খেজুর গুড়ে স্বচ্ছল হাজারো পরিবার

রাজশাহীর খেজুর গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। এবার শীত মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকার খেজুরের গুড় বিক্রির টার্গেট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের গাছিরা। খেজুর গুড় বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে হাজারো পরিবার। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে রাজশাহীর খেজুর গুড়। জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি খেজুর গুড় উৎপাদন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘাসহ বিভিন্ন উপজেলায় সকাল হলেই খেজুর গুড়ের ঘ্রাণে ভরে উঠছে চারপাশ। চারঘাট উপজেলার ভয়ালক্ষ্মীপুর, কালুহাটি, নন্দনগাছি, বড়বড়িয়া, মোক্তারপুর গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খেজুরের রস সংগ্রহের পর সেগুলো দিয়ে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মোক্তারপুর গ্রামের মশিউর রহমান জানান, বছরের অন্যান্য সময় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় তৈরি করেন। গুড় বিক্রি করেই পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন। বছরের অধিকাংশ সময় গুড় থেকে আয়কৃত টাকা দিয়ে সংসার চলে।

কালুহাটি গ্রামের বাবু আলী জানান, বর্তমান বাজারে খেজুর গুড় প্রকারভেদে ৫৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চারঘাট বাজার ও নন্দনগাছি বাজারেই সব গুড় বিক্রি হয়ে যায়।

বাঘা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুইটি পৌরসভা বাঘা ও আড়ানী এবং সাতটি ইউনিয়ন বাজু বাঘা, দাদাপুর, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম, বাউসা ও আড়ানীতে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার কৃষি ও খেজুরের গুড়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক পরিবারেই কম বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার খেজুর বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সড়কপথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনা মিলে আরও লক্ষাধিক খেজুর গাছ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একজন গাছি প্রতিদিন প্রায় ৫০টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারেন। চলতি শীত মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছি খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করছেন। একজন গাছি এক মৌসুমে একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচও করতে হয় না।

বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার কৃষক সায়েম উদ্দীন ও আবদুর রশিদ জানান, প্রায় তিন শতাধিক খেজুর গাছ রয়েছে তাদের। দুইজন গাছি নিয়মিত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এ গুড়ের কদর রয়েছে।

মনিগ্রাম বাজারের প্রবীণ গুড় ব্যবসায়ী আবদুল মোমেন সরকার এবং আইনাল হক পিন্টু জানান, এ অঞ্চলের খেজুর গাছ একটি মূল্যবান সম্পদ। খেজুর গুড় থেকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রতি শীত মৌসুমে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আয় করেন। প্রতিনিয়ত রাজশাহী নগরী, বাঘা বাজার থেকে ঢাকার ব্যবসায়ীরা গুড় ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠান।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার নাসির স্টোরের গুড় ব্যবসায়ী আবু নাঈম জানান, বর্তমানে চারঘাটের বিখ্যাত পাটালি ও নলেন খেজুর গুড় প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা বাজারে এসব গুড় ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত