রহমতের নবী এলেন দুনিয়ায়

সমগ্র পৃথিবী অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুম-নির্যাতনের কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গিয়েছিল। অচল হয়ে পড়েছিল সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো। অধঃপতনের চরম সীমায় পৌঁছেছিল পৃথিবীর অবস্থা। ছিল না মানুষে মানুষে মানবতা ও আত্মার বন্ধন। পৃথিবীবাসী চাতকের মতো তাকিয়ে ছিল কখন আসবে সে মহামানব, যার দ্বারা পৃথিবীর অন্ধকার আলোয় পরিণত হবে। জুলুম-নির্যাতন বন্ধ হয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে। এমনই মুহূর্তে রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখ মোতাবেক ২৯ আগস্ট ৫৭০ ঈসায়ি সনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ ধূলির ধরায় জন্মগ্রহণ করেন। 

হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মের সময় তৎকালীন অন্যতম পরাশক্তি পারস্য সম্রাটের রাজপ্রাসাদে কম্পন দেখা দিয়েছিল এবং প্রাসাদের ১৪টি গম্বুজে ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে পারস্যের অগ্নি উপাসকদের অগ্নিমন্দির অকস্মাৎ নিভে গিয়েছিল, যা হাজার বছর ধরে জ্বলছিল। তাতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মই পৃথিবীবাসীর জন্য হেদায়তস্বরূপ এটাই প্রমাণ হয়েছিল। 
হজরত হালিমা সাদিয়া (রা.) মহানবী (সা.) কে দুধ পান করানোর জন্য নিজের ঘরে নিয়ে যান, তখনই হালিমা (রা.) এর ঘরে বরকতের ধারা প্রকাশ পেত লাগল। হজরত হালিমা (রা.) বলেন, আমরা স্তনে দুধ কম ছিল। কিন্তু এখন আমার স্তন দুধে পরিপূর্ণ, এমনকি আমার উটনির স্তনেও বৃদ্ধি দেখা গেল। তিনি আরও বলেন, আমার একটি দুর্বল গাধা ছিল। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার ঘরে নিয়ে আসার পর গাধাটি সবল ও দ্রুতগামী দেখতে পাচ্ছি। বস্তুত মহানবী (সা.) বরকত ও হেদায়তের আলো নিয়ে রবিউল আওয়াল মাসে এ ভুবনে জন্মগ্রহণ করেন। 
মহানবী এক আল্লাহর ইবাদত ও সৎভাবে জীবনযাপনের দাওয়াত দিলেও মক্কাবাসী তার চরম বিরোধিতা করে। এমনকি মহানবী (সা.) কে পৃথিবীর বুক থেকে বিদায় করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তখনই তিনি আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় সাথীদের সঙ্গে নিয়ে মদিনার দিকে হিজরত করেন। মহানবী (সা.) মদিনাবাসীকে সত্যের পথে দাওয়াত দিতে শুরু করেন। এভাবে মদিনাকে একটি ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলেন। মদিনায় একটি কল্যাণধর্মী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সমাজিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। 
প্রাক-ইসলামী যুগে নারীদের সামাজিক কোনো মর্যাদা ছিল না, সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হতো, যখন ইচ্ছা তখনই তালাক দিয়ে দিত, কন্যা শিশুকে জীবিত কবর দেয়া হতো। এ নিষ্ঠুরতা থেকে নারীদের মহানবী (সা.) মুক্তি দিয়েছেন। নারীদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জাহেলি যুগের অন্ধকারকে আলোয় পরিণত করেন। 
মহানবীর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হজরত জাবের (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে এমন পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে, যা আমার আগে আর কাউকে দেয়া হয়নি। ১. আমাকে এক মাসের দূরত্বের মধ্যে ভীতি সঞ্চার দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি কোথাও গেলে এক মাইলের দূরত্ব পর্যন্ত তার আধ্যাত্মিক প্রভাব পরিব্যপ্ত হতো। ২. আমার জন্য মাটিকে মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের উপাদান বানানো হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তির যেখানেই নামাজের সময় হয়ে যাবে, সে সেখানেই নামাজ আদায় করে নিতে পারবে। (আগেকার নবীদের উম্মতরা শুধু উপাসনালয়ে উপাসনা বা প্রার্থনা করতে পারতেন)। ৩. আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে, যা এর আগে কারও জন্য হালাল ছিল না। ৪. আমাকে শাফায়াতের অধিকার দেয়া হয়েছে। ৫. প্রত্যেক নবী প্রেরিত হয়েছেন শুধু আপন আপন সম্প্রদায়ের জন্য; কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির জন্য।’ (মেশকাত : ৫৫০১)।


মহানবীর মহান আদর্শ
 রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার তাবৎ মানুষের সামনে শুধু কোরআনের শিক্ষাই পেশ করেননি, বরং
বিস্তারিত
ওমর (রা.) এর শাসন পদ্ধতি
হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)  আমিরুল মুমিনিন উপাধি ধারণ করে ২৩
বিস্তারিত
নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সাহাবায়ে কেরাম
রাসুল (সা.) কে ভালোবাসা একজন মোমিনের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। এ
বিস্তারিত
দ্বিতীয় খুতবা প্রসঙ্গ জেরুজালেম
স্বদেশ ও ইসলামী ভূখ-গুলোকে রক্ষা করা মানে ইসলাম ভিত্তি, মুসলমানের
বিস্তারিত
শীত-গ্রীষ্মের শিক্ষা ও আল কুদস
যুগের ধারাবাহিক আবর্তন, ঋতুর পালাবদল, মাসের পর মাসের আগমন ও
বিস্তারিত
সাপ মারার শরয়ি বিধান
সাপ হাত-পা ও মেরুদ-হীন সরীসৃপ প্রজাতির ধূর্ত একটি প্রাণী। বছরে
বিস্তারিত