চিন্তা হোক জাগ্রত ও সুবিস্তৃত

আঙুলের ছাপ রাখলে ভবিষ্যতে মানুষকে চিহ্নিত করা
যায়Ñ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম বর্ণিত হয়েছে কোরআন করিমে। আর ঐশী গ্রন্থ কোরআন ইসলামী চেতনার প্রথম পাঠ। ইসলামী স্কলারদের প্রধান পাঠ্য কিতাব। কিন্তু ফিংগারের উদ্ভাবনটা কোনো মুসলমান বা ইসলামী চিন্তকরা করতে পারেননি

মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা কিয়ামার চতুর্থ ও পঞ্চম নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেনÑ ‘পরন্তু আমি তার অঙ্গুলিগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম। বরং মানুষ তার ভবিষ্যৎ জীবনেও ধৃষ্টতা করতে চায়।’ মানুষের হাতের ছাপ রাখলে পরবর্তীতে তাদের চিহ্নিত করা যায় বলে আল্লাহ উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে ঘোষণা করেছেন। বিগত ৩০-৪০ বছর থেকে ফিংগারের আবিষ্কার ও তার ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি সিম রেজিস্ট্রেশনের তোড়জোড় আয়োজনে ফিংগারের ব্যাপকতা প্রকাশ পায়। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে সিম রেজিস্ট্রেশনে ফিংগারের ছাপ আবশ্যক করা হয়েছে। আঙুলের ছাপে মানুষ বা অপরাধী চিহ্নিত করার অভিনব উদ্ভাবনে সূরা কিয়ামার আয়াত আমাকে ভাবনার ঘোরে আবদ্ধ করেছে। আমি চিন্তা করে মুগ্ধ হই কোরআনের বিস্ময় দেখে। 
আঙুলের ছাপ রাখলে ভবিষ্যতে মানুষকে চিহ্নিত করা যায়Ñ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম বর্ণিত হয়েছে কোরআন করিমে। আর ঐশী গ্রন্থ কোরআন ইসলামী চেতনার প্রথম পাঠ। ইসলামী স্কলারদের প্রধান পাঠ্য কিতাব। কিন্তু ফিংগারের উদ্ভাবনটা কোনো মুসলমান বা ইসলামী চিন্তকরা করতে পারেননি। এছাড়া এমন দেদার বিষয় আছে, যেগুলোর পাঠ সর্বপ্রথম কোরআন দিয়েছে; কিন্তু সেগুলো আবিষ্কার ও পৃথিবীর আলো-বাতাসে মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে ভিন্ন জাতি। অমুসলিম বৈজ্ঞানিক। এখানে আমাদের ব্যর্থতার সীমানা পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাল ছুঁয়েছে হয়তো। আজ আমাদের চিন্তাভাবনার পরিধি আঁতুড়ঘরে তালাবদ্ধ। চার দেয়ালের ভেতর ইট-পাথরে বাকরুদ্ধ। আমাদের আঁতুড়ঘর, চার দেয়াল ছেড়ে বেরিয়ে এসে জগতের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে চষে বেড়ানো দরকার। আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা আবশ্যক। পূর্ববর্তী মনীষীদের পথে হেঁটে হেঁটে বহুদূর যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নেয়া একান্তু জরুরি।  জগতের প্রতিটি সৃষ্টির প্রতিপালক মহান আল্লাহ। এ পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র, চাঁদ-সূর্য সবই তাঁর সৃষ্টি। আজকের উদ্ভাবন, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বেবাক তার কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। সময়ের প্রয়োজনে জীবনের বাস্তবতায় মানুষ প্রতিনিয়ত নানা কিছু আবিষ্কার ও অনেক জিনিসের সম¥ুখীন হচ্ছে; মানুষের চাহিদানুপাতে তৈরি হচ্ছে বেবাক পদার্থ। এখন কথা হলো, খোদার জমিনে খোদার দেয়া ফর্মুলায় এগুলোর আবিষ্কারক কারা? আমাদের দ্ব্যার্থহীন কণ্ঠে স্বীকার করতে হবেÑ ভিন্ন কেউ। শত আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা আজ নিজেদের সংস্কৃত চর্চা থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ভুলেই গেছি। এসব যে আমাদের কাজ বা আমাদের করার দরকার, আমাদের চিন্তার ঘরে বোধহয় ভুলেও উদয় হয় না! অথচ আমাদের পূর্বসূরিরা কেমন ছিলেন, কী করতেন তারাÑ আমাদের ভাবা প্রয়োজন। 
