কানাডায় উচ্চশিক্ষা এবং কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কাজ করার জন্য আপনার ওয়ার্ক পারমিট লাগবে। তবে কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই কাজের সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিটের প্রয়োজন হয় না। ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে আপনার ক্লাস টাইমে নিয়োগকর্তা আপনাকে ছেড়ে দিতে রাজি থাকলেই কেবল কর্তৃপক্ষ আপনার নামে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। কাজের সুযোগ অনুযায়ী কাজ করতে পারলে এখানে থাকা-খাওয়া, পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে আপনি বাড়িতেও টাকা পাঠাতে পারবেন
 

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। উন্নত বিশ্বের অন্যতম একটি দেশ। উচ্চশিক্ষার এক চমৎকার স্থান। দেশজুড়ে এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলো ছড়িয়ে আছে। Association of Universities and College of Canada (AUCC) দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯টি। এখানকার পড়াশোনা, ডিগ্রি বিশ্বমানের। কর্মসংস্থান ও জীবন সবদিক থেকেই কানাডার স্থান প্রথমদিকে। পড়াশোনা শেষে এখানে কর্মসংস্থানসহ এমনকি পড়াশোনা অবস্থায়ই নাগরিকত্ব লাভের সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় কানাডা অন্যতম পছন্দ। এ নিয়েই এবারের আয়োজনÑ কানাডায় উচ্চশিক্ষা।
শিক্ষার ধরন : কানাডায় উচ্চশিক্ষা লাভে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এবং ডক্টরেট রয়েছে। এখানে একজন শিক্ষার্থী ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম পড়াশোনা করতে পারেন। শিক্ষার পাশাপাশি এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কো-অপারেটিভ এডুকেশন, ডিস্ট্যান্ট লার্নিং, কন্টিনিউয়িং এডুকেশন ইত্যাদি কোর্স রয়েছে। রুম, ল্যাবের বাইরেও এখানে শিক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য রয়েছে ওয়ার্কশপ ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা, পড়াশোনার সহযোগিতার জন্য রয়েছে স্কলারশিপ।
পড়াশোনার মাধ্যম : কানাডায় ইংরেজি এবং ফ্রেঞ্চ দুইটিই অফিসিয়াল ভাষা। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়েই এ দুই ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায়। আপনি কোন বিষয়ে পড়বেন, সেটা আগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তবে ইংরেজি ভাষা পড়তে TOEFL-এ আপনার স্কোর থাকতে হবে ৫ থেকে ৬-এর অধিক। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এর ভিন্নতা আছে। আর ফরাসি ভাষায় পড়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
পড়াশোনার বিষয় : কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আন্ডার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজার বিষয় রয়েছে। এর অন্যতম হলোÑ এডুকেশন, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইকনোমিক্স, ইতিহাস, রিলিজিওন, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স, ফুড সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইলেকট্রনিক্স, মেডিকেল সায়েন্স, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, জিওগ্রাফি, অ্যাস্ট্রোনমি, ফিলোসফি, আইন, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।
পড়াশোনা ও থাকা-খাওয়ার খরচ : কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে খরচও বিভিন্ন রকম। এ ভিন্নতা আবার বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্যাকাল্টি বা বিষয়ের ভিন্নতায়ও বিভিন্ন রকম হয়। তবে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ৩ থেকে ৪ বছরব্যাপী কোর্সে টিউশন ফি আনুমানিক বছরে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। আর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ১ থেকে ২ বছর মেয়াদি কোর্সে বছরে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। এখানে অবশ্য থাকা-খাওয়া কিছুটা ব্যয়বহুল। এক রুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। খেতে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা লাগতে পারে। সে হিসাবে মাসিক খরচ আসে ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ : কানাডায় পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কাজ করার জন্য আপনার ওয়ার্ক পারমিট লাগবে। তবে কানাডায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই কাজের সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিটের প্রয়োজন হয় না। ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে আপনার ক্লাস টাইমে নিয়োগকর্তা আপনাকে ছেড়ে দিতে রাজি থাকলেই কেবল কর্তৃপক্ষ আপনার নামে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। কাজের সুযোগ অনুযায়ী কাজ করতে পারলে এখানে থাকা-খাওয়া, পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে আপনি বাড়িতেও টাকা পাঠাতে পারবেন।
আবেদন, ভর্তি ও ভিসা প্রসেসিং : কানাডায় পড়তে চাইলে আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কোন বিষয়ে ভর্তি হতে চান, আগে সেটা পছন্দ করতে হবে। আগে সে বিষয়ে পড়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আপনাকে জেনে সেটা অর্জন করতে হবে। এরপর আপনি আন্ডার গ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তি হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিন বরাবর আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। সঙ্গে আপনার বিষয়ও তাদের অবহিত করবেন। এটা আপনাকে হাতে কিছুটা সময় রেখেই করতে হবে। ভিসা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা অফার লেটার, আর্থিক সচ্ছলতার কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশের কানাডিয়ান দূতাবাসে দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। তখন আপনার স্টাডি পারমিট লাগবে। স্টাডি পারমিট সংগ্রহ করতে ৭ থেকে ১৩ হাজার টাকা লাগবে। এরপর আপনি ভিজিটর ডিমান্ড কার্ড পেপার সংগ্রহ করে চলে যাবেন কানডায়।
স্কলারশিপ : কানাডায় বড় অঙ্কের টিউশন ফি দিয়ে পড়তে হলেও স্কলারশিপের ব্যবস্থা আছে। এজন্য প্রথমে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এরপর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন বা হবেন সেখানকার Financial Aid officeএ যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা স্কলারশিপ দেয়। যেমনÑ কানাডিয়ান হার্ট ফাউন্ডেশন, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ইত্যাদি।
উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয় : University of Ottawa, University of toronto, University of Victoria, University of Alberta, Thompson Rivers University, University of Guelph.


খবরটি পঠিত হয়েছে ১০৭৬০ বার

পেশা যখন ফটোগ্রাফি
ছবি তোলা কি আপনার শখ? একে শুধু শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ
বিস্তারিত
ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
শিক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে বিশ্বে এক নম্বর র‌্যাংকিংয়ে রয়েছে ফিনল্যান্ড।
বিস্তারিত
সাংবাদিক ও গণযোগাযোগ কর্মী হতে
আধুনিক জীবনে ইলেকট্রনিক কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার অনুপস্থিতি আর কল্পনাও করা
বিস্তারিত
সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাস্টার্সের পাশাপাশি অনার্স করার সুযোগ
বিস্তারিত
সোনালি ভবিষ্যৎ গড়তে বিএসডিআই
তথ্যপ্রযুক্তির জোয়ারে আজ সব বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্মুক্ত। আর সেই শিক্ষাকেই
বিস্তারিত
সময়ের চাহিদা মার্কেটিং পেশা
বাজারে আসছে নতুন নতুন বাহারি পণ্য। আসছে দেশি ও বিদেশি
বিস্তারিত