ইউটিউব হতে পারে আয়ের অন্যতম মাধ্যম

অনলাইনে আয়ের হাজার হাজার পদ্ধতির মধ্যে ইউটিউব থেকে আয় একটি জনপ্রিয় উপায়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব থেকেও আপনি আয় করতে পারবেন কয়েকটি বিশেষ উপায়ে। বর্তমানে ভিডিও তৈরি করে অনেকেই এ প্লাটফর্মটি থেকে আয় করছেন। মজার মজার রান্না অথবা ব্যতিক্রমধর্মী মজার ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করে আয় করছেন অনেকেই। আপনিও এমনটা করতে পারেন। তবে এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন বড় হওয়ার স্বপ্ন, সঙ্গে ধৈর্য ও নতুন কিছু তৈরি করার ক্ষমতা। যদি এ তিনের সমন্বয় আপনার ভেতর থাকে, তাহলে আর দেরি কেন? আজই নেমে পড়–ন ভিডিও ব্লগিং করে অর্থ উপার্জনের পথে।

আয়ের শুরুটা যেভাবে করবেন
প্রথমে আপনাকে ইউটিউবের নিজের একটি অ্যাকাউন্ট খোলা প্রয়োজন। সেই অ্যাকাউন্টির নান্দনিক একটি নামও রাখতে হবে। নাম দেখেই যেন ভিজিটররা ধরে নিতে পারেন এখানে ব্যতিক্রম কিছু পাওয়া যাবে। এরপর তৈরি করতে হবে মজার মজার সব ভিডিও। ভিডিও তৈরির জন্য দুইটি পথ অবলম্বন করতে পারেন। প্রথমটি হলো- ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও তৈরি করুন। আর যদি ভিডিও ক্যামেরা না থাকে, তাহলে হাতে থাকা স্মার্টফোন বা ভিন্ন অনেক উপায় রয়েছে, সেগুলোও প্রয়োগ করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনাকে অবশ্যই মজাদার/শিক্ষণীয় ভালো মানের ভিডিও তৈরি করতে হবে। যদি আপনি আপনার চ্যানেলটিকে টিউটোরিয়ালের নির্ভর করতে চান তবে আপনি এখানে ভিডিও টিউটোরিয়ালই আপলোড করেন অন্য কিছু নয়। কিংবা যদি ভিডিও গান বা নাটকের চ্যানেল বানাতে চান, তাহলে সেখানে শুধু নাটক বা গানের ভিডিওই আপলোড দেবেন।

ভিডিও আপলোডের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম
একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, ইউটিউবে যখন আপনার ভিডিওগুলো আপলোড দেবেন, তখন অবশ্যই আপনার কি-ওয়ার্ডগুলো দিয়ে দেবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনার ভিডিও’র ডেসক্রিপশনটাও দিয়ে দিতে হবে। ইউটিউবে ভিডিওগুলো আপলোড হওয়ার পর আপলোডকৃত ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন। কারণ শুধু আপলোড করে দিলেই হবে না জনপ্রিয় হতে হলে আপনার ভিডিওগুলো বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম ফেসবুক, টুইটার, গুগোল ইত্যাদিতে শেয়ার করতে হবে। কারণ প্রচারই প্রসার। বিশ্বায়নের যুগে প্রচারকে প্রাধান্য দেয়াটাও অন্যতম জরুরি একটা বিষয়। এছাড়াও ভিডিওয়ের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে। কারণ ইউটিউব ভিডিও পাবলিশিং ও এক ধরনের ব্লগিং। তাই ইউটিউব, গুগোল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে ভালো অবস্থানে আসার জন্য অবশ্যই কিছু ব্যাকলিংক তৈরি করাটা আবশ্যক।
সাফল্যের জন্য যা প্রয়োজন : অবশ্যই টপিক রিলেটেড সাইটে লিংক তৈরি করতে হবে। এজন্য যারা ইউটিউবে আয়ের দিকে শীর্ষে অবস্থান করছেন, তাদের অনুসরণ করতে হবে। দেখতে হবে তারা কীভাবে সফল হচ্ছেন। তাদের সফলতার ইতিহাসটা জেনে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে।

