মূলা ও লাল শাক চাষে কৃষকের অভাব দূর

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজি মুলা ও লাল শাক। এখানকার কৃষকদের লাল শাকে লাল আর মূলা শাকে সবুজ রঙে একখণ্ড বাংলাদেশের একটি চিত্র ফোটে উঠেছে।

মাঠ জুড়ে কৃষকের লাল-সবুজ স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুয়াজ্জিনের আযান কানে আসার সঙ্গে সঙ্গে সকালের কুয়াশা মাড়িয়ে মাঠে ছুটে যান কৃষক। শীতকালে যেদিকে চোখ যায় ফসলের মাঠের সতেজ রূপ দৃষ্টি কাড়ে। প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের যত্নে গড়ে তোলা লাল-সবুজ বাগান দেখে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও পনেরটি ইউনিয়নের সব জায়গায় কমবেশি সবজি চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার চরআলগী, টাঙ্গাব, পাঁচবাগ ও দত্তের বাজার ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক কালের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে বিস্তৃত মাঠ জুড়ে মূলা ও লাল শাক চাষ হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে উঠা চরে যতদূর চোখ যায় শুধু মূলা আর লাল শাক ক্ষেতে সবুজ আর লালের সমারোহ। চরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে এবার আশাতীত মূলা ও লাল শাক চাষ হয়েছে।

উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ, বালুয়াকান্দা, জয়ারচর, চরকামারিয়া, নিধিয়ারচর, বগামারারচর ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের খুরশিদমহল গাভীশিমুল, নামকাইল, দিঘীরপাড়, শাঁখচূড়া, দুগাছিয়া ও দত্তেরবাজার এবং টাঙ্গাব অঞ্চলে প্রচুর শীতকালীন শাক-সবজি চাষ হয়।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে উঠতে শুরু করেছে এসব শাক-সবিজ। তবে দাম একটু বেশি। তারপরও শীত পড়ার আগেই শীতের শাক-সবজি পেয়ে খুশি মনেই কিনছেন ক্রেতারা। আগাম মূলা ও লাল শাকের গন্ধ ও স্বাদ অনেকটাই আলাদা। এসব শাক-সবজির ব্যাপক চাহিাদা থাকায় কৃষকরাও দিন দিন সবজি আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

গত কয়েক বছর যাবত গফরগাঁওয়ের কৃষকরা শীতের আগেই শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারছেন। কৃষকরা জানান, একটু আগে শীতের শাক-সবজি বাজারের তুলতে পারলে প্রচুর লাভবান হওয়া যায়। পাশাপাশি লোকশানের কোন ভয়ও থাকেনা।

চর সালটিয়া গ্রামের কৃষক নাজুল জানান, এবার সে এক একর জমিতে মূলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন। এক একর জমিতে তার প্রায় ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিনি আশা করছেন বর্তমানে বাজারে যে দাম রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে অন্তত ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মূলা ও লাল শাক বিক্রি করতে পারবেন।

একই গ্রামের কৃষক করিম মিয়া তিনিও ১ একর জমিতে লাল শাক ও মূলা শাকের আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ১০-১২ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন। আরও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার শাক বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।
এছাড়াও কৃষক নাজমুল মিয়া, নজরুল ইসলাম, আঃ রশিদসহ আরো অর্ধশতাধিক কৃষক মূলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন।

তাদের মতো উপজেলার চরআলগী, টাঙ্গাব, দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের আরো আড়াই শতাধিক কৃষক মূলা ও লাল শাকের আবাদ করেছেন। শাক-সবজি চাষে প্রচুর লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি ও জীবনযাত্রার মান বদলাতে শুরু করেছে।

এ ছাড়াও টাঙ্গাব ইউনিয়নের বামনখালী গ্রামের কৃষক নূর ইসলাম, হাদিউল ইসলাম, আল আমিন, ডাকবাংলো গ্রামের কৃষক এখলাছ, সাইফুল আসাদ তারা প্রত্যকেই এক একর করে জমিতে মূলা ও লাল শাকের আবাদ  করেছেন। নিজেরা পরিশ্রম করার কারণে তাদের প্রতি একরে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
তারা জানান, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে একরে ৮০ হাজার টাকার শাক বিক্রি করতে পারবেন।
এত সফলতার পরও কৃষকদের প্রধান সমস্যা উৎপাদিত এসব রবি শস্যের পরিবহন নিয়ে। রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় মাঠ থেকে ফসল প্রধান বাজারে নিয়ে যেতে তাদের যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস, এস ফারহানা হোসেন জানান, উপজেলায় এবার প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে মূলা ও লাল শাক আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন শাক-সবজি চাষ অধিকাংশ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার অসংখ্য কৃষক এসব চাষ করে থাকেন। উপার্জনের দিক দিয়ে এ উপজেলার মানুষ কোন ভাবেই পিছিয়ে নেই।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত