বগুড়ার পানিফল চাষীর সুদিন ফিরেছে

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পতিত জলাশয়ে দৃষ্টিনন্দন পানিফলে গাছ ভরে গেছে। চাষ যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে পানি ফলের চাহিদা ও বেচাকেনা। কম খরচে লাভজনক এ ফল চাষ করে অনেক চাষীর সুদিন ফিরেছে।

প্রতি হেক্টরে ২৫ টন পানি ফল উৎপাদন হয় বলে জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন, আশ্বিন থেকে শুরু করে শীতকাল জুড়েই পানিফল তুলতে চাষীরা ব্যস্ত থাকে। গাবতলী ছাড়াও জেলার অন্য  উপজেলায় পানিফলের চাষ হয়ে থাকে, তবে তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। মৌসুমের শুরুতে দাম একটু বেশি হলেও এখন কিছুটা কমে এসেছে।  এ ফলের কোনো বীজ নেই। লতাপাতার মতো সারা বছরই জলাশয়ে ভাসতে দেখা যায় পানিফলের গাছ। নিচু এলাকার বিল-জলাশয়ে মৌসুমি ফসল হিসেবে পানিফল চাষ হয়। মাছের সঙ্গে মিশ্রভাবেও চাষিরা এ ফল চাষ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মুহাম্মদ আহসান শহীদ বলেন, মৌসুমে ২-৩ বার পানি ফল আহরণ করা যায়। এটি পানিতে ভরপুর এবং প্রচুর খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল। শহর-গ্রামে সবখানেই এ ফলের চাহিদা রয়েছে। সেদ্ধ করেও এ ফল খাওয়া যায়। বাজারে কাঁচা ফলের পাশাপাশি সেদ্ধ ফলও বিক্রি হয়ে থাকে। লাভজনক হওয়ায় পানিফল চাষ এ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, দিনভর বিল-জলাশয় থেকে পানিফল তুলছেন চাষীরা। কাঁকডাকা ভোরে ভ্যানগাড়ি-ভটভটিতে বস্তায় ভরে এ পানিফল বিক্রির জন্য নিচ্ছেন বগুড়া শহরের চেলোপাড়া চাষিবাজারে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভোরবেলা চাষি আর ব্যাপারীদের আনাগোনায় সরগরম এ বাজার। প্রতিদিন গড়ে ১০০ মণ পানিফলের আমদানি হয় চাষীবাজারে। সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যেই শেষ হয় কেনাবেচা।

গাবতলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বহু বছর ধরেই এ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানিফল চাষ হচ্ছে। অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই পানিফল চাষ বাড়ছে। গতবছর শীত মৌসুমে উপজেলায় পানিফল চাষ হয়েছিল ৭০০ হেক্টর জমিতে। গতবছর এ ফল চাষে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হওয়ায় এবার ৭৫০ হেক্টর বিল-জলাশয়ে এ ফলের চাষ হয়েছে।

উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের গাড়ামারা বিলের ২৫ বিঘা জলাশয় পত্তনী নিয়ে পানিফল চাষ করেছেন তেরপাখি গ্রামের মুকুল হোসেন। তিনি জানান, ২৫ বিঘা বিল একবছরের পত্তনীর জন্য মালিকদের দিতে হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। পানিফল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এক মাস ধরে ক্ষেত থেকে পানিফল তুলছি। এরই মধ্যে ১০০ মণ পানিফল তুলে বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি। পানিফল চাষী মুকুল বলেন, এক সময় দিনমজুরি দিতাম। পরে পানিফল কেনাবেচা ব্যবসা শুরু করি। এখন পানিফল চাষ করে সংসারে সুদিন ফিরেছে।

উপজেলার গোড়দহ বিলের পানিফল চাষী ফটু মিয়া বলেন, এক সময় সহায়সম্বল কিছুই ছিল না। পানিফল চাষে এখন সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। অন্যবছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম দুটোয় ভালো পাচ্ছি। শীতকালে ফল আহরণ শেষ হলে বিলের পানিতে ফলের চারা থেকে যায়। ধীরে ধীরে সেই চারায় লতাপাতা ছড়িয়ে পড়ে। বেড়ে যায় গাছের সংখ্যা। পানির নিচের দিকে যেতে থাকে শিকড়। বর্ষাকালে গাছে গাছে লতাপাতায় ভরে যায়। গাছে রোগবালাই হলে কিছু কীটনাশকও ছিটাতে হয়। ভাদ্র মাস থেকে গাছে ফল আসা শুরু হয়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফল বিক্রি শুরু হয়। প্রায় প্রতিদিন ক্ষেত থেকে ফল তোলা যায়।

গাবতলীর গোড়দহ বিলের ৩৫ বিঘার জলাশয়ে এবার পানিফল চাষ করেছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরেই পানিফল চাষ করছি। গত দুই মৌসুমে খরচ বাদে ৫ লাখ টাকা লাভ করেছি। ব্যাপারীরা দরদাম করে এসব পানিফল কিনছেন। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে পানিফল কিনতে বগুড়ার চাষিবাজারে এসেছিলেন মৌসুমী ব্যবসায়ী মফিদুল ইসলাম। ২০ মণ পানিফল কিনেছেন।  তিনি বলেন, প্রতিমণ পানিফল ৫২০ টাকা দরে কিনেছেন।

চাষীবাজারের পানিফলের ব্যাপারী বশির উদ্দিন বলেন, একমাস আগে মৌসুমের শুরুতে প্রতিমণ পাকা পানিফল ১ হাজার ৮০০ এবং লালরঙের পানিফল প্রতিমণ ১ হাজার টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে বাজারে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা মণ দরে পানিফল বিক্রি হয়েছে। ফেরি করে বিক্রেতা রবিউল জানালেন, মঙ্গলবার ৬০ কেজি কিনেছেন ১৩ টাকা কেজি দরে। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিক্রি শেষ হবে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১০০ মণ পানিফলের আমদানি হলেও চলতি সপ্তাহে তা বাড়ছে। আর এক সপ্তাহ বাজারে এ ফল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। সূত্র বাসস।


তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারি অনুদানে নির্মিত
ছোটবেলায় সিনেমা হলে গিয়ে অনেক ছবি দেখতাম। চলচ্চিত্রের একটা অদৃশ্য
বিস্তারিত
ভোলায় প্রান্তিক মানুষের আস্থা গ্রাম
ভোলায় ৫ টি উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের
বিস্তারিত
পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত