ভূমিকম্প যে বার্তা দেয়

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী (সা.) বলেছেন, কেয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে। সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফেতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ তথা খুনখারাবি বৃদ্ধি পাবে। তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।’ (বোখারি : ৯৭৯)

আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘বলো! আল্লাহ তোমাদের ওপর, তোমাদের উপর (আসমান) থেকে কিংবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম। অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে এক দলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।’ (সূরা আনআম : ৬৫)। 

শায়খ আল-ইস্পাহানি উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ আসমান থেকে আজাব বলতে, তীব্র শব্দ, পাথর বা ঝড়ো হাওয়া। আর পায়ের নিচ থেকে আজাব বলতে, ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঢুকে যাওয়া।
এমন বিপদ বা পরীক্ষা আল্লাহ এমনিতে প্রেরণ করেন না, সবসময়ই তাঁর কোনো না কোনো তাৎপর্য নিহীত থাকে। যেমন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, আমার উম্মত যখন ১৫টি কাজে লিপ্ত হতে শুরু করবে তখন তাদের প্রতি বালামুসিবত আপতিত হতে শুরু করবে। কাজগুলো হলোÑ ১. তখন গনিমতের মাল ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, ২. আমানতের সম্পদ পরিণত হবে গনিমতের মালে, ৩. জাকাত আদায় করাকে মনে করবে জরিমানা আদায়ের মতো, ৪. স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হবে, ৫. সন্তান মায়ের অবাধ্য হবে, ৬. বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা হবে না, ৭. পিতার প্রতি করা হবে জুলুম, ৮. মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে হট্টগোল হবে, ৯. অসম্মানী ব্যক্তিকে জাতির নেতা মনে করা হবে, ১০. ব্যক্তিকে সম্মান করা হবে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য, ১১. প্রকাশ্যে মদপান করা হবে, ১২. পুরুষরা রেশমি পোশাক পরবে, ১৩. গায়িকা তৈরি করা হবে, ১৪. বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা হবে, ১৫. পূর্ববর্তী উম্মতদের (সাহাবি, তাবেঈ, তাবে তাবেঈন) প্রতি অভিসমাপ্ত করবে পরবর্তীরা।
এ কাজগুলো যখন পৃথিবীতে হতে শুরু হবে তখন তোমরা অগ্নিবর্ষী প্রবল ঝড়, ভূমিকম্প ও কদাকৃতিতে রূপ নেয়ার অপেক্ষা করবে। এখন একটু চিন্তা করা উচিত, আমরা এগুলোর মাঝেই লিপ্ত রয়েছি কিনা? আর যখন আমাদের ওপর মুসিবত আসে তখন প্রকৃতির বা মানুষের বা অন্যান্য জিনিসের দোষ দেই। আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন আমরা হই তা আসলে আমাদের গোনাহের কারণেই। যখন কোথাও ভূমিকম্প সংগঠিত হয় অথবা সূর্যগ্রহণ হয়, ঝড়ো বাতাস বা বন্যা হয়, তখন মানুষদের উচিত মহান আল্লাহর কাছে দ্রুত তওবা করা, তাঁর কাছে নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা এবং মহান আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করা। ক্ষমা প্রার্থনা করা যেভাবে রাসুল (সা.) সূর্য গ্রহণ দেখলে বলতেন, ‘যদি তুমি এরকম কিছু দেখে থাক, তখন দ্রুততার সঙ্গে মহান আল্লাহকে স্মরণ করো, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।’ (বোখারি : ২/৩০; মুসলিম : ২/৬২৮)।
যখন কোনো ভূমিকম্প সংগঠিত হতো, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) তার গভর্নরদের দান করার কথা লিখে চিঠি লিখতেন। ভূমিকম্প একটি কেয়ামতের আলামত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, কেয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং অধিক পরিমাণে ভূমিকম্প হবে। সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফেতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ তথা খুনখারাবি বৃদ্ধি পাবে। তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে। (বোখারি : ৯৭৯)। 
পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে বলা হয়েছে, জলে-স্থলে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তা মানুষেরই কৃতকর্মের ফল। আল্লাহ পাক মানুষের অবাধ্যতার অনেক কিছুই মাফ করে দেন, এর পরও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়।
কোরআন নাজিল হওয়ার আগেকার অবাধ্য জাতিগুলোকে আল্লাহ পাক গজব দিয়ে ধ্বংস করেছেন। সেসবের অধিকাংশ গজবই ছিল ভূমিকম্প। ভূমিকম্প এমনই একটা দুর্যোগ, যা নিবারণ করার মতো কোনো প্রযুক্তি মানুষ আবিষ্কার করতে পারেনি। এর পূর্বাভাস পাওয়ার মতো কোনো প্রযুক্তিও মানুষ আজ পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেনি। হাদিস শরিফেও একাধিকবার বলা হয়েছে যে, মানুষের দুষ্কর্মের জন্যই ভূমিকম্পের মতো মহাদুর্যোগ নেমে আসে। 
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আদ, সামুদ, কওমে লুত এবং আইকার অধিবাসীদের ভূমিকম্পের দ্বারা ধ্বংস করার কাহিনী বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করা হয়েছে। 
ভাবার বিষয়, সামান্য এ ভূমিকম্পেই সম্পদের মায়া ছেড়ে আমরা রাস্তায় নামছি। এটা যখন আরও বাড়বে, তখন সম্পর্কের মায়াও ছেড়ে দেব আমরা। নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় ব্রতী হব সবাই। 
কাজেই আগেভাগে দরকার তওবা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটি আল্লাহ কর্তৃক একটি নিদর্শন, যাতে মানুষ স্বীয় অপরাধ বুঝতে সক্ষম হয়। 
ফিরে আসে আল্লাহর পথে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে খাঁটি তওবা করার 
তৌফিক দান করুন।


ইসলামে নেতৃত্ব নির্বাচন
খেলাফতের সুবর্ণযুগখ্যাত খেলাফতে রাশেদার খলিফারা মনোনীত হয়েছেন ভিন্ন তিন-তিনটি পদ্ধতিতে।
বিস্তারিত
মাতৃভাষার সুমহান মর্যাদা
ইসলামের ইতিহাসে যে যুগকে ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানে স্বর্ণযুগ’ বলা হয়, তা
বিস্তারিত
শুদ্ধতার বারিধারায় স্নাত হোক অশ্লীলতা
বাঙালিরা বাংলায় কথা বলে, মনের ভাব প্রকাশ করে। বাংলায় গান
বিস্তারিত
ইসলামি দৃষ্টিকোণে বাইয়ে সালাম
‘সালাম’ আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ প্রদান করা, অর্পণ করা।
বিস্তারিত
অপচয় রোধে সচেতন হোন
দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাকে দান
বিস্তারিত
চারটি আয়াতে সুস্বাস্থ্যের গ্যারান্টি
সুস্থতা আল্লাহর বড় নেয়ামত। জীবনের স্বাদ-আনন্দ উপভোগ করতে সুস্বাস্থ্য আবশ্যক।
বিস্তারিত