যেভাবে আয় করার সুবিধা পাবেন : ইউটিউব সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন, তারা হয়তো জানেন এখানকার আয়টা কীভাবে আসে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের নতুন যারা, তারা অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। আসলে প্লাটফর্মটিতে যখন উন্নতমানের ভিডিও পোস্ট করা হয়, তখন ধীরে ধীরে চ্যানেলটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এ জনপ্রিয়তার রেশ ধরেই চলে আসে আয়। কারণ চ্যানেল জনপ্রিয় হলে ইউটিউবের অ্যাডসেন্স পার্টনারশিপ থেকেই অফার চলে আসে। ওরা চ্যানেলটিকে পার্টনার করলে প্রতি মাসে একটা ভালো অ্যামাউন্টের টাকা দিয়ে থাকে। এ পার্টনারশিপ থেকে প্রথমে এ ঠিকায় (YouTube Partnership) প্রবেশ করতে হবে। এরপর সেখানে গিয়ে পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করতে হবে। যদি তারা আপনাকে রিজেক্ট করে, তাহলে আবার অ্যাপ্লাই করার জন্য আপনাকে আরও ২ মাস অপেক্ষা করতে হবে। আর যদি আপনার চ্যানেলকে তারা অ্যাকসেপ্ট করে, তাহলে তো হয়েই গেল। কারণ তারা আপনাকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা দেবে। বুঝলেন তো আয়টা কীভাবে আসে।
যা করা যাবে না : আপনি যদি ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করে আয় করতে চান, তবে নিচের কয়েকটি বিষয় সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। অন্যের চ্যানেল থেকে কোনো ভিডিও কপি করে নিজের চ্যানেলে চালানো চেষ্টা করা যাবে না। এমনটি হলে আয় তো হবেই না উল্টো নিজের চ্যানেলটিও হুমকির মুখে পড়বে।
অন্যের কোনো অডিও ক্লিপ আপনার ভিডিওতে যুক্ত করে ভিডিও তৈরি করে চালানো যাবে না। এটিও ইউটিউব পছন্দ করে না। নিজের চ্যানেলে সব ধরনের পর্নো ছবি কিংবা পর্নো ভিডিও আপলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে যদি কোনো শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়বস্তু যুক্ত করতেই হয় এক্ষেত্রে ভিডিওতে Age Restriction Enable করে দিতে হবে।
আয়ের আরও যে সুযোগ রয়েছে : ইউটিউবে দারুণ একটি চ্যানেল রয়েছে আপনার। তাতে রয়েছে লাখ লাখ ভিজিটর। তাহলে অনায়াসেই নানা উপায়ে এখন থেকে আয় তুলে নিতে পারবেন। তার মধ্যে দেশ-বিদেশের নানা ধরনের পণ্যের ভিডিও রিভিউ দিয়ে বা বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাডভারটাইজিং ভিডিও প্রচার করেও আয় করা যায়। এছাড়া ভিডিওয়ের ডিসক্রিপশনে বিভিন্ন পণ্যের এফিলিয়েট লিংক দিয়ে দিতে পারেন। কোনো পণ্য বিক্রি হলেই আপনি টাকা পাবেন। তাছাড়া আপনি যদি সুন্দর একটা নামের বা ভালো কি-ওয়ার্ডের চ্যানেলের মালিক হন তবে সেটা পরে বিক্রি করেও আয় করতে পারেন। মোটকথা, আপনি যদি কোয়ালিটিসম্পন্ন জনপ্রিয় ভিডিও তৈরি করতে পারেন, তাহলে আপনিও ইউটিউব থেকে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারেন।


ক্যারিয়ার গড়তে উপযোগী সিদ্ধান্ত
এ পৃথিবীতে একজন ধনী মানুষের মানসিকভাবে অসুখী থাকার চেয়ে খারাপ
বিস্তারিত
নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার যাবতীয় তথ্য
৫০ লাখের কম জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার
বিস্তারিত
পড়ার বিষয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাশন
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাহিদা বেশ। এইচএসসি
বিস্তারিত
ক্যারিয়ারের উন্নতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার
সমাজ ও পৃথিবী প্রতিনিয়ত উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে। সেই সঙ্গে
বিস্তারিত
ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার নিশ্চিত সুযোগ
একজন শিক্ষার্থী এমবিএমে ভর্তি হলে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে সুযোগ্য
বিস্তারিত
ভুল এড়িয়ে চলুন নতুন ব্যবসায়
প্রতিযোগিতার বাজারে অনলাইন ব্যবসায় দ্রুত এগিয়ে যেতে চান? একটাই উপায়।
বিস্তারিত