ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ান হতে পারে আপনার পেশা

রূপচর্চার বিষয়টি আবহমানকাল ধরে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ধরণটা গেছে বদলে। আর সে কারণেই এখন বিউটিশিয়ানদের চাহিদা তৈরি হয়েছে প্রায় সব স্থানেই। শহর কিংবা গ্রাম, সব জায়গাতেই এখন রয়েছে বিউটিশিয়ানদের চাহিদা। তাই যারা বিউটিশিয়ানদের মধ্যে একটু ব্যতিক্রমী করে নিজের ক্যারিয়ারকে গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ান হয়ে ওঠার।

ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ানের ধারণাটি আমাদের জন্য খানিকটা নতুন। সাধারণত মানুষ এখন রূপচর্চার জন্য বিউটি পার্লারগুলোতেই প্রফেশনাল বিউটিশিয়ানদের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। তবে যাদের প্রফেশনাল বিউটিশিয়ানের দক্ষতা রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট বিউটি পার্লারের ওপর নির্ভর না হয়ে, একটি নির্দিষ্ট স্থানে থিতু না হয়ে পেশাগত দক্ষতার চর্চা করতে পারেন সবার মাঝে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন নিজ কাজের ক্ষেত্রে। ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ানদের সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হচ্ছে এর জন্য আপনাকে শুধু রূপচর্চায় অভিজ্ঞ হলেই চলবে। এর জন্য প্রয়োজন নেই দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন, কর্মচারী ও আলাদা বিউটিশিয়ান কিংবা বড় পুঁজির ভাবনা। আন্তরিকতা আর নিষ্ঠা থাকলে আপনার কাজের দক্ষতাই এনে দেবে সফলতা। আবার এ কাজের জন্য ধরাবাঁধা সময়ও নেই। যার অর্থ হচ্ছে, এ পেশায় আপনি পুরোপুরি নিজের মতো করে কাজ করতে পারবেন। তবে একটা বিষয়ে লক্ষণীয়, কাজের দক্ষতা থাকতে হবে পুরো মাত্রায়।
যে যোগ্যতা দরকার
ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ান হতে চাইলে আপনাকে রূপচর্চার প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে জানা থাকতে হবে; থাকতে হবে ত্বক ও চুল সম্পর্কে ভালো মেডিকেল সেন্স। সময়ের চাহিদাকেও বুঝে চলতে হবে। পরিবেশ বুঝে পোশাক-পরিচ্ছদ, রঙ, উপস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে। এসব বিষয়ে দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য একাডেমিক পড়ালেখা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এসএসসি উত্তীর্ণ হলে ভালো হয়। রূপচর্চাবিষয়ক কোর্স করতে গেলেও এসএসসি উত্তীর্ণ হতে হয়। ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ান হতে চাইলে আপনাকে রূপচর্চার গতানুগতিক সব বিষয়ই দক্ষ হতে হবে। রূপচর্চার বিষয়বস্তু গভীরভাবে জানতে হলে তাই বিভিন্ন ধরনের কোর্স করতে পারেন। আবার কোনো ভালো পার্লার থেকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও নিতে পারেন। অনেক পার্লারেই ইন্টার্নশিপ বা এ জাতীয় সুযোগ থাকে। তা গ্রহণ করতে পারেন।
এ বিষয়ে কোর্স করে নিতে পারেন
দক্ষতা বাড়াতে এ বিষয়ে কোর্স করাটা আবশ্যক। আমাদের দেশে রূপচর্চায় বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন মেয়াদের কোর্স করিয়া থাকে। কোর্সের মেয়াদের ওপরই নির্ভর করে এসব কোর্সের খরচ। এ বিষয় রয়েছে ছয় মাস মেয়াদি বেসিক ফুল কোর্স, তিন বা আড়াই মাস মেয়াদি লং কোর্স এবং এক মাস বা ১৫ দিন মেয়াদি কিছু শর্ট কোর্স। শর্ট কোর্সগুলোয় সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বিষয়ই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আবার লং কোর্সগুলোয় পরস্পরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একাধিক বিষয় নিয়ে প্যাকেজ আকারে কয়েকটি আইটেম শেখানো হয়। আর বেসিক ফুল কোর্সের আওতায় মূলত সব ধরনের রূপচর্চার বিষয়গুলোই থাকে। বিউটিশিয়ান হতে চাইলে রূপচর্চার কোর্স করতে গেলে আপনাকে বেশিরভাগ কাজই করতে হবে হাতে-কলমে। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণই থাকে কোর্সের প্রায় ৭০ ভাগ। আর বাকি ৩০ ভাগ থাকে রূপচর্চার তাত্ত্বিক পড়ালেখা। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ক্ষেত্রেই উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রতিষ্ঠানভেদে কোর্সের খরচ কমবেশি হয়ে থাকে। তবে বেসিক ফুল কোর্সে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগে। লং কোর্সগুলোর খরচ ২০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা। শর্ট কোর্সগুলো করা যাবে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
সফলতা যেমন আসতে পারে
প্রাথমিকভাবে ভ্রাম্যমাণ বিউটিশিয়ান হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে প্রথমেই আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে নিজের এ প্রচারের কাজটা করে যেতে হবে। পরে পরিচিতি বাড়াতে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। বিভিন্ন এলাকায় লিফলেটও বিলি করতে পারেন। ভিজিটিং কার্ড তো থাকতেই হবে। যেখানেই যান না কেন, নিজের ভিজিটিং কার্ডটি বিতরণ করতে ভুলবেন না। তবে সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি লাগবে মানসস্মত সেবা এবং কাস্টমারের সঙ্গে সুন্দর আচরণ।
আরও যা প্রয়োজন
আপনি যে ধরনের কাজ করবেন, তার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রযয়োজনীয় উপকরণ কিনে নিতে হবে। শুরুতেই বাড়তি অনেক কিছু কেনার প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন ধরনের মেকআপ, কনসিলার, ফেস পাউডার, গ্লসি পাউডার, শেড ও চোখের সাজ, ঠোঁটের সাজ, নখের সাজ, হেয়ার কাট, ফেসিয়াল, থ্রেডিং, মেনিকিউর, পেডিকিউর, ম্যাসেজ, স্পা, চুল রঙ করা, ব্লিচ, চুল কার্লি-স্ট্রেইটসহ রূপচর্চার অন্যান্য কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে নেবেন। তবে উপকরণ যা কিনবেন, তা যেন ভালো ব্র্যান্ডের হয়, সেটি খেয়াল রাখবেন। আর এগুলো কোনোভাবেই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া চলবে না। শুরু থেকেই ভালো সেবা দিতে পারলে দেখবেন অল্পদিনের মধ্যে নানা জায়গা থেকে অফার পেতে শুরু করেছেন।


বই পড়তে চাইলে
ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আছে গ্রন্থাগার, একটু খোঁজ নিলেই সদস্য হতে
বিস্তারিত
এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার
বিশ্বায়নের এই যুগে পরিবর্তনের একটি অপরিহার্য মাধ্যম হলো উড়োজাহাজ। বাংলাদেশসহ
বিস্তারিত
ক্যারিয়ার গড়তে দ্বারস্থ অনলাইনের
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রও
বিস্তারিত
ক্যারিয়ার গড়তে নটিক্যাল সায়েন্স
পড়াশোনা শেষে একটি ভালো চাকরি কে না চায়। তবে প্রতিযোগিতামূলক
বিস্তারিত
পড়ার বিষয় সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ
আজকাল শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নবিত্ত কারোরই জীবনে মিডিয়ার অনুপস্থিতি
বিস্তারিত
বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে ১০
বিশ্বায়নের সবচেয়ে বড় সুফল পেয়েছে শিক্ষা। কৃত্রিম সীমান্তের জটিলতা পেরিয়ে
বিস্তারিত