চিন্তার পরিধিকে বিস্তৃত করে অন্তরকে এক পৃথিবী সমান করে যদি আমরা একটু পেছনে তাকাই, তাহলে আমাদের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠবে পুরো পৃথিবীর বিস্ময়, প্রিয় তাজমহল সমাধি। পৃথিবীর কেউ এমন কারুকার্যখচিত মহল তৈরি করতে পারেনি। আমাদের গর্ব ও গৌরবের ইতিহাস এ তাজমহলের উদ্যোক্তা একজন মুসলিম প্রকৌশলী। তিনি ছিলেন মাদরাসার ছাত্র; মাওলানা মামার। গত হওয়া একটা সময় পৃথিবী বিখ্যাত স্থাপত্য ও আবিষ্কার প্রায় সবই আলোর পথ দেখেছে মুসলমান মনীষীদের হাত ধরে। আজ আমরা আমাদের চেতনা ও গর্বের ইতিহাস ভুলে গিয়ে কোন পথে হাঁটছি? মাদরাসা-মসজিদ ছাড়া কর্মের জায়গা খুঁজে পাওয়া বা চেষ্টা করা আমাদের অভ্যাসের বিপরীত হয়ে গেছে। মাদরাসা শিক্ষা ছাড়া ভিন্ন শিক্ষা অর্জন করা হয়ে উঠেছে উপহাস ও ধ্বংসের মতো অভিশাপ দেওয়ার লক্ষণ। এসব ভুল চিন্তা ও মতাদর্শ থেকে ইসলামী চিন্তকদের বেরিয়ে আসা দরকার। 
আল্লাহ বলেন- ‘পড় তোমার প্রভুর নামে।’ (সূরা আলাক : ১)। ওই আয়াতে মহান প্রভু পড়ার কথা বলেছেন। শুধু যে আরবি কিতাব পড়তে হবে, অন্য শিক্ষা গ্রহণ করা যাবে নাÑ এটা বলেননি। এখানে সব বিদ্যাশিক্ষা গ্রহণ করার কথা বলেছেন। আর তথাকথিত কিছু ইসলামী চিন্তকরা ভিন্ন শিক্ষা অর্জন করাকে অভিশাপ ও ধ্বংসের লক্ষণ বলে আখ্যা দিচ্ছে। তাদের চিন্তার দৈন্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অপর্যাপ্ত জ্ঞান, নিচু মন-মানসিকতা বরং জাতি ধ্বংসের কারণ বলা যেতে পারে। তাদের এমন মতাদর্শ ও চিন্তার কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে এসে মাদরাসাছাত্রের কলেজ-ভার্সিটির পড়াকে সুন্দরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তাদের উত্তম গাইডলাইন দেয়া আবশ্যক। এতে যুগের ফায়দার পাশাপাশি জাতি ও রাষ্ট্রের এন্তার উপকার হবে। 


যার জন্য আখেরাতে ‘সর্বোচ্চ সম্মানিত
অবশ্যই কেয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এমন বহু মর্যাদা ও
বিস্তারিত
ওসমান বিন আফফান (রা.)
মহানবী (সা.) এর প্রিয় জামাতা জিন্নুরাইনখ্যাত ওসমান বিন আফফান (রা.)
বিস্তারিত
সহজতম আমল জিকির
মুসলিম মাত্রই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বহুমাত্রিক আমল-ইবাদত করে থাকে।
বিস্তারিত
কৃষি উন্নয়নে মুসলমানের অবদান
আধুনিক প্রযুক্তি যত মহাকাশে পৌঁছুক, শিল্পকারখানা যত উন্নত হোক, আবাসন
বিস্তারিত
আশা-আকাক্সক্ষার নীতিমালা
আল্লাহ এ মহাবিশ্বকে অধীন করে মানুষের সীমাহীন আশা-আকাক্সক্ষার ক্ষেত্র বানিয়েছেন।
বিস্তারিত
খুঁটিবিহীন আকাশ আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি
আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির মাঝে আকাশ একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। যার নেই
বিস্তারিত