তরমুজ ব্যবসায়ী সোহেল হতে চান পাইকারি ব্যবসায়ী

দুপুর ১২টা। চৈত্রের কাঠ ফাঁটা রোদ। চলছে ভ্রাম্যমান ফল ব্যবসায়ীর ব্যবসা। হ্যাঁ বলছি গরেমের স্বস্তি তরমুজ ব্যবসায়ী সোহেলের কথা। ঢাকায় এসেছে কিশোরগঞ্জ থেকে ভাগ্য পরিবর্তনের আসায়। মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে ৫জনের পরিবার সোহেলের। সোহেলই সংসারের বড় ছেলে। তাই সংসারের হাল ধরতে হয়েছে খুব ছোট বয়স থেকেই। অভাব অনটনের সংসারে ঋতু বিশেষ ব্যবসা করেন তিনি। কখনও তরমুজ কখনও কাঠাল ও আবার কখন রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন সোহেল।

সোহেলের ইচ্ছা সে একদিন অনেক বড় ব্যবসায়ী হবে। আর তাই তার অক্লান্ত পরিশ্রম। সকাল ১০টা থেকে চলে তার চৈত্রের রোদের সঙ্গে লড়াই। রোদকে জয় করে দিন শেষে ৬ থেকে ৭শত টাকা উপর্জন করেন সোহেল।

তারপর বাড়ি ফেরা। সোহেল থাকেন রাজধানীর শংকর বস্তিতে। সেখানেই তার রাত যাপন পরিবারের সঙ্গে। দিন চলে যাচ্ছে কিন্তু উপর্জন বাড়ছে কচ্চপের গতিতে। আর বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বাড়ছে খরগোসের গতিতে। তাই এই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালিয়ে বাড়তি উপর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে সোহেলের।

সোহেল রাজধানীর বাদামতলী থেকে তরমুজ কিনে এনে ফার্মগেট, কলাবাগান, শংকর, রাজাবাজারে বিক্রি করে।

এখন গরম বাড়ায়, বেচাবিক্রি একটু বেশি হচ্ছে। তবে খরচও বাড়তি। সামনে পহেলা বৈশাখ। বাঙালি নববর্ষের চাহিদা তো থাকেই। তাই তো সংগ্রাম চলছে সোহেলে অভিরাম।

সোহেলের সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায়। সে শোনায় তাঁর আশার কথা। আমি যে পরিশ্রম করছি তার ফল আমি একদিন পাবোই। কারণ আমার সঙ্গে মা-বাবার দোয়া রয়েছে। কথা গুলো বলতে বলতে গলা ধরে এলো সোহেলের। তার পর চা খাওয়া হলো। একটু সতেজ হওয়ার জন্য। আবার শুরু হলো কথা সে তার কষ্টের কথার ফাঁকে ফাঁকে বলছে নিজের সুখের কথাও অবলীলায়। ভবিষ্যৎতে কি করবেন কি হবে সেই পরিকল্পনা রয়েছে সোহেলের।

এর পর আবার একটা খরিদদার এলো তোমার তরমুজের দাম কত? সোহেল বললো ১০০ টাকা। খরিদদার বললো এতো দাম দিয়ে কি আর তরমুজ কেনা যায়। সোহেল বললো স্যার ভালো জিনিসের দাম তো একটু বেশি হবেই। স্যার নেন অনেক ভালো হবে, এটা বরিশালের তরমুজ। সম্পূর্ন লাল ও মিষ্টি হবে। এভাবেই কথার ফাঁকে ফাঁকে চলছে সোহেলের তরমুজ বিক্রি।

তখন পর্যন্ত সোহেল তরমুজ বিক্রি করেছে ১৬টা। যা থেকে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৪০০টাকা। তাই মনটাও ভালো বলে জানান সোহেল। সোহেল বললো গরম বেশি হলে তরমুজ বেশি বিক্রি হয় আর আমার কপালও ভালো হয়ে যায়। সেদিন হাঁসি থাকে মুখে বেশি।

দুপুর ২টা। স্কুল কলেজ ছুটির সময় একটু বেচা বিক্রি বেশি হবে তাই বললো একটু পরে কথা বলবো আপনার সঙ্গে। কেননা সবাই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরবে। তাই তরমুজ বিক্রিটাও বেশি হবে। দিনে ৪০ থেকে ৫০টা তরমুজ বিক্রি করেন সোহেল। সোহেল যে তরমুজ বিক্রি করে তার ভ্যান ভাড়া করা। ভ্যানের মালিককে দিতে হয় প্রতিদিন ৬০ টাকা। তাই বিক্রির তাড়া টাও একটু বেশি। বেশি বিক্রি না হলে নিজের মূলধন থেকে টাকা গুণতে হবে সোহেলকে। সবদিক বিবেচনা করে সোহেলের উত্তর ভাগ্যের কি পরিবর্তন হবে? পরিবর্তন হলেই তো আমি সফল ব্যবসায়ী হবো। আমার আর কোনো চাহিদা থাকবে না।

সবশেষে কথা হয় কবে নিজে সংসার গোছাবেন। তখন সোহেলের চটজলদি উত্তর আমি ব্যাবসা দাঁড় করিয়েই তার পর বিয়ে করবো। আর এখন মা-বাবার সঙ্গে থেকে নিজেকে শক্ত চ্যালেঞ্জিং করে গড়ে তুলছি। যা পরবর্তিতে আরও কাজে দিবে। সোহেল দৃঢ়ভাবেই বলেন আমি ব্যবসা দাঁড় করাবো।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত