মায়ের জন্মদিনে উপহার

মায়ের জন্মদিনে ওরা স্কুল থেকে আসার পথে কেকটা নিয়ে এলো। ঘরটা সাজাতে লাগল। রঙিন কাগজের ফুল দিয়ে শুরু হলো ঘর সাজানো। রঙে রঙিন হয়ে উঠল পুরো ঘরটা। তিন বোনেরই মনে আনন্দ বইতে লাগল। তারপর অপেক্ষা করতে লাগল মা কখন অফিস থেকে আসবেন
ইফতি, তিপতি ও দিপতি তিন বোন। ইফতি ষষ্ঠ শ্রেণি, তিপতি অষ্টম শ্রেণি ও দিপতি নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওদের স্কুল যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। স্কুলটি ওদের বাসার কাছেই। ওদের বাবা মারুফ কামাল চাকরি করতেন বেসরকারি একটি কোম্পানিতে। হাসিখুশি সদালাপি ছিলেন ওদের বাবা। উজ্জ্বল বর্ণের চেহারা। চোখে চশমা পরতেন। কর্মচারীদের সঙ্গে মিষ্টি ভাষায় কথা বলতেন। কারও কোনো রকম সমস্যা হলে এগিয়ে আসতেন। সবাইকে সুন্দর জীবনযাপন করার জন্য পরামর্শ দিতেন। দুর্ঘটনায় মারুফ কামাল মারা যাওয়ার পর সেই কোম্পানিতে তার স্ত্রী মানে ইফতি, তিপতি ও দিপতির মা মেহেরিন কামালের চাকরি হয়। 
তবুও দিন দিন মেহেরিন কামালের হাস্যোজ্জ্বল মুখটি মলিন হতে থাকে মেয়ে তিনটির কথা চিন্তা করে। তিনটি মেয়েকে নিয়েই এখন তার নতুন জীবন। মেয়ে তিনটিও খুব লক্ষ্মী। তিন বোন মিলেমিশে থাকে। ছোট বোন ইফতিকে তিপতি, দিপতি খুব ভালোবাসে, আদর করে। প্রতিদিন একসঙ্গে স্কুলে যায়। স্কুলে যেতে ওদের খুব ভালো লাগে। 
ইফতির স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হবে। তিপতি ব্যাংকার। আর দিপতি হতে চায় শিক্ষক। ওদের বাসায় কোনো গৃহশিক্ষক নেই। স্কুলে স্যারদের কাছ থেকে পড়ালেখা শিখে আসে। আর যতটুকু সম্ভব বাসায় মায়ের কাছ থেকে শিখে নেয়।
দিপতি ছোট দুই বোনকে পড়ালেখা শিখিয়ে দেয়। ওদের বাবা মারুফ কামালের বন্ধু সফিউল আজম ইকবাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ওদের স্কুলের পড়ালেখার খরচ ফুল ফ্রি করে দিয়েছেন। স্কুলের রাশিদা ম্যাডাম, সোনিয়া ম্যাডাম, শামসুন নাহার লিলি ম্যাডাম ওদের খুব ভালোবাসেন।
মেহেরিন কামাল মেয়েদের টিফিন খাওয়ার জন্য কিছু টাকা দেন। ওরা তিন বোন টাকাগুলো খরচ না করে একটি ছোট লাল মাটির ব্যাংকে জমা করে রাখে। ওদের ইচ্ছে মাটির ব্যাংকের জমানো টাকা দিয়ে মায়ের জন্মদিনে উপহার কিনে দেবে। এই তো আর ক’দিন পরই পহেলা অক্টোবর মায়ের জন্মদিন। 
ইফতি, তিপতি, দিপতি সিদ্ধান্ত নেয় মায়ের জন্মদিনে কী কী করবে বা কী কী কিনতে হবে। দিপতি এক এক করে অনুষ্ঠানে কী কী লাগবে তা বলতে লাগল। তিপতি সেগুলো লিখে নিল। রঙিন কাগজ, ঘর সাজানো, আইকা, কেক, মাকে নিয়ে পাঠ্যবইয়ের একটি কবিতাও মুখস্থ করল। 
মাটির ব্যাংক ভেঙে দেখে জমানো টাকা হয়েছে নয়শত পঁচাত্তর। ওদের চোখে-মুখে আনন্দ। পরদিন স্কুলে গেল ওরা। স্কুলের কাছেই উকিল বারমোড়। মোড়ে অনেক দোকান, ওরা সিদ্দিক বেকারিতে বায়না দিল একটি কেকের জন্য। লাল, হলুদ, নীল, বেগুনি, রঙিন কাগজ কিনল ফুল বানানোর জন্য। সঙ্গে আইকা। তারপর বাড়ি চলল। বাড়ি গিয়ে শুরু করল কাগজ কাটা। লাল, হলুদ, নীল, বেগুনি কাগজ। কেটে তৈরি করল অনেক রকমের ফুল। তারা ফুল, গোলাপ ফুল, বেলি ফুল, টুইন ফুল ইত্যাদি। কিছু কাগজ কেটে রেখে দিল লুকিয়ে। এমনি করে কয়েক দিন কেটে গেল।
মায়ের জন্মদিনে ওরা স্কুল থেকে আসার পথে কেকটা নিয়ে এলো। ঘরটা সাজাতে লাগল। রঙিন কাগজের ফুল দিয়ে শুরু হলো ঘর সাজানো। রঙে রঙিন হয়ে উঠল পুরো ঘরটা। তিন বোনেরই মনে আনন্দ বইতে লাগল। তারপর অপেক্ষা করতে লাগল মা কখন অফিস থেকে আসবেন। 
বিকালে মা অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন, পুরো ঘর রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো। ইফতি, তিপতি ও দিপতি তিন বোনই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তিপতি বলল, মা আজ পহেলা অক্টোবর তোমার জন্মদিন।
তোমার জন্মদিন পালন করার জন্য আমাদের এ আয়োজন। মা খুশিতে ওদের জড়িয়ে ধরেন। 


ভাইয়ের ভালোবাসা
রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা
বিস্তারিত
শরৎ সাজ
শরৎ সাজ পাই খুঁজে আজ শিউলি ফোটা ভোরে পল্লী গাঁয়ের মাঠে
বিস্তারিত
মশারাজ্যে
প্যাঁপো লাফাতে লাফাতে বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, আপনি বিদেশি
বিস্তারিত
আবার শরৎ এলো
নদীর ধারে শাদা ফুলের দোলা,
বিস্তারিত
জাতীয় কবি
ছোট্টবেলায় বাবা মারা যান অসহায় হন ‘দুখু’ সংসারে তার হাল ধরা
বিস্তারিত
বিদ্রোহী নজরুল
চুরুলিয়ার সেই ছেলে তুমি  কবিতার নজরুল, রণাঙ্গনের বীর সৈনিক প্রাণেরই বুলবুল। কেঁদেছো তুমি দুখীর
বিস্তারিত