ইউরোপে মুসলমানদের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, ইউরোপে অভিবাসন আইন কঠোর করা হলেও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আসতে থাকবে এবং মুসলমানদের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগেরও বেশি হবে মুসলমান। পিউ রিসার্চ এ বছরই আরেক প্রতিবেদনে বলেছিল, ২০৭০ সাল নাগাদ বিশ্বে ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানই সবচেয়ে বেশি থাকবে।
২০১৫ সালের পর থেকে ইউরোপে ব্যাপক হারে শরণার্থী আসা শুরু হলেও পরবর্তীতে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে শরণার্থীদের আগমন প্রায় বন্ধ। কিন্তু পিউ রিসার্চের গবেষকরা বলছেন, তারপরও ইউরোপের অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে এবং সবচেয়ে বেশি বাড়বে মুসলমান।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ এবং নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডÑ এ ৩০ দেশকে নিয়ে গবেষণাটি করেছে পিউ। তারা দেখেছে, ইউরোপে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বাইরের মানুষদের লেখাপড়া বা কাজ করতে বৈধভাবে আসা এবং শরণার্থীÑ এ তিনভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালে ইউরোপে ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ মুসলমান। 
২০৫০ সালে তা বেড়ে হবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। জার্মানিতে এ মুহূর্তে মুসলমান আছে শতকরা ৬ ভাগ, ২০৫০ সালে তা বেড়ে হবে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯ ভাগ। এমনিতে মুসলিমদের সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতাও এ মুহূর্তে বেশি। কারণ ইউরোপে মুসলিমদেরই গড় বয়স সবচেয়ে কম। মুসলিমদের গড় বয়স এখন ৩০ দশমিক ৪ বছর এবং অমুসলিমদের গড় বয়স ৪৩ দশমিক ৮ বছর। ফলে গবেষকরা বলছেন, খ্রিস্টানদের মাঝে জন্মহার যেখানে ১ দশমিক ৬, মুসলমানদের তা ২ দশমিক ৬ ভাগ।
মূলত গত কয়েক বছরে ব্যাপক হারে মুসলমানদের আগমনের কারণেই ইউরোপের জনসংখ্যায় এমন প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিসাব বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ৭০ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী এসেছে ইউরোপে, যার মধ্যে অন্তত ৩ দশমিক ৪ শতাংশই মুসলমান। জার্মানিতে আসা শরণার্থীদের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা আনুপাতিকভাবে আরও বেশি। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মোট প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার শরণার্থী এসেছে জার্মানিতে, এর মধ্যে শতকরা ৮৬ শতাংশই মুসলমান।
ডয়চে ভেলে

ইসলাম হবে সবচেয়ে ‘বড় ধর্ম’
২০১০ সালে সারা বিশ্বে মোট ২১৭ কোটি মানুষ খ্রিস্ট ধর্ম অনুসরণ করত। তারপরই ছিল ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা। তখন বিশ্বে মোট ১৬০ কোটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছিল। কিন্তু পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদন বলছে, ৫ দশক পর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের পেছনে ফেলে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি হয়ে যাবে মুসলমান। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে আরও যে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে, তা হলো ২০১০ সাল থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এ সময় ইসলাম ধর্মাবলম্বী বাড়বে ৭৩ শতাংশ। ফলে এক সময় স্বাভাবিক কারণেই সংখ্যায় খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের ছাড়িয়ে যাবে ইসলাম। ২০৭০ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মুসলমানই সবচেয়ে বেশি থাকবে।
তরুণ অনুসারী বেশি
অন্য সব ধর্মের তুলনায় ইসলাম ধর্মে তরুণ অনুসারী বেশি। এ মুহূর্তে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। অন্যদিকে ৩৪ শতাংশ ইসলাম ধর্মবলম্বীর বয়স ১৫ বছরের কম। তার মানে অন্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বেশিদিন সন্তান জন্ম দেয়ার সুযোগও বেশি।


লোক-দেখানো দান সদকা নয়
ইসলামি পরিভাষায় দান করাকেই সদকা বলা হয়। সদকা শব্দটি এসেছে
বিস্তারিত
সদকার ব্যাপকতা
পৃথিবীতে চলমান অধিকাংশ পেশাই এমন, যেগুলো আল্লাহপাকের ইবাদতের মাধ্যম হতে
বিস্তারিত
প্রতারণা বন্ধ করুন
প্রতারণা মানে কাউকে ধোঁকা দেওয়া, ঠকবাজি করা। ভালোর সঙ্গে মন্দের
বিস্তারিত
পার্থিব লক্ষ্যে কোরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গ
কোরআনের শুদ্ধ তেলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের বিশেষ মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখা
বিস্তারিত
জীবন ও মরণের রহস্য সন্ধান
আমাদের ঘুম ছোট মৃত্যু আর জেগে ওঠা ছোট হাশর। এ
বিস্তারিত
ইসলামে আদব কায়দার গুরুত্ব
আমাদের প্রিয়নবী (সা.) উম্মতের জন্য আদব তথা শিষ্টাচারের সব নিয়মই
বিস্তারিত