মুখের পবিত্রতায় মিসওয়াক

সৃষ্ট জীব হিসেবে আমাদের কিছু কাজ অবশ্যই করতে হয়। যেমন বেঁচে থাকার তাগিদে আমরা খাদ্য গ্রহণ করে থাকি। আর সেজন্য মুখ পরিষ্কার রাখাটা অপরিহার্য। কেননা আহারের পর ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার না করা হলে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ হয়। তাই মুখের পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি ও দাঁতের রোগমুক্তির সবচেযয়ে কার্যকর পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে গেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আর তা হলো মিসওয়াকের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার রাখা। মুখের পরিচ্ছন্নতা ও দাঁতের সুস্থতায় প্রাকৃতিক মহৌষধ হলো মিসওয়াক। এছাড়াও মিসওয়াকের রযয়েছে আরও অনেক গুণ। প্রায় চল্লিশটিরও বেশি হাদিসে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় অজু করার এবং প্রত্যেক অজুর সঙ্গে মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২/২৫৯)। অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাঈল (আ.) যখনই আমার কাছে এসেছেন, তখনই মিসওয়াকের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম, আমার মুখের অগ্রভাগ ছিঁড়ে ফেলব ও ক্ষয় করে দেব।’ (মুসনাদে আহমাদ)। 

ঘুম থেকে জেগে সর্বদা মিসওয়াক করাটা রাসুল (সা.) এর নিত্যদিনের অভ্যাস ছিল। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) যখন রাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন তখন (মিসওয়াক দ্বারা) দাঁত মেজে মুখ পরিষ্কার করে নিতেন। (বোখারি : ৮৪৫)। আরও বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) যখনই ঘুমাতেনÑ চাই রাতে হোক বা দিনে, তারপর জাগ্রত হতেন, তখনই মিসওয়াক করতেন অজু করার আগে। (আবু দাউদ : ১/৮)।
মিসওয়াকের কারণে নামাজের সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়। মা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যে নামাজের জন্য মিসওয়াক করা হয়, তা ওই নামাজের চেয় সত্তর গুণ উত্তম যে নামাজে মিসওয়াক করা হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ)।
মিসওয়াক করা সব নবীর শরিয়তে সুন্নত ছিল। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘চারটি জিনিস সব নবীর সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত ছিলÑ ১. লজ্জা করা; ২. সুগন্ধি ব্যবহার করা; ৩. মিসওয়াক করা এবং ৪. বিয়ে করা।’ (জামে তিরমিজি : ১/২০৬)।
উম্মতকে মিসওয়াকের গুরুত্ব অনুধাবন করানোর পাশাপাশি মহানবী (সা.) নিজেও এর আমলে সচেষ্ট ছিলেন। তাবেঈ শুরাইহ ইবনে হানি বলেন, একবার আমি উম্মুল মোমিনীন আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন কোন কাজ সর্বপ্রথম করতেন? আয়েশা (রা.) বলেন, ‘সর্বপ্রথম তিনি মিসওয়াক করতেন।’ (মুসলিম : ১/১২৮)।
সব যুগের পুণ্যবান ব্যক্তিরা মিসওয়াকের ব্যাপারে অত্যন্ত যতœবান ছিলেন। আল্লামা ইবনে আবিদিন শামি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত ফতোয়ার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘মিসওয়াকের উপকারিতা ৭০টিরও বেশি। সেসবের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র উপকার হচ্ছে মিসওয়াক করার দ্বারা মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। আর সবচেয়ে বড় উপকার হচ্ছে মিসওয়াক করলে মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হয়।’ (ফতোয়ায়ে শামি : ১/২৩৬)।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের অন্যতম উপায় হচ্ছে মিসওয়াক। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের মাধ্যম।’ (নাসাঈ : ৩)।
রাসুল (সা.) এর অন্তিম কাজগুলোর একটি ছিল মিসওয়াক। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) একটি মিসওয়াক হাতে নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে (নবী (সা.) এর মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর ঘরে) প্রবেশ করলেন। রাসুল (সা.) তাঁর দিকে তাকালেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আবদুর রহমান! মিসওয়াকটি আমাকে দাও। সে আমাকে দিয়ে দিল। তারপর আমি ব্যবহৃত অংশটুকু ভেঙে ফেলে তা চিবিয়ে রাসুল (সা.) কে দিলাম। তিনি আমার বুকে হেলান দিয়ে তা দ্বারা মিসওয়াক করলেন।’ (বোখারি : ৮৪৬)।
লেখক : খতিব, বিশ্বনাথপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদ, কিশোরগঞ্জ


যার জন্য আখেরাতে ‘সর্বোচ্চ সম্মানিত
অবশ্যই কেয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এমন বহু মর্যাদা ও
বিস্তারিত
ওসমান বিন আফফান (রা.)
মহানবী (সা.) এর প্রিয় জামাতা জিন্নুরাইনখ্যাত ওসমান বিন আফফান (রা.)
বিস্তারিত
সহজতম আমল জিকির
মুসলিম মাত্রই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বহুমাত্রিক আমল-ইবাদত করে থাকে।
বিস্তারিত
কৃষি উন্নয়নে মুসলমানের অবদান
আধুনিক প্রযুক্তি যত মহাকাশে পৌঁছুক, শিল্পকারখানা যত উন্নত হোক, আবাসন
বিস্তারিত
আশা-আকাক্সক্ষার নীতিমালা
আল্লাহ এ মহাবিশ্বকে অধীন করে মানুষের সীমাহীন আশা-আকাক্সক্ষার ক্ষেত্র বানিয়েছেন।
বিস্তারিত
খুঁটিবিহীন আকাশ আল্লাহর অনুপম সৃষ্টি
আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির মাঝে আকাশ একটি বিস্ময়কর সৃষ্টি। যার নেই
বিস্তারিত