গফরগাঁওয়ে তাল সাম্রাজ্যের অধিপতি রফিকুল ইসলাম

‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে-উকি মারে আকাশে’। এই কবিতাটি মনে করিয়ে দেয় আকাশমুখী এই তাল গাছের সারি। আজকাল গ্রাম বাংলায় আর অসংখ্য তাল গাছের সারি দেখা যায়না। সময়ের ব্যবধানে  তালগাছের সংখ্যাও কমে গিয়ে আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তির হাত থেকে তালগাছ বাঁচাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন গফরগাঁওয়ের লংগাইর গ্রামের গাছপ্রেমী ৬৭ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম। এই পরিবেশ সচেতন মানুষটি ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে রোপন করেছেন কয়েক হাজার তালগাছ। বর্তমানে তার পরিচর্যায় প্রায় এক হাজার তালগাছ রয়েছে। 
গফরগাঁওয়ের মাইজবাড়ি থেকে কান্দিপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সারি সারি তালগাছ পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেসব গাছ লাগালে সকলেই স্বল্প সময়ে বেশি লাভবান হবেন সেসব গাছ লাগিয়ে বাগান গড়ে তুলেন অধিকাংশ ব্যক্তি। কিন্তু তিনি তা না করে তালগাছ রোপণ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। 
জেলা কৃষকলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মীর্জা আল ফারুকের অনুপ্রেরণায় নিজ উদ্যোগে তিনি তালগাছ রোপন প্রকল্প শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে তিন বছর বয়স থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় এক হাজার তালগাছ রয়েছে। তিনি জানান, একটি তালগাছ থেকে সুফল পেতে কমপক্ষে ২০ বছর সময় লাগে। ২০ বছর বয়েসী একটি তালগাছ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এ ছাড়াও বছরে ৩/৪ হাজার টাকার তাল বিক্রি করা যায়। তালগাছের পাতা দিয়ে তৈরি হাত পাখা, মাদুর, খেলনা ছাড়াও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করা যায়। তিনি তালগাছ লাগানোর সময় অনেকে বলেছেন তালগাছ লাগিয়ে লাভ কি। এর পরিবর্তে অন্যগাছ লাগালে দ্রুত লাভবান হওয়া যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এ কাজটি তিনি করে যাচ্ছেন বলে জানান। 
অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত লাভবান না হওয়ার কারণে তালগাছ দ্রুত বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে সকল ধরনের গাছ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অদম্য এই তাল গাছপ্রেমিক রফিবুল ইসলাম বলেন, ছোট বেলায় দেখেছি বাবুই পাখি একমাত্র তালগাছেই বাসা বাঁধে। সে সময় একটা তালগাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা দেখা যেত। অস্বাভাবিক হারে তালগাছ কমে যাওয়ায় এমন দৃশ্য এখন চোখে খুবই কম পড়ে। 
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ রোপণের কোন বিকল্প নেই। এমন তাগিদ থেকেই  ১৯৯৭ সালে তিনি প্রায় তিন হাজার তালের আঁটি সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে এলজিইডির রাস্তার দুপাশে আঁটিগুলো রোপণ করেন। তিন বছর পর আটিগুলো থেকে চারা গজিয়ে উঠার পর সড়ক প্রশস্ত করণের কাজ শুরু হয়। সে সময় অধিকাংশ তালের চারা নষ্ট হয়ে যায়। তাতেও হাল ছাড়েননি তালগাছ প্রেমিক রফিকুল ইসলাম। পূনরায় ২০০০ সালে দুই হাজার তালের আঁটি সংগ্রহ করে রোপন করেন।  সেই সময়ের প্রয়াত এমপি আলতাফ হোসেন গোলন্দাজকে দিয়ে গফরগাঁও-বারইহাটি রাস্তা ও বাঙ্গালকান্দি হতে গোলাবাড়ি পর্যন্ত ২৬০ মিটার রাস্তার সংযোগ অংশের দুধারে তালের আটি পুনঃরোপণ করেন। সর্বশেষ ২০১৩ সাল পর্যন্ত আটি রোপণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির সঠিক পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের সাথে গত ২০০৫ সালের ২১ মে ২৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রকল্পটি চলতে থাকলে রাষ্ট্রিয় সম্পদ বাড়বে পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্ম সুফল পাবে। বৃক্ষ প্রেমিক রফিকুল ইসলাম বেশি করে তালগাছসহ বিলুপ্ত প্রজাতির গাছগুলো রোপন করার আহ্বান জানান।


চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা:
সুনামগঞ্জের পৌরসভার নবীনগরে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার
বিস্তারিত
পাবনায় একই পরিবারের ৫ শহীদ
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাবনার একই পরিবারের ৫ শহীদ ভাইয়ের মৃত্যু
বিস্তারিত
গফরগাঁওয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের তেতুলিয়া গ্রামের মুন্সিবাড়িতে পানিতে ডুবে সিনমুন নামে ২৩
বিস্তারিত
দাউদকান্দিতে বাস খাদে, বাবা-ছেলেসহ নিহত
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় চট্টগ্রামগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে
বিস্তারিত
সাঁথিয়ায় পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ
পুর্ব শত্রুতার জেরে পাবনার সাঁথিয়ায় ২টি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে
বিস্তারিত
বাংলাদেশ থেকে গুড়া দুধ প্রত্যাহার
শিশুখাদ্যে সালমোনেলা নামের ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে আশংকায় ফ্রান্সের শিশু খাদ্য
বিস্তারিত