ড্রপ ইন সেন্টার : পথশিশুদের নিরাপদ আবাস

‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান/জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তুপ-পিঠে/চলে যেতে হবে আমাদের।/চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,/এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।...’

কিশোর কবি যথার্থই বলেছেন। কিন্তু ক’জনেই বা কবির এই অমোঘ বাণী নিজের ভেতরে ধারণ করতে পেরেছি? এখনো কত শিশু জন্মের পর জানেনা তাদের বাবা-মা কে। কত শিশুই তো জানে না আশ্রয় কাকে বলে। হতচ্ছাড়া এসব শিশুদের জন্মও হয় পথে, জীবনও কাটে পথে।

আমাদের দেশে প্রতিবছর পালন করা হয় জাতীয় শিশু দিবস। পথশিশুদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পালিত হয় এই দিবস। আমরা মুখে মুখে বলি─আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। মায়ের কোল হলো তাদের নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু শিশুদের জন্য কি আমরা সেই নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিতে পেরেছি আজও?  

ক্ষুধার জ্বালায় মায়ের কোল ছেড়ে শিশুরা যখন মা-বাবার ঘর ছেড়ে অজানার পথে পা বাড়ায় তখনই তাদের পরিচয় হয় পথশিশু। অবহেলিত শব্দটি এদের জীবনের সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই তারা বিভিন্ন ধরনের অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়। রাস্তাঘাটে এক টাকা-দুই টাকার জন্য তারা পথচারীকে অনুরোধ করে নানাভাবে। কেউ কেউ আবার কাগজ কুড়ায়। তীব্র শীতের মধ্যেও তাদের প্রায়ই গরম কাপড় ছাড়া দেখা যায়, যা অমানবিক ও দুঃখজনক।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার পথশিশু রয়েছে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, অফিস চত্বর, পার্ক আর খোলা আকাশের নিচে তাদের বাস। তারা বড় অসহায়। ঠিকমতো খেতে পারে না, ঘুমুতে পারে না, পরতে পারে না ভালো কোনো পোশাক। পায় না ভালো আচরণ। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব।

শিশুরা আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহের দান। পথশিশুরা কারও না কারও সন্তান, ভাই বা আত্মীয়-স্বজন। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার কারণে পথশিশুদেরও রয়েছে ন্যায্য অধিকার। স্বাধীন দেশে এ পথশিশুদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বড় হওয়ার অধিকার আছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এ মৌলিক চাহিদাগুলো যথোপযুক্তভাবে পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলা শহরের পথে ঘুরতে থাকা এসব পথ শিশুদের আশ্রয় মিলেছে ‘ড্রপ ইন সেন্টার’-এ। এটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর চাঁনমিয়া হাউজিং এলাকায় ৪ নম্বর সড়কে একটি বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত। সেখানে গেলে দেখা মিলবে অসংখ্য পথশিশুর।

ড্রপ ইন সেন্টারে আশ্রয় না পেলে হয়তো তাদের কেউ কেউ মিশে যেতো অন্ধকার আর অপরাধ জগতে। কেউবা হারিয়ে যেতো নেশার জগতে। তবে আজ ওদের চোখে স্বপ্ন আছে; আছে সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ওরা এখন লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানষ হতে চায়। কেউ হতে চায় ডাক্তার,  আবার কেউবা হতে চায় নাচের শিক্ষক। 

আকলিমা, শিল্পী, সাথী কিংবা ফারজানার জীবনে কোনো স্বপ্ন ছিল না। ওরা এখন স্বপ্ন দেখে। ওরা কেউ পথশিশু কেউবা অভিভাবক বঞ্চিত। এদের কেউই জানতো না তাদের জীবনের লক্ষ্য কী! কারো মা নেই, কারো বাবা চলে গেছে। ওরা জানতো না কেমন করে কাটবে তাদের আগামী দিন। এখন তারা এক সোনালী স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

সুবিধা-বঞ্চিত শিশুর নিরাপদ আবাস ড্রপ ইন সেন্টারে ৩৬০ জন শিশু লেখাপড়ার পাশাপাশি ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ পেয়েছে। সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে ছবি আঁকা আর নাচ-গান শেখারও সুযোগ মিলছে তাদের।

২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৬০ জন শিশু ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ পেয়েছে। এই সমাজেরই কোনো না কোনো সচেতন ব্যক্তির হাত ধরে তারা এই সেন্টারে আশ্রয় পেয়েছে। এখানে রয়েছে নিয়মানুবর্তিতা। আছে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার শিক্ষা ও আদর্শ। শত শত শিশুর ঠাঁই হয়তো দিতে পারেনি ‘ড্রপ ইন সেন্টার’। কিন্তু যাদের ঠাঁই দিয়েছে, তাদের দায়িত্ব নিয়েছে তারা।

ড্রপ ইন সেন্টারের কাউন্সেলর নুসরাত রুবাইয়া বলেন, ‘সমাজের সুবিধা-বঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসিত করাই এই ড্রপ ইন সেন্টারের লক্ষ্য। এসব শিশু বিভিন্ন প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠে। এরা খুব সহজে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। এসব শিশুকে আদর-ভালোবাসা আর যত দিয়ে আমরা তাদের প্রশিক্ষিত করি, যাতে ওই শিশুরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শিল্পী, সাথী, ফারজানা তাদের ভাগ্যের কথা ওরা এখন স্বপ্ন দেখে পথশিশুদের জীবনের কারিগর ড্রপ ইন সেন্টার বলতে গিয়ে ছল ছল চোখে বলে, ‘ভাগ্যের ফেরে আমরা আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। আমাদের ভবিষ্যৎ যেন আমাদের কল্পনার মতোই সুন্দর হয়। আর বঞ্চনা নয়- লেখাপড়া শিখছি, ভালো থাকতে চাই।’

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের রয়েছে মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ীতে দুটি ড্রপ ইন সেন্টার। মোহাম্মদপুর এলাকার বস্তি এবং এর আশপাশের এলাকার কর্মজীবী নারীর শিশু সন্তানদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা সুবিধা দিতেই এ সেন্টারের সৃষ্টি। বর্তমানে সেখানে রয়েছে ১৯৫ জন শিশু। ৮ থেকে ১৮ বছরের পথশিশু, কর্মজীবী শিশু এবং যারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত তারা ড্রপ ইন সেন্টারে আসতে পারে।

এছাড়া পথশিশু ও কর্মজীবী শিশু যারা যৌন নির্যাতনসহ নানান নির্মমতার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেসব শিশু পথে অরক্ষিত অবস্থায় বসবাস করে, যারা তীব্র আঘাত, অভিযোগ ও কলঙ্ক নিয়ে জীবন-যাপন করছে, কর্মজীবী শিশু যাদের পথশিশুতে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু যারা শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছে তারাই মূলত ড্রপ ইন সেন্টারে আসতে পারে।


জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত
মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত