কতটা আইনী সহায়তা পাচ্ছে নিখোঁজদের পরিবার?

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে।

বাংলাদেশে গত দুই মাসে একজন সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা নিখোঁজ হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এছাড়া প্রায়শই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

নিখোঁজদের কেউ কেউ ফিরে এলেও, দীর্ঘদিনেও অনেকের কোন সন্ধান মেলে না। কিন্তু এরকম ক্ষেত্রে নিখোঁজের পরিবার কতটা আইনগত সহায়তা পাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো অনেককে ধরে নিয়ে গোপন স্থানে আটকে রাখে।

মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলছেন, ‘এই ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সবার আগে নিকটতম থানাকে অবহিত করতে হয়। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, যখন পরিবার বা প্রত্যক্ষদর্শীর পক্ষ থেকে বর্ণনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার সামান্যতম সন্দেহ থাকে, তখন আর থানা বা পুলিশ জিডি বা মামলা গ্রহণ করতে চায় না।’

সেক্ষেত্রে নিখোঁজদের পরিবারের আর কি করার থাকে?

নুর খান বলেন, ‘সেক্ষেত্রে ওই পরিবারের সদস্যরা আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু আদালতে গেলেই যে সে বিষয়ে সুরাহা হবে, সে সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। কারণ দেখা যায়, আদালত বলে পুলিশকেই আবার তদন্ত করতে। সেক্ষেত্রে তদন্ত স্বাভাবিক গতিতে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌছায় না।’

কোনো কোনো সময় দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর অনেকে ফিরে আসেন। কিন্তু ফিরে আসার পরেও পরিবারগুলোর তরফ থেকে আইনগত কোন উদ্যোগ দেখা যায় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোন তদন্ত করতে দেখা যায় না।

নিখোঁজ বা গুম ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, ‘তাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, ওই মানুষগুলো এমন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ওই সময় অতিক্রম করে, যেটির কারণে তাকে সবসময় আতংকিত অবস্থায় থাকতে হয়। আমার অনেক প্রতিষ্ঠিত, সমাজের প্রতিপত্তি সম্পন্ন মানুষগুলোকেও দেখেছি, যারা ফিরে আসার পর মামলা বা একটা শব্দও উচ্চারণ করেন না। আমার ধারণা তারা সাহস পান না।’

‘এ ধরণের ঘটনায় দৃশ্যত কার্যকর কোন পদক্ষেপ রাষ্ট্রের তরফ থেকে নেয়া হয় না। তখন মানুষের কোন আশ্রয়স্থল থাকে না, তাই মানুষ নিজ উদ্যোগে আইনের কাছেও যেতে চায় না।’ বলছেন এই মানবাধিকার কর্মী।

নুর খান আরও বলেন, ‘সংবিধানের নানা ধারা উপধারায় অধিকারের কথা বলা আছে, সে অনুযায়ী আইন আছে। কিন্তু সেটির প্রয়োগ নেই। কারণ সমাজ এমন একটি জায়গায় চলে গেছে, সেটা হচ্ছে বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতি। এই দুটো মিলেমিশে পুরো সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে শুভ উদ্যোগ, প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ বা আইনের আশ্রয় লাভের যে অধিকার, তা গুমরে গুমরে কাঁদছে।’
সূত্র : বিবিসি


ভালোবেসে পালিয়ে বেড়ানো যুগলেরা
ভারতে বেশিরভাগ পরিবারই নিজেদের ধর্ম ও জাত বা বর্ণের মধ্যেই
বিস্তারিত
পৃথিবীর যে ৯টি ছবি আজও
বলা হয়ে থাকে, একটি ছবিতে যা প্রকাশ করা যায়, তা
বিস্তারিত
পোল্ট্রি খামারে স্বপ্ন পূরণ বেকার
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে পোল্ট্রি খামার করে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকরা
বিস্তারিত
কানাডায় বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব
বাঙলির হাজার বছরের ইতিহাসে পিঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে
বিস্তারিত
চবির ইন্সটিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের
জাদুর গাড়ি চলছে দুপাশে সবুজ চাদরে বেষ্টিত নিকষ কালো পিচ
বিস্তারিত
ইতিহাসের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড!
ইতিহাসের কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখনো সারাবিশ্ব মনে রেখেছে। তেমন কয়েকটি
বিস্তারিত