সীতাকুণ্ডে ৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মধ্যম সোনাইছড়ির ত্রিপুরাপাড়া  নয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের কারণে। এই পাড়ার কোনো মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পায় না বললেই চলে। আর এখানকার শিশুদের কোনো দিন কোনো টিকাও দেওয়া হয়নি।

আজ সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানান। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তারা অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং এর ফলে সংক্রমণ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অপুষ্টির কারণে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

আবুল কালাম আজাদ জানান, ত্রিপুরা পাড়ায় মোট ৮৫ বাড়িতে ৩৮৮ জন মানুষ বাস করে। এরা কেউই হামের টিকা পায়নি। ৩৮৮ জনের মধ্য বয়সভেদে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯০ জন। এদের মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি আক্রান্তের হার ৯২.৫ শতাংশ, ১ থেকে ৪ বছর বয়সি আক্রান্তের হার ৬১.৯ শতাংশ, নয় মাস বয়সিদের ৪০ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সিদের ২০ শতাংশ, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সিদের ১৫ শতাংশ, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের ১০ শতাংশ এবং ২০ বছরের উপরে বা নিচে ০.৯ শতাংশ।

হামের টিকা না পাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকা কর্মসূচি পরিচালিত হয় ওয়ার্ডভিত্তিক মাইক্রোপ্ল্যান অনুযায়ী। ত্রিপুরা পাড়া মাইক্রোপ্ল্যানে না থাকায় বাদ পড়ে আসছে। এ জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব ওয়ার্ডের টিকাদান মাইক্রোপ্ল্যান পর্যালোচনা করা হবে। কোন ছোট জনপদ বাদ গেলে সেগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তবে দেশে হাম রোগের টিকা কার্যক্রম ঠিকভাবে চলছে এমন দাবি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় হাম রোগ প্রাদুর্ভাবের কোনো আশঙ্কা নেই।

ত্রিপুরা পাড়ায় হামের সংক্রমণ সম্পর্কে তিনি জানান, ত্রিপুরা পাড়ায় হামের সংক্রমণের লক্ষণ চলতি বছরের ২২ জুন প্রথম দেখা দেয়। সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্ত শিশুর মধ্যে জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয় ১০ জুলাই। প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৮ জুলাই। চিকিৎসা পাওয়ায় ১২ জুলাইয়ের পর কেউ মারা যায়নি। মৃত নয় শিশুর বয়স ৩ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

তিনি আরও জানান, ঘটনা শোনার পর আইইডিসিআর এর টিম সেখানে গিয়ে ভর্তি রোগীদের রক্ত ও গলার নিঃসরণ এর নমুনা সংগ্রহ করে। ঢাকায় যথাক্রমে আইইডিসিআর ল্যাবরেটরি এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও ও মিজলস ল্যাবরেটরিতে নমুনাসমূহ পরীক্ষা করা হয়।

ত্রিপুরা পাড়া বর্তমান ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে আবুল কালাম আজাদ জানান, চিকিৎসাধীন রোগীদের সুচিকিৎসা চলছে।  এলাকার বাসিন্দা বীরেন্দ্র ত্রিপুরার বাড়িতে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইপিএইচএন কর্তৃক উক্ত পল্লীতে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এইসঙ্গে ওই এলাকায় রোগ ব্যাধি ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত পর্যাবেক্ষণ চলমান থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরীনা ফ্লোরা, চট্টগ্রাম সিভি সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ।


রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ
বিস্তারিত
রোহিঙ্গাদের ৬ মাসে লাগবে ২০
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির বৌদ্ধ মগদের সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা
বিস্তারিত
রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে শনিবার থেকে মাঠে
মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশ
বিস্তারিত
আন্তর্জাতিক গণআদালতে সু চি দোষী
রাখাইনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রোমভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণ আদালতে
বিস্তারিত
মাসের প্রথম শুক্রবার ‘ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত’
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার ব্যক্তিগত গাড়ি
বিস্তারিত
‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বক্তৃতার
বিস্তারিত