গফরগাঁওয়ে বিস্তৃত মাঠ জুড়ে আমন ধানের হাসি

‘গগনে সাদা মেঘ দেখি নাতো আর,
শরৎ ঋতু ধীরে ধীরে লয়েছে বিদায়।
মাঠে মাঠে ধরে আছে সোনার ধান,
আনন্দেতে ধান কাটে চাষীরা সবাই।
নবান্ন উৎসব আজ সবার ঘরে ঘরে,
উল্লাসেতে মেতে উঠে বাঙালীর প্রাণ। ’- লক্ষণ ভান্ডারীর কবিতার এই লাইনগুলো হেমন্তের বাংলার চিরচেনা রূপ। যদিও গ্রাম-বাংলায় ‘নবান্নের’ উৎসব শুরু হয় মূলত অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকে। তবে এখন আগাম জাতের ধানের কারণে হেমন্ত ঋতু শুরুর আগে থেকেই সারা গ্রামে নবান্নের শ্যামল রূপে মুখরিত হয়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহেই উপজেলার সর্বত্র ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চারদিকে এখন চিকচিক করছে আর দোল খাচ্ছে সবুজের আভায় সোনারাঙা ধান। চিকচিক করে ছড়াচ্ছে সোনালী আমনের ঘ্রাণ। আমন ধানে  ছেয়ে আছে মাঠের পর মাঠ। মাঠ ভরা ফসল দেখে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। নতুন করে আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে, এবার আমনের ফলন গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

ময়মনসিংহের ১৩ উপজেলার মধ্যে ধান উৎপাদনের দিক থেকে গফরগাঁও শীর্ষ কয়েকটি উপজেলার একটি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ হয়েছে। এরইমধ্যে অনেক জমির ধান আধাপাকা অবস্থায় দোল খাচ্ছে।

আবার কিছু জমির ধান গামর হয়ে ধানের শীষ বের হয়েছে। ধান ক্ষেতে এখন কিছু কিছু জমিতে রোগ বালাই দেখা দিলেও সেটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরেও কৃষকরা সতর্কতার সাথে জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার উথুরী, পড়শীপাড়া ও ছিপান গ্রামের মাঠ আমন ধানের চাষাবাদ ভরে গেছে। কৃষকরা জানান, চলতি সপ্তাহেই পুরোদমে উপজেলার সর্বত্র ধান কাটা শুরু হবে।
ধান চাষীরা জানায়, ধান গাছে শীষ বের হবার আগ মূহুর্তে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়, ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণের কারণে। তবে কৃষি বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে এসে সুপরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন। সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে কৃষকরা এখন সোনালী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় আছেন ।

চারিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, তিনি এবার প্রায় ২০ একর জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। অবস্থা দেখে তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন। বারবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া, বাগবাড়ি গ্রামের কৃষক রমজান আলী ও জালাল উদ্দিন, ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের কৃষক এনামুল ইসলাম, কদম রসুলপুর গ্রামের লুৎফর রহমান ও রসুলপুর গ্রামের মাহবুবুল আলম জানান, নতুন করে আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার এস.এস ফারহানা হোসেন বলেন, নবান্ন উৎসব পালনে এখন আর অগ্রহায়ণের জন্য অপেক্ষা করতে হয়না। আশ্বিন-কার্তিকের অভাব দূর করতে আগাম জাতের আমন ধান আবাদ করে থাকেন কৃষকরা। আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, বিগত মৌসুমের ন্যায় এবারও আমনের বাম্পার ফলন হবে। বাম্পার ফলনে বেশ লাভবান হবেন কৃষকরা।  


পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত
মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত