বারোমাসি আমে লাভ বহুগুণ

ফুলতলা উপজেলার পূর্ব মশিয়ালী গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বারোমাসি আমবাগান। মল্লিকা আর আম্রপালি নামের আমগাছ সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে এখানকার উর্বর মাটিতে। দেখে মনে হবে যেন রাজশাহীর আম বাগানের একখ- প্রতিচ্ছবি।

মশিয়ালীর ১৪ পরিবার বারোমাসি আমের আবাদ করছে বছর পাঁচেক ধরে। নিজেদের সংসারের চাহিদা মিটিয়ে ভালো দামে বিক্রি করে প্রতিবছর। অন্য ফসলের তুলনায় আমের আবাদে লাভ হচ্ছে প্রায় ৪০ গুণ।

খুলনা-মংলা রেললাইনের ফুলতলা অংশের পশ্চিম সীমানাজুড়ে পূর্ব মশিয়ালী গ্রাম। হর্টিকালচার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গ্রামটিকে বেছে নেয় আম উৎপাদনের জন্য। বছর পাঁচেক আগে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় আমের চারা। কুল, ছফেদা ও আম উৎপাদনের সহযোগী হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় এখানে গড়ে উঠেছে মশিয়ালী পূর্বপাড়া আইপিএম ক্লাব। এ ক্লাবের উদ্যোগে নভেম্বরের শেষ দিকে ৩০ জন ফল চাষিকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

কৃষি বিভাগের বিনামূল্যের পাওয়া চারা নিয়ে ঈসা খাঁ, এস এম কামাল হোসেন, গোলাম সরোয়ার, আনছার মোড়ল, ডালিম শেখ, আলম মাস্টার, রবিউল ইসলাম, মুজিবর রহমান, আবদুুল গনি ফরাজি, মিজানুর রহমান, ফেরদৌস শেখ, শহিদুল ইসলাম, রায়হান উদ্দিন গাজী, খলিলুর রহমান ও আলম শেখ গড়ে তুলেছে আম বাগান।

বাগানের পরিচর্যায় বছরে একবার কীটনাশক ও দুই দফা সার প্রয়োগ করতে হয়। নিত্য দিন শ্রমদানের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না পাহারা দেয়ার। আম চাষি ঈসা খাঁ উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন। তারপর কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়েন। হর্টিকালচারের দেয়া চারায় এক একর জমির উপর ২০০ আমগাছ রোপণ করেন। ২০১১ সালের কথা। কারিগরি দিক বিবেচনা করে বেশি উৎপাদনের আশায় প্রথম বছর আমের মুকুল ভেঙে দেয়। ২০১৩ সাল থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গেল মৌসুমে এ বাগানে উৎপাদিত ৩৬ মণ আম ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

বছরে একবার কীটনাশক স্প্রে, জ্যৈষ্ঠ মাস শেষে এবং আশ্বিন মাসের শেষের দিকে আম গাছের গোড়ায় টিএসপি, এমওপি, জিংক, ইউরিয়া ও গোবর সার প্রয়োগ করতে হয়। খরচ স্বল্প বলে তিনি জানান।
অপর আম চাষি এস এম কামাল হোসেনের দেয়া তথ্য মতে, বাগানে তিন বছর ধরে আম উৎপাদন হচ্ছে। এখানে আমগাছের সংখ্যা ১৭০টি। ৩২টি গাছে উৎপাদন হয়েছে গেল বার। কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। বিক্রি হয় ২৫ হাজার টাকা।

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিনা খাতুন বলেছেন, পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে মশিয়ালী গ্রামটাকে বেছে নেয়া হয় আম আবাদের জন্য। এখানকার আম চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী বছর নাগাদ আম চাষের পরিধি বাড়ানো হবে। হর্টিকালচারের সহযোগিতায় নড়াইল, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় অনুরূপ আমবাগান গড়ে উঠেছে।


কৃষি সংস্থার সবাই যেন একেকজন
মেধা, ইচ্ছা শক্তি আর অভিজ্ঞতা থাকলে কোন বাধাই কাউকে থামিয়ে
বিস্তারিত
পীরগঞ্জের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন কেন্দ্র
বিস্তারিত
রংপুরে কৃষকরা শীতের আগাম সবজি
রংপুরের কৃষকরা এখন শীতের আগাম সবজি চাষে উঠে-পড়ে লেগেছে। আগাম
বিস্তারিত
ড্রাগনে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন নকলার
ড্রাগন ফল চাষে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেক
বিস্তারিত
দেশি মাছ চাষে লাখপতি নকলার
গত এক দশক ধরে শেরপুরের প্রতিটি উপজেলায় মাছ চাষ বাড়ছে।
বিস্তারিত
গাভী পালন করে স্বাবলম্বী কচুয়ার
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ দক্ষিণে
বিস্তারিত