মোনাফেক মানে দুইমুখো সাপ

মোনাফেকি অসৎ মানুষের নিকৃষ্টতম স্বভাব। এ স্বভাব মানবজীবনকে ধ্বংসে পতিত করে। এটি যার মধ্যে থাকবে, সে কুখ্যাত হয় মোনাফেক হিসেবে। মোনাফেক সব সময় দুই দিকে পা রেখে চলে। মোনাফেকের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পূর্ণ অমিল হয়। সে মানুষের উপকার করার মধ্যে হাজারও রহস্য রাখে। মোনাফেক মানুষের প্রকৃত বন্ধু নয়। সে বন্ধুর বিপদে সরে দাঁড়ায়। বন্ধুর সহযোগিতায় এগিয়ে আসে না। আবার মোনাফেক নিজেও বিপদের সময় কারও সাহায্য-সহযোগিতা পায় না। তখন সে তার মোনাফেকি-প্রতারণার পরিণাম হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারে। মোনাফেক সাময়িকভাবে সবার কাছে প্রিয় হলেও পরে সে মানুষের কাছে ঘৃণার পাত্র হয়। সে মানবসমাজে আজীবন কলঙ্কিত হয়ে বেঁচে থাকে। যেমনÑ ইসলামের ইতিহাসে একজন মোনাফেকের নাম ঘৃণাক্ষরে লেখা আছেÑ আবদুল্লাহ বিন উবাই।

মোনাফেকের স্বভাব চারটি
প্রত্যেক ব্যক্তি বা বস্তু চেনার মধ্যে স্বভাবগত কিছু আলামত রয়েছে, যা ভালো-মন্দ নির্ণয় করতে সহজ করে দেয়। একইভাবে মোনাফেক চেনার জন্যও কিছু আলামত রয়েছে। এ আলামতগুলো একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকবে, সে খাঁটি মোনাফেক এবং যার মধ্যে এর একটা থাকবে, তার মধ্যে মোনাফেকির একটি স্বভাব থাকবে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিহার করে। ১. যখন তার কাছে কিছু আমানত রাখা হয় তাতে সে খেয়ানত করে, ২. সে যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে, ৩. যখন ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে এবং ৪. যখন কারও সঙ্গে ঝগড়া করে, তখন সে অশ্লীল  কথা ব্যবহার করে।’ (বোখারি : ২৪৯৯, মুসলিম : ২১৯)। 

মোনাফেক বান ডাকা ছাগীর মতো
মোনাফেক সব সময় দুই নৌকায় পা রেখে কাজ করে। সে কখনও একপক্ষ হয়ে কাজ করে না। এমনকি এক মুখে দুই কথা বলে বেড়াই। তার কথায় সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ থাকে। সে নিজেকে উভয়পক্ষের কাছে খাঁটি বন্ধু হিসেবে প্রকাশ করার চেষ্টায় থাকে। মোনাফেক বান ডাকা ছাগীর মতো কখনও এ পালের দিকে দৌড়ায় আবার কখনও ওই পালের দিকে দৌড়ায়। এ হলো তার বহুরূপী গতিবিধি। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মোনাফেকের উদাহরণ হচ্ছে সেই বান ডাকা ছাগীর মতো, যে দুই ছাগপালের মধ্য থেকে একবার এ পালের দিকে দৌড়ায় আবার ওই পালের দিকে দৌড়ায়।’ (মুসলিম : ৭২২০)। 

মোনাফেক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভালো কথা বলে
নেতৃত্বস্থানীয় লোকদের মধ্যে মোনাফেকি স্বভাবের প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। তারা জনপ্রিয়তার জন্য জনগণের কল্যাণ ও মঙ্গলের কথা বললেও বাস্তব ক্ষেত্রে এর বিপরীত হয়। তারা জনগণের সেবার পরিবর্তে অত্যাচার চালায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের ওই সব মোনাফেকের কারণে শঙ্কিত, যারা জ্ঞান ও হেকমতের কথা বলবে। আর অপরদিকে জুলুম ও কঠোর ব্যবহার করবে।’ (মেশকাত : ৫১০৫)।

মোনাফেকরা ইবাদতে অলস হয়
মোনাফেক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য শুধু মানুষের সঙ্গে মোনাফেকি করে না, বরং আল্লাহর ইবাদতেও মোনাফেকি করে। তার ইবাদতে লৌকিকতা থাকে। সে মানুষের দৃষ্টিতে ভালো হওয়ার জন্য দিনের নামাজগুলোয় শরিক হয়। আর রাতের নামাজে অনুপস্থিত থাকে। কারণ দিনের নামাজগুলোয় একে অপরকে চিনতে পারে আর রাতের নামাজে চেনা অনেকটা অসম্ভব হয়। তাই মোনাফেক ফজর ও এশার নামাজকে বোঝা মনে করে এবং এ দুই নামাজে শরিক হওয়া থেকে বিরত থাকে। এ মর্মে রাসুলুুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মোনাফেকদের পক্ষে ফজর ও এশা অপেক্ষা কোনো কঠিন নামাজ নেই। যদি তারা জানত, ওই দুই নামাজে কী রয়েছে, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আদায়ের জন্য আসত।’ (বোখারি : ৬৬০)। আরও বলেন, ‘ওটা মোনাফেকের নামাজ, যে বসে সূর্যের অপেক্ষা করে, যে পর্যন্ত না সূর্য হলদে হয় এবং শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে আসে, তখন ওঠে চার ঠোকর মারে, এতে আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।’ (মুসলিম : ১৪৪৩)।


খবরটি পঠিত হয়েছে ৪৭৬০ বার

ভ- তাপস থেকে সাবধান
ভ- তাপস থেকে সাবধান মওলানা রুমির মসনবি শরিফ ড. মুহাম্মদ
বিস্তারিত
তকদিরে অবিশ্বাস কুফরি অনেকে মনে
অনুসারেই যখন সবকিছু ঘটবে, তখন কর্মের  কী প্রয়োজন? যে ব্যক্তি
বিস্তারিত
দরুদ পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করা উম্মতে
বিস্তারিত
ইহরাম
সুফি কোষ ইহরাম ইহরাম আরবি শব্দ; ইহরামের আভিধানিক অর্থ হলো,
বিস্তারিত
আকসার মুক্তির ফরিয়াদ
ফিলিস্তিন জবরদখলকারী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের নৃশংসতার আরেকটি উদাহরণ ছিল গত
বিস্তারিত
মুসলমানের জামাত আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব
মনুষ্য সমাজের জ্ঞানীমাত্রই একমত যে, একতাই কল্যাণ ও সঠিক পথ।
বিস্তারিত