শরবত বিক্রি করে একযুগ পার

সোমবার দুপুর ২টা। চলছে গ্রীস্মের দাবদাহ। আর সেই দাবদাহ থেকে নিজে ও রাজধানীবাসীর স্বস্তি দিতে শুরু করেছেন শরবতে ব্যবসা। হ্যাঁ বলছি মিরপুরের শরবত ব্যবসায়ী আতিকের কথা।

আতিকের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদি। ১৩ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস। মূলত আতিকের ব্যবসা গরমের সময় শরবত বিক্রি করা। আর শীতের সময় গরম কাপড় বিক্রি করায় তার মূল পেশা। এই ব্যবসায় লাভও হয় মোটামুটি ভাল। গরমের দিনে বেঁচাবিক্রি বেশি হয় তাই লাভের অংকটাও হয় বেশি।

আতিক মিরপুর ১০ নম্বরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশে শরবত বিক্রি করে। দুপুরে রোদে শরবত পান করার জন্য যায় আতিকের দোকানে। তখন শরবত পান করার ফাঁকে কথা হয় আতিকের সঙ্গে।

আতিকের দিনে আয় ৭০০টাকা থেকে ১০০০টাকা। সারাদিন বিক্রি করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরা আতিকের। সারা দিন পর বাজার সদায় করে বাড়ি ফেরেন আতিক। এই ভাবেই চলছে আতিকের একযুগের সংসার।

আতিকের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪জান। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামী-স্ত্রী। ছোট ছেলে ইমরান ও বড় মেয়ে সাবিনা। মেয়ে মিরপুর বাংলা স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। আর ছেলের বয়স ২ বছর।

আতিকের সঙ্গে কথার ফাঁকে প্রশ্নও করা হয়। শরবত বিক্রির জন্য আপনি কোন জায়গা থেকে লেবু, বরফ, লবণ, বিট লবণ এগুলো কিনে আনেন। আতিকের উত্তর লেবু কিনি মিরপুর ১ নম্বর থেকে আবার মাঝে মাঝে কারওয়ান বাজার থেকেও কিনি। আর বরফ কিনি মিরপুর কাঁচা বাজার বরফ কারখানা থেকে।

আতিকের কাছে প্রশ্ন করা হয় এই বরফ কি মাছের? তখন আতিক বলেন কিনে আনি বরফ ফ্যাক্টরি থেকে। মাছের বরফ আলাদা। আমি মাছে দেয়া বরফ কিনি না। মাছে দেয়া বরফ দিলে মানুষের শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয় তাই বরফ কেনার সময় হিসেব করে বরফ কিনি।

অতিকের দোকানে শরবত পান করতে আসা জহিরের সঙ্গে কথা হয়। জহির একটা বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরি করে। বললাম আপনি কি প্রত্যেকদিন আতিক ভাইয়ের শরবত খান। জবাবে জহির বলেন আমি যখনই এই পথ দিয়ে যায় তখনই এই লোকের শরবত খায়। খুব ভালো বানায় এবং পরিষ্কার পরিচ্ছিন্ন। এখানে শরবত খেয়ে কোনো দিন কোনো সমস্যায় পড়িনি।
আতিকের চলছে ব্যবসা। তাই মনে আনন্দের সঙ্গে দুই হাত চলছে দ্রুত গতিতে। স্কুল ছুটি হলে আবার মেয়েকে আনতে যাবে। আতিকের ইচ্ছা মেয়ে বড় হয়ে লেখা পড়া শিখে বড় চাকুরি পাবে তখন আর আমার কাজ করতে হবে না।

এই ভাবেই আতিকের সঙ্গে কথা প্রায় ৫০ মিনিট। আতিক বললো আমি মানুষকে ঠকাতে চায় না। তাই আমিও ঠকি না। সৎ পথে উপর্জন করে ছেলে-মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করতে চায়। তারা যেন আমার কষ্টের কথা স্মরণ করে ভালোভাবে পড়া লেখা করে। আর আমি যেন সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে পারি।

আতিকের সঙ্গে রাজনীতির বিষয়েও কথা হয়। তখন বলেন দেশ ভালোই চলছে। আমরা শান্তি মতো ব্যবসা করতে পারছি। কারও কোনো চাঁদা দিতে হয় না। এখানে আসি ভ্যান নিয়ে আবার বেচাবিক্রি করে চলে যায়। তবে আতিকের প্রশ্ন দেশ এইভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে মানুষের আর কোনো কষ্ট থাকবে না। আতিক আরও বলেন ঢাকা শহরে প্রায় দুই কোটি লোকের বসবাস তাই একটু যানজট বেশি। তবে সরকার যেভাবে ফ্লাই ওভার নির্মাণ করছে যানজট মনে হয় আর থাকবে না।

তবে আতিক বলেন, জীবনযাপনের মান বাড়ছে তাই খরচ বাড়ছে লাগামহীন। সরকারের উচিৎ হবে সবকিছুতে সামঞ্জ্য বজায় রাখা।


তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারি অনুদানে নির্মিত
ছোটবেলায় সিনেমা হলে গিয়ে অনেক ছবি দেখতাম। চলচ্চিত্রের একটা অদৃশ্য
বিস্তারিত
ভোলায় প্রান্তিক মানুষের আস্থা গ্রাম
ভোলায় ৫ টি উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের
বিস্তারিত
পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত