অর্থনীতি ও হালাল ব্যবসা

 অর্থনীতি ও হালাল ব্যবসা
ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ

ইসলাম একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। (সূরা আল মায়েদাহ : ৩)। জীবনের প্রত্যেকটা বিষয়ের সূক্ষ্ম আলোচনাগুলো স্থান পেয়েছে এখানে। (সূরা আল আন’আম ৩৮)। যাতে এর অনুসারীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা যায়। মানবজীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো অর্থনৈতিক জীবন। যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য আবশ্যকীয় বিষয়। ইসলামের মূল উৎস কোরআন ও সুন্নতে এ বিষয় সম্পর্কে সাম্যক ধারণা দেয়া হয়েছে। তদুপরি বর্তমান সময়ে হালাল অর্থনীতি ও হালাল ব্যবসা নিয়ে আলোচনা বিজ্ঞজনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে। এ বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে এ নিবন্ধে। 
প্রথমেই আলোচনা করা দরকার হালাল ব্যবসা ও হালাল অর্থনীতি বলতে কী বোঝায়। ‘হালাল ব্যবসা’ ও ‘হালাল অর্থনীতি’Ñ এ দুইটি পরিভাষার মধ্যেই ব্যবহৃত একটি শব্দ ‘হালাল’। এটি শুধু আরবি শব্দ নয়; বরং ইসলামী শরিয়তের (আইনকানুনের) একটি বিশেষ পরিভাষাও এটি। শাব্দিক অর্থ বৈধ হলেও এ পরিভাষা দিয়ে এমন সব বিষয় ও বস্তু বোঝানো হয়, যা মানবজাতির জন্য, বিশেষ করে মুসলিমদের ব্যবহার ও গ্রহণ করার অনুমতি রয়েছে। আর এ অনুমতি আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত ও তাঁর রাসুল (সা.) কর্তৃক স্বীকৃত। অর্থাৎ কোরআন ও সুন্নতসম্মত। সে অর্থে হালাল ব্যবসা বলতে এমন ব্যবসাকে বোঝানো হবে, যা কোরআন ও সুন্নত স্বীকৃত। আর হালাল অর্থনীতি বলতে এমন অর্থনীতি, যা কোরআন ও সুন্নত দ্বারা স্বীকৃত। 
তবে হালাল ব্যবসা ও হালাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু পার্থক্য আছে। যেমনÑ ব্যবসা হলো অর্থনীতির একটা অংশ। অর্থনীতির ব্যাপকতাও বিশাল। সে কারণে অর্থনীতি হালাল হওয়ার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি যেমনটি হবে, ব্যবসা হালাল হওয়ার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি তা না-ও হতে পারে। কাজেই হালাল ব্যবসা কিংবা হালাল অর্থনীতি ব্যবহারের চেয়ে ইসলামী ব্যবসা (ইসলামিক বিজনেস) এবং ইসলামী অর্থনীতি (ইসলামিক ইকোনমিকস) পরিভাষা ব্যবহার করা উত্তম। বিশেষ করে হালাল ব্যবসা বা হালাল পণ্যের পরিভাষা ব্যবহারের দিকে খেয়াল করলে তার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যাবে। 
হালাল ব্যবসা বা হালাল পণ্য নামে যে ব্যবসা করা হয় তাতে মূলত ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে মুনাফা লাভের চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এগুলোকে ইদানীং ‘মার্কেটিং টুলস’ বা বাজারজাতকরণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ এসব পরিভাষা ব্যবহারের পর হালাল পণ্য ব্যবসায় যে মৌলিক তিনটি জিনিস জড়িত তার উপস্থিতির নিশ্চয়তা এসব ব্যবসায় বা পণ্যে পাওয়া সম্ভব হয় না। যেমনÑ (১) তৈরির প্রক্রিয়া, (২) তৈরিকৃত পণ্য এবং (৩) তা বিপণনের পদ্ধতি। প্রক্রিয়া পদ্ধতি বলতে পণ্যটি যেসব কাঁচামাল বা উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়েছে এবং যে প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে তা তৈরি হয়েছে, তা বৈধ পন্থায় হওয়া জরুরি। পণ্যের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে, তা হলো এটি গ্রহণের পরে গ্রাহকের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে তা। সর্বশেষ বিপণনের ক্ষেত্রটিও বিবেচ্য হবে এবং তা অবশ্যই শরিয়তসম্মত উপায়ে হতে হবে। হালাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এ তিনটি বিষয় কার্যকরী হিসেবে গণ্য হবে। এককথায়, কোরআন ও সুন্নতভিত্তিক যে অর্থনীতি এবং এর ব্যবস্থাপনা বৈধ হিসেবে স্বীকৃত হবে, তাকেই আমরা হালাল অর্থনীতি বলতে পারব। নন মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোয়ও হালাল ট্যাগ লাগিয়ে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা সম্প্রতি জমে উঠেছে।
