শরিয়তের দৃষ্টিতে জরিমানা আদায়

১. আর্থিক জরিমানা শরিয়তে জায়েজ নেই
এমন প্রত্যক্ষ কোনো দলিল তাদের হাতে নেই, যারা বিষয়টিকে জায়েজ মনে করেন না। তাই এদের বক্তব্য মেনে নেয়া মানে, প্রকারান্তরে ১৪০০ বছর ধরে অস্তিত্বে আসা নিত্যনতুন অনেক কিছু, যেমন ‘মাদরাসা শিক্ষা’, ‘খানকা’, ‘তাসাউফ’, ‘ইসলামী ব্যাংক’Ñ এসবই অবৈধের কাতারে গণ্য করার নামান্তর হবে। কেননা এসবের প্রত্যক্ষ দলিল বা নাম সরাসরি কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ নেই। 
২. রাষ্ট্রীয় বিষয় বা বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শরিয়া আইনের মূলনীতি অনুযায়ী ইমাম আবু ইউসুফের অভিমতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার বিধান রয়েছে। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এর অভিমত বা সিদ্ধান্ত যেহেতু আর্থিক জরিমানার পক্ষে, তাই এখানে আর বিতর্কের সুযোগ রইল কোথায়? (তাবঈনুল হাকায়েক : পৃ. ৬৩৪)। মোটকথা, উপরোক্ত সব দলিল, নজিরকে সামনে রেখে বলা চলে, প্রয়োজনক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার বিধান রচনাবিন্যাস করা এবং তা প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত হবে। 
৩. আর্থিক জরিমানা গ্রহণের অধিকার কার? 
এ প্রশ্নের জবাবে ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এর বক্তব্য, ‘সরকারের জন্য তাজির বিধি মোতাবেক অর্থদ-ের শাস্তি প্রয়োগ করা বৈধ’Ñ অনুসারে তা সরকার বা রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। আর রাষ্ট্রীয় অনুমোদন প্রাপ্তির মাধ্যমে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা পঞ্চায়েত কমিটি তা গ্রহণ করতে পারবে। অতঃপর তা এ সংক্রান্ত গঠিত ফান্ডে জমা রাখবে। নিজেরা কেউ তা কোনোভাবেই ভোগ বা আত্মসাৎ করতে পারবে না। 
৪. গৃহীত জরিমানার অর্থ কী হবে? 
ক. রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী এবং অপরাধের তারতম্য মতে ক্ষেত্রবিশেষে তা নির্দিষ্ট সময় পর ফেরত দেয়া হবে, যেমন সাধারণভাবে ফিকাহ-ফাতাওয়ার গ্রন্থগুলোতে রয়েছে। খ. ক্ষেত্রবিশেষে তা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে দিয়ে দেয়া হবে, যেমন ক্রমিক (২) এর ‘খ’ অনুচ্ছেদে উটের মালিককে তা দিয়ে দেয়া হয়েছিল, গ. ক্ষেত্রবিশেষে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে একীভূত করে নেয়া হবে। অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে উপরোক্ত ‘ক’ ও ‘খ’ অনুচ্ছেদের কোনো কারণ না থাকবে কিংবা আল্লাহর হকের ব্যাপারে আরোপ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তওবা না করবে, যেমন ক্রমিক (১) এর অনুচ্ছেদ ‘ড’-এ আল্লামা ইবনে নুজাইম সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্র ওই গ. অনুচ্ছেদের সূত্রে জমাকৃত অর্থ বা সম্পদ যে কোনো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে পারবে। (শামী : খ-৪, পৃ. ৬১/বাহর : খ-৫, পৃ. ৬৮)।
পরিশেষে ওই বিস্তারিত প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়Ñ 
ক. ‘মুসলমানরা নিজেদের পারস্পরিক কৃত (বৈধ) শর্ত মোতাবেক কর্ম সম্পাদন করতে পারে’ সংশ্লিষ্ট শরিয়া আইনের মূলনীতি তথা হাদিসের বাক্যাংশ মোতাবেক প্রাক-চুক্তি ও অবগতি অনুযায়ী যুক্তিসংগত ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক জরিমানা আদায় করতে পারে। তবে এর আগে তাদের পুরো ব্যাংকি কার্যক্রম রাষ্ট্র-অনুমোদিত হতে হবে। 
খ. উপরোক্ত প্রবন্ধের ক্রমিক (৩) এর ‘গ’ অনুচ্ছেদের আলোকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে। 
গ. রাষ্ট্রীয় পূর্বানুমতি বা অনুমোদন ছাড়া যদি ব্যাংক বা কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো জরিমানা আদায় করে থাকে; অথবা রাষ্ট্রের অনুমোদনক্রমে কার্যক্রম পরিচালনা সত্ত্বেও যদি রাষ্ট্র এমন কোনো প্রমাণ পায় যে, কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ওই জরিমানা নামে গৃহীত অর্থ জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রের সার্বভৌম স্বার্থের বিপরীতে ব্যবহার করছে, তাহলে রাষ্ট্র তা বন্ধ করতে পারে বা প্রদত্ত অনুমতি বা অনুমোদন বাতিল করতে পারে বা জমাকৃত অর্থের ব্যবহারে ভবিষ্যতের জন্য বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে; অথবা নিজের নিয়ন্ত্রণেও নিয়ে নিতে পারে। কেননা রাষ্ট্র বা সরকারের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা রাষ্ট্রের অধীনস্থ সবার ঊর্ধ্বে।
 লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বায়তুল মোকাররম, ঢাকা


হজের প্রধান লক্ষ্য ও শিক্ষা
হজের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ও প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর জিকির প্রতিষ্ঠা
বিস্তারিত
ফিকহ অব সোশ্যাল মিডিয়া
এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল : শায়খ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার
বিস্তারিত
ধর্ষণ প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম কুপ্রবৃত্তি
দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ ধর্ষণ। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ এটাকে
বিস্তারিত
রোগীকে হেলা করবেন না
আমাদের আশপাশেই হয়তো এমন অনেক আল্লাহর বান্দা-বান্দি আছেন, যাদের হয়তো
বিস্তারিত
হজ-পরবর্তী জীবন হোক পাপমুক্ত
হজ ইসলামি শরিয়তের অন্যতম ভিত্তিমূল। তবে ব্যতিক্রমী ব্যাপার হলো, হজ
বিস্তারিত
খুবাইব (রা.) শহীদ হওয়ার মর্মস্পর্শী
আমর ইবনু আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর
বিস্তারিত