন করে আসা প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর জন্য
বিস্তারিত
সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী
সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। শত্রু-মিত্র,
বিস্তারিত
আসুন শিশুদের ভালোবাসি
আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। এ শিশু একদিন হবে জাতির কর্ণধার।
বিস্তারিত