সব শর্তের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে ইসলামের যে মৌলিক দিকনির্দেশনা আছে, সেগুলোকে যথাযথ পালন করতে হবে। ব্যবসার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা নিজেই কোরআনের ঘোষণা দিয়েছেন, ‘তোমাদের জন্য ব্যবসাকে (বেচাকেনা) হালাল (বৈধ) করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সূরা বাকারাহ : ১৮৬)। এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্যকে শুধু আল্লাহ তায়ালা বৈধ করেছেন, তা নয় বরং সঙ্গে সঙ্গে সুদকে হারাম করেছেন। এখানে লক্ষণীয়, কেন ব্যবসার সঙ্গে সুদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? বর্তমান প্রচলিত অর্থব্যবস্থায় ব্যবসার সঙ্গে কীভাবে সুদের প্রচলন মিশ্রিত হয়েছে, তা দেখলে বোঝা যায় আল্লাহর এ বাণীর অন্তর্নিহীত উদ্দেশ্য। সেক্ষেত্রে ব্যবসার মূলধন থেকে শুরু করে মুনাফা পর্যন্ত যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, এসব পর্যায়ে যেন কোরআন ও সুন্নতের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে কিছু না করা হয়। যেমন ধরুন, কেউ একজন ব্যবসা করবে, তার মূলধনে শরয়ি কোনো সমস্যা নেই কিন্তু এমন জিনিসের ব্যবসা করবে, যা শরিয়তসিদ্ধ নয়। আবার যদি মূলধন বৈধ উপায়ে উপার্জিত না হয় কিংবা তা অবৈধ হয়; কিন্তু এমন ব্যবসা করছে যাতে কল্যাণ নিহিত আছে, সেটাও ঠিক হবে না। আর উপরোক্ত জিনিস পদ্ধতিগতভাবে সঠিক হলেও বাজারজাতকরণ থেকে শুরু করে মুনাফার প্রক্রিয়াটা যদি সঠিক না হয় তাহলে সে ব্যবসা যেমন ঠিক হবে না, তেমনি তাকে পূর্ণরূপে হালাল ব্যবসাও বলা যাবে না। এক্ষেত্রে ওই বাণীটি প্রযোজ্য হবে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের বৈধ সম্পত্তির সঙ্গে অবৈধ সম্পত্তির মিশ্রণ করে ভক্ষণ করো না।’ (সূরা নিসা : ২৯)। 
উল্লেখ্য, হালাল ব্যবসা বা পণ্যের নামে ব্যবসা করাটাকে আমি অবৈধ মনে করব না, যদি তা সত্যিকার অর্থেই উপরোক্ত শর্তসাপেক্ষে করা হয়। বরং ইসলাম ও মুসলিমদের এসব ব্যবসার মাধ্যমে ব্রান্ডিং করা সম্ভব হবে। সম্ভব হবে মুসলমানদের ও তাদের ধর্মের সৌন্দর্যকে অপরের মাঝে তুলে ধরা। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ীরা জান্নাতে নবী-রাসুল, সত্যনিষ্ঠ ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন। তাই সত্যিকার অর্থেই আমাদের ব্যবসাগুলো সে লক্ষ্যে মানবকল্যাণে পরিচালিত হোক, এটাই আমাদের কাম্য।


জেরুজালেম ইস্যুতে মুসলিমদের সংহতি
আরবি সংবাদপত্র রাই  আল উয়ুমের সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্যবিশেষজ্ঞ আবদেল বারি
বিস্তারিত
‘ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না’
আরব লিগের এক জরুরি বৈঠকে আমেরিকার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের
বিস্তারিত
ইউরোপে মুসলমানদের সংখ্যা আরও অনেক
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, ইউরোপে অভিবাসন আইন কঠোর করা
বিস্তারিত
ট্রাম্পের ঘোষণা জঙ্গিদের জন্য অক্সিজেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার
বিস্তারিত
পাশ্চাত্যে মওলানা রুমি (রহ.)
মওলানা রুমি মুসলিম-অমুসলিম সবার কাছেই বিপুল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। কারও কারও
বিস্তারিত
ইসলামে মানবাধিকার
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষণা করে মানবাধিকার সনদ। এ
বিস্তারিত