বিষাক্ত বাতাস আক্রান্ত ১৭ মিলিয়ন শিশু

বায়ু দূষণ কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান ইউনিসেফের

ইউনিসেফের তথ্যমতে, প্রায় ১৭ মিলিয়ন শিশু এমন এলাকাগুলোতে বসবাস করে, যেখানে বায়ু দূষণের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার চেয়ে অন্তত ছয়গুণ বেশি। যার ফলে তাদের বিষাক্ত বায়ুতে শ্বাস নিতে হয়; যা তাদের মস্তিষ্কের বিকাশকে ঝুঁকিতে ফেলে। এসব ছোট্ট শিশুর তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি বিষাক্ত বায়ু কীভাবে ছোট শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে, সে বিষয়ে উত্থাপিত প্রমাণের উপর ভিত্তি করে বায়ু দূষণ কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে।

‘বায়ু দূষণ কীভাবে ছোট শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়া হলে তা সুনির্দিষ্টভাবে মস্তিষ্কের টিস্যু এবং জ্ঞানের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; যার বিরূপ প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয় জীবনভর।

এ বিষয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বলেন, 'দূষণ শুধু শিশুর ফুসফুসের গঠনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটা স্থায়ীভাবে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; যা তাদের ভবিষ্যতকেই ক্ষতির মুখে ফেলে। বায়ু দূষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা গেলে তাতে শুধু তাদেরই উপকার নয়, সমাজও স্বাস্থ্যসেবা খরচ সাশ্রয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর উপকারিতা পায় এবং প্রত্যেকের জন্য একটি নিরাপদ-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়।’

আনুপাতিক হিসেবে দক্ষিণ এশিয়াতেই সবচেয়ে বেশি শিশু সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাস করে, ১২ দশমিক দুই মিলিয়ন শিশু এমন এলাকায় থাকে যেখানে বাইরের বাতাসে দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত আন্তর্জাতিক সীমার চেয়ে ছয়গুণ বেশি। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চার দশমিক তিন মিলিয়ন শিশু এমন এলাকায় থাকে যেখানে দূষণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার ছয়গুণ ছাড়িয়ে যায়। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবির বরাত দিয়ে ইউনিসেফ এ তথ্য প্রদান করে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জীবনের প্রথম সংকটময় এক হাজার দিনে অপর্যাপ্ত পুষ্টি, উদ্দীপনা ও সহিংসতার মতো বায়ু দূষণও শিশুদের মস্তিষ্কের প্রারম্ভিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে শৈশবের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে সর্তক করে দিয়ে বলা হয়েছে, অতিসূক্ষ্ম দূষণ কণাগুলো এতোই ছোট যে সেগুলো রক্তপ্রবাহে ঢুকে পড়তে পারে, মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে এবং ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ারকে নষ্ট করে দিতে পারে; যা স্নায়ু প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে। অতিসূক্ষ্ম ম্যাগনেটাইটের মতো কিছু দূষণকণা ঘ্রাণজনিত স্নায়ু এবং অন্ত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং তাদের চৌম্বকীয় শক্তির (ম্যাগনেটিক চার্জ) কারণে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করতে পারে; যা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের কারণ। পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো অন্য ধরনের দূষণ কণাগুলো মস্তিষ্কের এমন অংশের ক্ষতি করতে পারে, যেসব অংশ মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে ও শিশুদের শিক্ষা এবং বিকাশের ভিত্তি রচনা করে।


গাজীপুরে মসজিদের ভেতর গলাকাটা মরদেহ
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় একটি মসজিদের ভেতর থেকে এক নৈশপ্রহরীর গলাকাটা
বিস্তারিত
চট্টগ্রামে পেপার মিলে মেশিনের আঘাতে
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পেপার মিলে কাজ করার সময় পেপার মিলে আঘাত
বিস্তারিত
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচন:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ
বিস্তারিত
শ্রীনগরে মাইক্রোবাস চাপায় পথচারী নিহত
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাইক্রোবাস চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর)
বিস্তারিত
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা:
সুনামগঞ্জের পৌরসভার নবীনগরে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার
বিস্তারিত
পাবনায় একই পরিবারের ৫ শহীদ
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাবনার একই পরিবারের ৫ শহীদ ভাইয়ের মৃত্যু
বিস্তারিত