‘ঢাকা ক্লিনিক্যালি ডেড বডি, আসুন তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি’

কিছুদিন আগে চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাসটা এমন─‘ঢাকা ক্লিনিক্যালি একটি ডেড বডি। আসুন, আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’

ফারুকী ব্যঙ্গ করে ঢাকার বর্তমান অবস্থাটা তুলে ধরেছেন। আসলে আমাদের আদরের ঢাকা শহরের অবস্থাটা এখন এমনই। এর মাগফিরাত কামনা করা ছাড়া যেনো আর কোনো উপায় নেই। সত্যিই কি তাই? ঢাকা শহর সত্যিই কি মরে গেছে!

গলা উচিয়ে চোখ মেলে এই শহরের যেদিকেই তাকাবেন, দেখবেন সত্যিই এটি একটি মৃত শহর। আর এর মৃত্যুর জন্য দায়ী আমরাই। 

এই শহরের এখন প্রধানতম সমস্যার নাম─যানজট। যা এই শহরের বাসিন্দাদের কাছে কাছে মরণঘাতী এইডসের মতোই এক ভয়াবহ আতংকের নাম। এইডসের ছোবলে যেমন মৃত্যু নিশ্চিত, তেমনি দুর্বিষহ হয়ে ওঠা যানজটও দিন দিন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে নগরবাসীর যাপিত জীবনকে।

যানজটে আটকে থাকায় নষ্ট হচ্ছে শ্রমঘণ্টা। বাড়তি জ্বালানি পোড়াতে হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কি অলিগলি, কি রাজপথ─ যানজটের কবল থেকে মুক্তি নেই কোথাও। এক কথায় রাজধানীর বাসিন্দাদের জীবনে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট।

২০০৮ সালের মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক জরিপের ফলাফলের দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। ওই ম্যাগাজিনের জরিপে বলা হয়েছে, পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা শহরের মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয়। আর ঢাকার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিদিন রাস্তার যানবাহন থেকে যে বিষবাষ্প বেরুচ্ছে, তা ঢাকাকে বাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে অনেক নিচে নামিয়ে এনেছে। আসলে যানজট শুধু বিভিন্ন সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুই নয়, এটি একইসঙ্গে সামাজিক ও অর্থনেতিক নানা সমস্যাও তৈরি করছে। 

দিন যতই যাচ্ছে ততই যেনো যানজট ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন পথচলায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও এখন আর সে অবস্থা নেই। যানজট লেগেই আছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের নানা আশ্বাস আর উদ্যোগ নিস্ফল প্রমাণিত করে দিয়ে দিন দিন ঢাকা মহানগরীতে যানজট বেড়েই চলেছে।

আবার সেই ‘ডেড-বডি’ প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আচ্ছা আমরা যদি আমাদের প্রাণপ্রিয় শহরটাকে ‘মৃত’ না ভেবে ধরে নিই─ঢাকা এখনো মরেনি, আইসিইউতে আছে। এবং এখান থেকে শহরটা ফিরে আসতেও পারে! আইসিইউ মানে শেষ মুহূর্ত নয় সেটা কি আমরা প্রমাণ করতে পারি না?

সেটা অবশ্যই সম্ভব। আমরা জাতিগতভাবে অনেক আশাবাদী। সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং এই শহরের বাসিন্দাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই শহরটাকে মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে আবারও সুস্থ-সুন্দর করা সম্ভব।

যদি প্রথমেই ধরে নিই ব্যক্তিগত গাড়ির কথা। তাহলে দেখা যাবে নগরীর রাস্তায় গণপরিবনের চেয়ে ব্যক্তিগত গাড়িই বেশি। আর এই ব্যক্তিগত গাড়িই যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে রাজধানীর যানজট। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

যানজট নিরসনে এখনই দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। আর তা বাস্তবায়নেও নিতে হবে যথাযথ উদ্যোগ। কোনো শহর, এলাকা বা পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কত হবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তা নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। পাশাপাশি মোটরবাইক ও অন্যান্য মোটরযানের সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। শুধু ব্যক্তি বা পরিবারই নয়, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যাও নির্ধারণ করতে হবে।


জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত
মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত