জুলুম আল্লাহ সহ্য করেন না

আজকের এ সভ্যতার (?) যুগে এসে পৃথিবী অন্যায়-অবিচার ও জুলুম-নির্যাতনে ভরে গেছে। মজলুমের আর্তনাদে আসমান-জমিন প্রকম্পিত। সর্বত্র জালিমের দাপট ও হুংকারে মানবতা ভূলুণ্ঠিত। প্রতিবেশী দেশ বার্মায় কীভাবে জুলুমের মহড়া চলছে, তা আমরা দেখছি। নাফ নদের তীরে আজ মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। উগ্র বৌদ্ধরা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে নিরীহ মানুষগুলো পাখির মতো গুলি করে হত্যা করছে। সীমান্তে নারী-শিশুর করুণ আর্তনাদ। নিজেদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে দলে দলে মজলুমরা সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। আহ! এ দৃশ্য কত বেদনাদায়ক ও করুণ।

জুলুম সবচেয়ে বড় অন্যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা জুলুম সহ্য করেন না। এরশাদ হয়েছেÑ ‘আল্লাহ জালেমদের পথ দেখান না।’ (সূরা মায়েদা : ৫১)। অন্যত্র বলেছেনÑ ‘আর জালেমরা তো সফলকাম হয় না।’ (সূরা আনআম : ২১)।
জালেমদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেনÑ ‘অচিরেই জালেমরা জানতে পারবে তাদের শেষ পরিণতি কী হয়?’ (সূরা শুআরা : ২২৭)। 
অতীতে যে সম্প্রদায়ে জুলুম-নির্যাতন বেড়ে গিয়েছিল, সে সম্প্রদায়কেই আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন। দাম্ভিক ও জালেম কোনো কওম পৃথিবীতে স্থায়ী হতে পারেনি। আদ-সামুদ, কওমে নুহ ও ফেরাউনকে আল্লাহ মুহূর্তে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের দাম্ভিকতা ও জুলুম স্থায়ী হয়নি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘সেসব জনপদকে আমি ধ্বংস করেছি যখন তারা জুলুম করল। তাদের ধ্বংসের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম (ফলে পরবর্তী সে নির্দিষ্ট সময়ে তারা ধ্বংস হয়ে যায়)।’ (সূরা কাহাফ : ৫৯)।
আজকের পৃথিবীতে জুলুম সর্বশেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। নিরীহ মানবতা আজ কত মর্মান্তিক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এ জুলুম একদিন অবশ্যই শেষ হবে। মজলুমের আর্তনাদ ব্যর্থ হবে না। তাদের আল্লাহ অবশ্যই সাহায্য করবেন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেনÑ ‘(হে নবী,) জালেমরা আজ যা করছে সে সম্পর্কে আপনি আল্লাহকে উদাসীন মনে করবেন না; বরং তিনি তাদের সেদিন পর্যন্ত ঢিল দিচ্ছেন, যেদিন (সবার) চক্ষু (শাস্তির ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে) বিস্ফারিত হবে।’ (সূরা ইবরাহিম : ৪২)।
বহু হাদিসে জুলুমের ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘মাজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো আড়াল থাকে না। (বোখারি)। অন্যত্র বলেন, ‘মজলুমের বদদোয়াকে আল্লাহ তায়ালা মেঘমালার উপর দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যান এবং তিনি বলেন, আমার বড়ত্বের শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব, যদিও কিছু দিন পরে হোক না কেন।’ হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। কেননা জুলুম কেয়ামত দিবসে অন্ধকার রূপ ধারণ করবে।’ (মুসলিম)।
জালেমদের শেষ পরিণতির কথা আল্লাহ এভাবে বলেনÑ ‘সেদিন জালেমদের ওজর আপত্তি কোনো কাজে আসবে না। তাদের জন্য কেবল লানত ও নিকৃষ্ট আবাসস্থল নির্ধারিত।’ (সূরা গাফের : ৫২)। 
পরিশেষে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, আজকের অসহায় মজলুম মুসলিম যারা দিগ্ভ্রান্ত ও পাগলপারা হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন, অচিরেই তাদের হৃদয় ঠা-া হবে। অচিরেই একদিন এ জুলুম-নির্যাতন বন্ধ হবে, ইনশাআল্লাহ।


ইসলামী বীমার বৈশিষ্ট্য
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের উত্তরাধিকারীদের নিঃস্ব, পরমুখাপেক্ষী ও অপর লোকদের
বিস্তারিত
দুর্নীতি প্রতিরোধে তাকওয়া
বাংলাদেশে যেসব সামাজিক সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে
বিস্তারিত
আলী (রা.) এর কয়েকটি অমূল্য
১. হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, প্রেম-ভালোবাসার
বিস্তারিত
শিক্ষক ও অভিভাবকদের আদর্শ
প্রাক-ইসলামী যুগে আরবরা ছিল অদৃশ্য জাতি। তাদের ছিল না কোনো
বিস্তারিত
নামাজে একাগ্রতার গুরুত্ব
ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। নামাজের মাধ্যমে মোমিন ব্যক্তি
বিস্তারিত