ইসলামের তৃতীয় খলিফা ওসমান (রা.)

হিজরতের পর মদিনা শরিফের অবস্থা ছিল করুণ। পানির খুব অভাব। একটি মাত্র পানির কুয়া, তা-ও এক ইহুদির! পানির কষ্ট দেখে প্রিয় নবী (সা.) সবাইকে ডেকে বললেন, কেউ আছ? এ কুয়াটি কিনে দিতে। বিনিময় আল্লাহ তায়ালা একটি ঝরনা দান করবেন। তখন ওসমান (রা.) ২০ হাজার দিরহাম দিয়ে ওই কুয়াটি কিনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন 

ওসমান (রা.) ৫৭৬ মতান্তরে ৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কোরাইশ বংশের উমাইয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আফফান, মায়ের নাম আরওয়াহ (আরভী বিনতে কারিস)। তিনি পর পর রাসুলে পাক (সা.) এর দুই মেয়ে রোকেয়া (রা.) ও উম্মে কুলসুম (রা.) কে পর্যায়ক্রমে বিয়ে করে জিন্নুরাইন খেতাবে ভূষিত হন। রাসুলে পাক (সা.), ওসমান (রা.) সম্পর্কে বলেন, ‘হে ওসমান! আল্লাহ তায়ালা তোমাকে জান্নাতের দিকে আহ্বান করছেন। তুমি সে আহ্বানে সাড়া দাও। আমি আল্লাহর রাসুল। মাখলুকের পথ প্রদর্শনের জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন।’ ওসমান (রা.) এ সম্পর্কে বলেন, ‘আল্লাহর কসম, তাঁর কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যে আমি যেন কেমন হয়ে গেলাম। নিজেকে আর সংযত করতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে আত্মসমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণ করলাম। মুখ থেকে বেরিয়ে আসতে থাকল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।’
ইসলাম গ্রহণের দ্বিতীয় দিন আবু বকর (রা.) ও ওসমান (রা.) কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে রাসুলে পাক (সা.) এর খেদমতে হাজির হন। তারা হলেন ওসমান বিন মাজউন (রা.), যার সম্পর্কে কথিত আছে তিনি কোনো দিন মদ পান করেননি। তিনি বলতেন, যেসব বস্তু মানুষের বোধশক্তি হ্রাস করে এবং নিম্নমানের লোকেরা হাসি-তামাশা করে এমন বস্তু আমি পান করি না। আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.), আবু উবায়দা জাররাহ (রা.), আবু সালমা বিন আবদুল সামাদ (রা.), আরকাম বিন আরকাম (রা.)Ñ তারা সবাই একই বৈঠকে ইসলাম গ্রহণ করেন।
উপরোক্ত সাহাবাদের মধ্যে আবু উবায়দা (রা.) আশারায়ে মুবাশশারাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি দুইবার হিজরত করেন, একবার আবিসিনিয়া, দ্বিতীয়বার মদিনায়। তার উপাধি ছিল আমিনুল উম্মাহ। তিনি রাসুল (সা.) এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২৮ হিজরি তিনি সিরিয়ায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওমর (রা.) বলেছিলেন, ‘যদি আবু উবায়দা (রা.) জীবিত থাকতেন তাহলে আমার পরে তিনিই খলিফা হতেন।’ আর একজন হলেন আবু সালমা (রা.)। তিনি রাসুলে পাক (সা.) এর দুধভাই ছিলেন, তিনি ছিলেন উম্মুল মোমেনিন উম্মে সালমা (রা.) এর প্রথম স্বামী। ওমর (রা.) এর মৃত্যুর পর ওসমান (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন। তিনি ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১২ বছর খলিফার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এর মধ্যে তিনি পূর্বাঞ্চলে এবং মধ্য এশিয়ায় অভিযান চালিয়ে নিশাপুর, সার্ভ, বলখ, তুরকিস্তান জয় করেন। তার হাতেই সাসানীয় বংশের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর ক্রমশ ইরান, গজনী, কিরমান, মাকরান এবং সিজিস্তান দখল করে নেন। পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এশিয়া মাইনর, আর্মেনিয়া, উত্তর আফ্রিকার বারকা ও ত্রিপলি জয় করেন।
