জেরুজালেম ইস্যুতে মুসলিমদের সংহতি

আরবি সংবাদপত্র রাই 
আল উয়ুমের সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্যবিশেষজ্ঞ আবদেল বারি আতওয়ানের ব্যক্তিগত মতামত, যার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ভাষা বিভাগগুলোর সামাজিক বিষয়ক সংবাদদাতা ভ্যালেরিয়া পেরাস্্সো


আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ হয়তো আরব ও মুসলিম দুনিয়াকে নতুনভাবে সচেতন করে তুলতে পারে যে, ওই এলাকায় শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমেরিকার যে ধ্যানধারণা, তাদের হয়তো সে ব্যাপারে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। তারা যখন বুঝতে পারছে আমেরিকা ইসরাইলেরই পক্ষ নিচ্ছে, তখন তাদের মনে হতে পারে যে তাদের অনুভূতি বা আবেগের তোয়াক্কা আমেরিকা করে না অথবা ওই এলাকার স্থিতিশীলতা নিয়ে আমেরিকার মাথাব্যথা নেই।
যে বিষয়টায় মুসলিমবিশ্ব সবসময় অখ- মনোভাব পোষণ করে এসেছে, সেটা হলো ফিলিস্তিন ইস্যু। সিরিয়া নিয়ে তাদের মতভেদ থাকতে পারে, ইরাক নিয়ে তাদের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু যখন ফিলিস্তিনের বিষয় আসে, বিশেষ করে পবিত্র স্থান জেরুজালেম প্রসঙ্গে তারা অভিন্ন অবস্থান নেয়। সামনের দিকে তাকাতে হলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর একটা প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যেতে পারে, যেখানে এ ইস্যুতে অভিন্নতা প্রধান হয়ে উঠতে পারে এবং একটা প্রতীকী পর্যায়ে মুসলিমবিশ্বের সংহতি আরও জোরালো করে তুলতে পারেÑ বিশেষ করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে, এবং তেল আবিভ থেকে জেরুজালেমে আমেরিকা দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
এটা অবশ্য নতুন কোনো ইস্যু নয়। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে আরেকটা ইন্তিফাদা যে হবে, এটা ভাবা অযৌক্তিক কিছু নয়। হামাস এরই মধ্যে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে। মুসলিম দুনিয়ায় একটা বিশ্বাস দানা বেঁধেছিল যে, একটা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে দিয়ে সমাধানের একটা পথ, একটা শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ হয়তো তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসলো চুক্তির ২৩ বছর পর আসলে কিছুই হয়নি। ওয়েস্ট ব্যাংক এবং জেরুজালেমে ৮ লাখ ইসরাইলি বসতি তৈরি হয়েছে। কাজেই এ সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের বদলে তার যে পুরোপুরিই মৃত্যু ঘটেছে, এ ব্যাপারে এখন কারও মনেই যে আর সন্দেহ নেই, সেটা বলা যায়।
আমাদের এখন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে থাকার কথা। এখন ট্রাম্প কীভাবে সেটা করবেন এবং একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে কীভাবে তিনি রক্ষা করবেন? এটা যে অসম্ভব, এখন সে ধারণাটাই প্রকট হচ্ছে। জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ রয়েছে এর মূলে। ইসরাইলিদের কথা ভেবে যদি জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাপ করার জন্য কী বাকি থাকবে?
অদূর ভবিষ্যতে এর একটা পরিণাম দেখা যাবেÑ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হবে, সহিংসতার হুমকি রয়েছে, আরেকটি ইন্তিফাদা হতে যাচ্ছে। এরপরও কী ফল হবে, তা স্পষ্ট নয়। শুধু যেটা স্পষ্ট, সেটা হলো মানুষ ক্ষুব্ধ। এ ক্ষোভে শামিল হয়েছে ৫৬টি মুসলমানপ্রধান দেশের ১৫০ কোটি মানুষ, যা বিশ্বের জনসংখ্যার ২২ শতাংশের বেশি। কারণ মক্কা আর মদিনার পর জেরুজালেম তাদের সবার জন্য পবিত্র একটি স্থান।
এটা একটা অপমান এবং এর পেছনে কোনো যুক্তি নেই। আমেরিকা কেন তার দূতাবাস সরিয়ে নিতে চাইছে, আর সেটা এখন কেন চাইছে? আসলে একটা পরাশক্তি চাইছে ইসরাইলের যুক্তিকে স্বীকৃতি দিতে এবং ওই স্বীকৃতি তারা দিচ্ছে এমন একটা স্থানকে ঘিরে, যেটা মুসলমানরা মনে করে পবিত্র এবং যেটা তাদের একান্ত নিজস্ব। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত কি অন্য মতানৈক্যকে জোড়া দেবে? ৫৬টি মুসলিমপ্রধান দেশের মধ্যে বহু বড় ধরনের মতানৈক্য আছে। সেগুলো সূক্ষ্ম, ব্যাপক এবং জটিল। জেরুজালেম ইস্যুর চেয়েও সেগুলো অনেক বড়। 
বেশিরভাগ মুসলমানপ্রধান দেশ জেরুজালেম প্রশ্নে তাদের মতভেদ দেখাবে না; কারণ ওই শহর মুসলমানদের জন্য অভিন্ন গুরুত্ব বহন করে; কিন্তু এসব বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা যাবে না। অন্য যে বিষয়ে বড় ধরনের পরস্পরবিরোধিতা তৈরি হলো, সেটা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে। পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। কিন্তু ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিলেন, তা হলো আল কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং সবচেয়ে ভালো অস্ত্র।
এ দলগুলো এখন ভাবতেই পারে যে, ‘দেখ, যে আমেরিকা আমাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা ইরাকে এবং সিরিয়ায় আমাদের শক্তি ধ্বংস করে দেওয়ার পর এখন ইসরাইলিদের পুরস্কৃত করছে, আরবদের নয়।’ এ কারণে আমাদের এলাকায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, আর তার ঢেউ ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়েও পৌঁছতে পারে। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিণামে সেখানে ‘প্রতিশোধমূলক তৎপরতা’ চালানো হতে পারে।
এ সিদ্ধান্ত জঙ্গিদের অনুকূলে কাজ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যারা মিত্র আছে, যেমন মিসর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এ সিদ্ধান্ত তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। আমি মনে করি এ সিদ্ধান্তে হিতে বিপরীতই হতে পারে। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে এটা মানুষকে মাঠের আন্দোলনে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবে। তবে একটা সংহতি গড়ে তোলার বদলে এর ফলে ওই অঞ্চল আরও অশান্ত হয়ে উঠবে। এর বিপরীতমুখী দিকটা হলো, এ পদক্ষেপ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানুষকে একটা অভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে; কিন্তু একই সঙ্গে এ পদক্ষেপ উগ্রবাদ এবং জঙ্গি আদর্শকে আরও উদ্বুদ্ধ করতেও সাহায্য করবে।’


উত্তম চরিত্র নিয়ে যাবে জান্নাতে
রাসুল (সা.) এর উত্তম আখলাক সম্পর্কে দোয়া করতেনÑ তিনি নিজে
বিস্তারিত
আসল ব্যাধির দাওয়াই
ঈমানি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা। দ্বীনের ওপর চলার ক্ষেত্রে এটা বড়
বিস্তারিত
আলমেদরে সমালোচনা
আমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শক্ষিক ছলিাম। মাদ্রাসায় পড়ার পর আরও
বিস্তারিত
ন তু ন প্র
বই : সুবাসিত জীবনের পথ লেখক : মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম সম্পাদক
বিস্তারিত
পাথেয়
  ষ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ হচ্ছে স্মৃতিচারণ, মুত্তাকিদের জন্য অবশ্যই
বিস্তারিত
শীতকালের তাৎপর্য ও বিধিবিধান
শরিয়তে বিধানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কষ্ট বা প্রয়োজনের সময়
বিস্তারিত