ধুমনদী ঘিরে রংপুরের শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্রের হাতছানি

কাউনিয়া উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত শান্ত শ্যামল সুবজে ঘেরা ঐতিহাসিক ধুমনদী। এ নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে টানে। শীত কিংবা গরম যে কোনো পরিবেশে এখানে সমাগম ঘটে সব বয়সের মানুষের। তরুণ-তরুণীদের কাছে এলাকাটি খুব প্রিয়। স্বচ্ছ জলাধারের পাশে নিঝুম ছায়াঘেরা পরিবেশে বসে মনের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে অনেকেই খুঁজে নেন এ স্থানটিকে। বিনোদন স্পটবিহীন উপজেলার ৩ লাখ মানুষের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র এ নদী। দেশীয় ও অতিথি পাখির জলকেলি দেখতে প্রতি দিন শত শত দর্শনার্থী ছুটে আসেন এখানে। কাজেই এ ধুমনদী ঘিরে গড়ে উঠতে পারে রংপুরের শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র। হারাগাছ পৌর শহর থেকে ২ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং কাউনিয়া সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ধুমনদীর আবস্থান। এর আয়তন ১৮৬.৩৬ একর। এ নদী নিয়ে নানা কথামালা রয়েছে। বাংলার প্রথম ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক ছিলেন ভবানী পাঠক, মজনুশাহ ও জয়দুর্গা দেবী। কথিত আছে ধুমনদী তৈরি করা হয় ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের গোপন আখড়া হিসেবে। এ সময় দেবী চৌধুরানী ছিলেন ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের একজন অগ্রনায়ক। নানা কথা প্রচলিত আছে যে, মন্থনা ও ব্রাহ্মণডাঙ্গার জমিদার নবেন্দ্র নারায়ণ দেবী চৌধুরানীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি শাশুড়ি কর্তৃক নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত হন। মনের ক্ষোভ ও দুঃখে তিনি স্বামীগৃহ ত্যাগ করে চলে আসেন। ভবানী পাঠক দেবী চৌধুরানীর দুঃখের কাহিনী শুনে তাকে পালিত কন্যা হিসেবে গ্রহণ করে যুদ্ধবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে পারদর্শী করে তোলেন।
এর পর শুরু হয় অত্যাচারী ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। বৃত্তাকার এ ধুমনদীর মাঝখানে তিনি গড়ে তোলেন গোপন আস্তানা। ধুমনদীটি মূলত ইউ বা অশ্বক্ষুরাকৃতির। চার দিকের মধ্যে তিন দিকে নদী আর এক দিক দিয়ে প্রবেশ পথ। অর্থাৎ শত্রুরা আক্রমণ করতে চাইলে একমুখী পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। এ কারণেই দেবী চৌধুরানী ধুমনদীর ভেতরের স্থানকে আস্তানা হিসেবে বেছে নেন।
নানা ইতিহাসে ঘেরা ধুমনদীর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে তৎকালীন মন্ত্রী মাইদুল ইসলাম ধুমনদীকে একটি পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলার এবং এলাকাটিকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে জি এম কাদের একই প্রতিশ্রুতি দিলেও তাও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ বিনোদনপ্রিয় মানুষের জন্য এ নদী এলাকাটি হয়ে উঠতে পারে রংপুরের শ্রেষ্ঠ বিনোদনের একমাত্র কেন্দ্র। এখানে বেসরকারি উদ্যোগে একটি চিড়িয়াখানা গড়ে উঠলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে হরিণ, পশুপাখি জব্দ করায় তা বন্দ হয়ে যায়। ঐতিহাসিক এ ধুমনদীর বিশাল বিশাল আকৃতির মাছের ঢেউ তুলে যাওয়ার দৃশ্য, কত্তি বা চাপিলা মাছের সারিবদ্ধ চলাফেরা, অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দ, পানকৌড়ির ডুবে ডুবে মাছ শিকারের দৃশ্য আগন্তুকদের মন কাড়ে। হয়তো একদিন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এ নদী ঘিরে গড়ে উঠবে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্র। আর এটিই এখন কাউনিয়াবাসীর বড় প্রত্যাশা।

 


যেভাবে শুরু ভালোবাসা দিবসের
ইতালির রোম নগরীতে ২৬৯ সালে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান
বিস্তারিত
‘দি হিডেন পার্ল’র যাত্রা শুরু
ফেসবুকের জনপ্রিয় পেজ ‘দি হিডেন পার্ল’। এই পেজের মাধ্যমে থেকেই
বিস্তারিত
নওশিন ও শিন্নসুকের কিকস্টারটার প্লাটফর্মে
বাংলাদেশ ও জাপানের সহযোগিতায় তৈরি চামড়া শিল্পকর্ম ‘জিলানীয়ে এ
বিস্তারিত
লিভারের শক্তি বাড়ায় লাউ
স্বাস্থ্যকর সবজি লাউ লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি জন্ডিসের
বিস্তারিত
হলুদ ফুলে কৃষক লাল
কৃষকের বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল। মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে
বিস্তারিত
বিএডিসি’র গোলআলুতে ঘোর সংসারের চাকা
শেরপুরের নকলা উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বীজ উৎপাদনের জন্য
বিস্তারিত