ওসমান (রা.) এর খেলাফতকালকে দুইভাবে ভাগ করা যায়। প্রথম ছয় বছর ছিল শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও দেশ বিজয়ের গৌরবময় অধ্যায়। দ্বিতীয় ছয় বছর ছিল অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, বিদ্রোহ, রক্তপাতের করুণ ও মর্মান্তিক কাহিনীতে কলুষিত।
ওসমান (রা.) এর মানবপ্রেম, উদারতা ধর্মভীরুতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে কিছু বিদ্রোহী তার বিরুদ্ধে কতিপয় ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে দেশে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এদিকে ওসমান ছিলেন অত্যন্ত সহজসরল ধর্মভীরু ও উদার প্রকৃতির লোক, ছিলেন কোরআনে হাফেজ। পবিত্র কোরআন ছিল তার নিত্যকার সহচর ও প্রিয় পাঠ্য। তিনি সর্বদাই রক্তপাতকে ঘৃণা করতেন। কোনো অবস্থাতেই তিনি কঠোর হতে পারছিলেন না। তার এ সরলতার কারণেই বিদ্রোহীরা সারা দেশে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম হয়। বিদ্রোহ যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন তিনি ইচ্ছা করলে সৈন্য বাহিনী তলব করে সব ষড়যন্ত্র স্তব্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু রক্তপাত এড়ানোর জন্য তা করেননি। ৩৫ হিজরির ১৮ জিলহজ শুক্রবার, রোজা এবং কোরআন পাঠরত অবস্থায় বিদ্রোহী ঘাতকদের একটি দল জোর করে তার গৃহে প্রবেশ করে ৮২ বছর বয়স্ক খলিফা ওসমান (রা.) কে কুড়াল দিয়ে প্রথমে মাথায় আঘাত করে বর্বরোচিতভাবে তাকে শহীদ করে। তার স্ত্রী নায়লা তাকে রক্ষা করতে গিয়ে হাতের কয়েকটি আঙুল হারান। ওসমান (রা.) একটি বিশাল রাষ্ট্রের খলিফা হয়েও অত্যন্ত দরিদ্রের মতো জীবনযাপন করতেন। হিজরতের পর মদিনা শরিফের অবস্থা ছিল করুণ। পানির খুব অভাব। একটি মাত্র পানির কুয়া, তা-ও এক ইহুদির! পানির কষ্ট দেখে প্রিয় নবী (সা.) সবাইকে ডেকে বললেন, কেউ আছ? এ কুয়াটি কিনে দিতে। বিনিময় আল্লাহ তায়ালা একটি ঝরনা দান করবেন। তখন ওসমান (রা.) ২০ হাজার দিরহাম দিয়ে ওই কুয়াটি কিনে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন। তখন যে মসজিদ ছিল তা দিয়ে হচ্ছে না, কারণ দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে লাগল। প্রয়োজন হলো মসজিদের। নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায্যে এগিয়ে এলেন ওসমান (রা.)। নবম হিজরিতে যুদ্ধের প্রয়োজনে তিনি ১ হাজার উট, ৫০টি ঘোড়া এবং ১ হাজার সোনার মোহর প্রদান করেছিলেন। বাইতুল মাল থেকে তিনি কোনো দিন সামান্যতম কিছুও গ্রহণ করেননি। দুইটি উট রেখে তিনি তার সব সম্পত্তি ইসলামের উদ্দেশে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রচুর ধনসম্পদের মালিক এবং দানশীল ব্যক্তি। তার উপাধি ছিল ‘গনি’ অর্থ ধনী। তিনি শুধু অর্থেই নয়; মনের দিক দিয়েও ছিলেন ধনী। 

উইকিপিডিয়ার সূত্রে
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির


ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি বীমা
অধ্যাপক মাওলানা এ বি এম মাছুম বিল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল, সেন্ট্রাল
বিস্তারিত
অর্থব্যয়ে মুসলিম অমুসলিম পার্থক্য
একজন অমুসলিম সুদের টাকা হাতে পেলে কিংবা হারাম টাকা হাতে
বিস্তারিত
দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা
‘আর এটিই আমার সরল  পথ। অতএব তোমরা এ পথেরই  অনুসরণ
বিস্তারিত
বিনাশ্রমে ধন লাভের ঝগড়া
গরুর মালিক লোকটিকে দেখে চেঁচিয়ে ওঠে, আমার গরু কেন জবাই
বিস্তারিত
লাতীফায়ে খফী
‘লাতীফাহ’ অর্থ হলো সূক্ষ্ম, অদৃশ্য প্রায়, অন্তর্নিহিত, গুপ্ত। খফী অর্থ
বিস্তারিত
বনি আদমকে সম্মান দানের নানা
বনি আদমের ওপর আল্লাহর এই যে নানাবিধ সম্মান দানের নেয়ামত,
বিস্তারিত