রাজিন ফিরে এলো

রাজিনের মাথাটা ঘুরে এলো। তার পুরো শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল। দুই চোখ অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে এলো। অনেকক্ষণ ধরে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকল রাজিন। তারপর জামা-কাপড় গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় বেরিয়ে এসে একটা বাসে উঠল

রাজিন খুব দুষ্টু ছেলে। পড়াশোনায় তার একটুও মন নেই। সারাটা দিন শুধু দুষ্টুমি করে কাটায় প্রতিবেশী ছেলেদের সঙ্গে। এজন্য মা তাকে সবসময় বিভিন্নভাবে বোঝান। তাতে কোনো কাজ না হলে মাঝেমধ্যে বকাঝকাও করেন। মায়ের বকুনি রাজিনের সহ্য হয় না। তাই একদিন মায়ের সঙ্গে রাগ করে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একা একা চলে গেল রাজিন।
গিয়ে উঠল শহরের বন্ধুর মেসে। কিছুদিন ধরে সেখানে তার বন্ধুর সঙ্গে থাকছে। একটা ভাঙা একতলা দালানের মেসঘর। পুরনো আমলের বিল্ডিং। দেয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। বন্ধু কাজে চলে গেলে ঘরের মধ্যে একা একা বসে অতীতের সব কথা চিন্তা করে রাজিন। মনে পড়ছে বাড়ির কথা, মায়ের নির্দয়তার কথা...।
হঠাৎ করে চিকচিক শব্দে ঘরের একটা ভেন্টিলেটারের দিকে চোখ গেল রাজিনের। দেখল, দুইটি চড়–ই পাখি বাসা বেঁধেছে বেশ কিছু খড়কুটো এনে। তা থেকে আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে সারাটা ঘর। নোংরা হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। ভীষণ বিরক্ত লাগল রাজিনের। একটা লম্বা কাঠি এনে বাসাটা খোঁচাতে শুরু করল। ভেন্টিলেটারের মধ্যে থাকায় বাসাটা ভালোভাবে ভাঙা গেল না। কয়েকটা খড়কুটো ছিটকে এসে পড়ল।
আরও জোরে খোঁচাতে লাগল রাজিন। হঠাৎ থপ করে কি জানি একটা পড়ল ঘরের মেঝেতে। রাজিন চেয়ে দেখল, একটা তুলতুলে বাচ্চা। চোখ-কান ফোটেনি। পশমও ওঠেনি গায়ে। ওপর থেকে পড়ে ছিটকে বেরিয়ে গেছে সব নাড়িভুঁড়ি। বাঁ হাতে আলগোছো করে ধরে বাচ্চাটাকে ছুড়ে ফেলে দিল রাজিন।
সারারাত ঘুমাতে পারেনি রাজিন আর তার বন্ধু। বড় জ্বালাতন করেছে চড়–ই দুইটি। বাসা থেকে ঘন ঘন আছাড় খেয়ে পড়েছে মেঝেতে, যেখানে পড়ে থেতলে গেছে ওদের কচি বাচ্চাটা। বিচ্ছিরিভাবে কিচিরমিচির করেছে সারারাত। পাখা ঝাপটিয়েছে ভেন্টিলেটারের মধ্যে, দেয়ালের গায়ে। ভীষণ বিরক্তিতে রাজিনের কাটল সারারাত।
সকালে উঠে একটা উঁচু টুলে উঠে দাঁড়াল পাখির বাসাটা নির্মূল করে দেয়ার জন্য। হঠাৎ চমকে উঠল রাজিন। ভেন্টিলেটারের দিকে চেয়ে দেখল, আরও একটা বাচ্চাকে বুকের মধ্যে আগলে শঙ্কিতভাবে বসে আছে একটা চড়–ই পাখি। হয়তো বাচ্চাটার মা।
রাজিনের মাথাটা ঘুরে এলো। তার পুরো শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল। দুই চোখ অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে এলো। অনেকক্ষণ ধরে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকল রাজিন। তারপর জামা-কাপড় গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ল। রাস্তায় বেরিয়ে এসে একটা বাসে উঠল।
বাসায় পৌঁছে দরজায় ধাক্কা দিল। কাজের মেয়েটা এসে দরজা খুলে দিল। রাজিন ছুটে গিয়ে ঢুকল তার মায়ের ঘরে। দেখল, একা একা শুয়ে কাঁদছেন মা। কাঁদতে কাঁদতে তার চোখ দুটো ফুলে গেছে। দুই চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে।
রাজিন গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল মায়ের বুকে। ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমাকে তুমি ক্ষমা করো মা। আমি আর কখনও দুষ্টুমি করব না। কখনও দুষ্টু ছেলেদের সঙ্গে মিশব না। নিয়মিত পড়াশোনা করব। তোমার সব কথা মেনে চলব। 
মাকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগল রাজিন। কোনো কথা বলতে পারলেন না রাজিনের মা। ছেলেকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে ঝরঝর করে কাঁদতে লাগলেন...। 


মশা ও লেখক
লেখার টেবিলে বসে আছি দুই ঘণ্টা হয়। ছোট্ট টেবিলবাতি সেই
বিস্তারিত
বনপাখিটার মনটা খারাপ
  বনপাখিটার মনটা খারাপÑ ভাঙবে কীসে তাহার মান? বীথি তিথি ভেবেই
বিস্তারিত
বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
এলিয়েন এসেছিল
হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত