জালেমের পরিণতি ভয়াবহ

জালেমের প্রতি মানুষের অভিশাপ থাকে। সে 
কখনও দুনিয়া ও আখেরাতে উন্নয়ন সাধন করতে পারে না। আর মজলুমরা সবসময় আল্লাহর কাছে জালেমের ব্যাপারে অভিযোগ করে। ফলে জালেমরা আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত হয়ে থাকে।  জালেমরা নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বভাবের হয়। তাদের সঙ্গ মানুষের বিপদ ডেকে আনে
 

জুলম মানবজাতির একটি মন্দ স্বভাব। এটি মানুষকে হিংস্র স্বভাবের করে গড়ে তোলে। আর যে ব্যক্তি জুলমকে বরণ করে সে হয় জালেম। তাকে মানবসমাজ ঘৃণার চোখে দেখে। জালেমের প্রতি মানুষের অভিশাপ থাকে। সে কখনও দুনিয়া ও আখেরাতে উন্নয়ন সাধন করতে পারে না। আর মজলুমরা সবসময় আল্লাহর কাছে জালেমের ব্যাপারে অভিযোগ করে। ফলে জালেমরা আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত হয়ে থাকে। 
জালেমরা নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বভাবের হয়। তাদের সঙ্গ মানুষের বিপদ ডেকে আনে। তাই জালেমরা সদাসর্বদা অভিশপ্ত হয়ে মানব ইতিহাসে ঘৃণ্য হয়ে বেঁচে থাকে। সমাজে হয় নিন্দিত। একজন জালেম একটি আদর্শ সমাজকে মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে। তার বিষাক্ত ছোবলে সভ্য মানুষ অসভ্যতায় জড়িয়ে পড়ে। তাই জালেমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। ইসলাম জুলম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার। অন্যায়-অবিচারের স্থান ইসলামে নেই।  

জালেমকে আল্লাহ পাকড়াও করবেন
জালেমরা ক্ষমতার বলে দুনিয়ায় চলতে পারলেও পরকালে তাকে অবশ্যই জুলমের পরিণাম ভোগ করতে হবে। এমনকি সে পৃথিবীতে এমন লাঞ্ছনায় পতিত হবে, যা মজলুমরা দেখে জালেমের ব্যাপারে উল্লাস করবে। জালেমকে ধিক্কার জানাবে। এভাবে একজন জালেম মানবসমাজে নিন্দিত ও ঘৃণিত হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর তাকে ছাড়েন না। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন, ‘তোমার প্রভুর ধরা এইরূপ যে, যখন তিনি অত্যাচারী জনপদকে পাকড়াও করেন তখন খুব মারাত্মক ও কঠোরভাবেই পাকড়াও করেন।’ (বোখারি : ৪৭৩২, মুসলিম : ৬৭৪৬)।  

জালেমকে মজলুমের পাপ বহন করতে হবে
জালেমদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। পরকালে জালেমকে মজলুমের পাপ বহন করতে হবে। আর জালেমের সৎ কাজের সওয়াব মজলুমকে প্রদান করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কি জানো দরিদ্র কে? সাহাবিরা বললেন, আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি তো দরিদ্র যার অর্থ-সম্পদ নেই। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে ওই ব্যক্তিই দরিদ্র হবে, যে দুনিয়া থেকে নামাজ, রোজা ও জাকাত আদায় করে আসবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ওইসব লোকও আসবে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও ওপর অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ গ্রাস করেছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। সুতরাং এই হকদারকে তার নেকি প্রদান করা হবে। আবার ওই হকদারকে তার নেকি থেকে প্রদান করা হবে। এভাবে হকদারের হক পরিশোধ করার আগে যদি তার নেকি শেষ হয়ে যায় তখন তাদের গোনাহগুলো ওই ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম : ৬৭৪৪)। আরও বলেন, ‘নিশ্চয় কেয়ামতের দিন হকদারকে তার প্রাপ্য হক পরিশোধ করা হবে। এমনকি শিংবিশিষ্ট ছাগল থেকে শিংবিহীন ছাগলের প্রতিশোধ নেয়া হবে।’ (মেশকাত : ৪৯০১)।  

জুলমে সাহায্য করা
জালেমের শামিল
সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা জুলমকে প্রতিরোধ করে। জুলমের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকে। আবার এমন কিছু লোক আছে তারা জুলমকে রোধ করে না, বরং জুলমের পরিধি বৃদ্ধি করে দেয়। জালেমকে সহযোগিতা করে। এ ধরনের লোক জালেমের অন্তর্ভুক্ত। 
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জালেমের শক্তি বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে চলে; অথচ সে জানে যে ওই ব্যক্তি জালেম, তখন সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল।’ (মেশকাত : ৪৯০৮)।  আরও বলেন, কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সে বান্দাই মর্যাদায় নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হবে, যে অন্যের পার্থিব কল্যাণে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। অর্থাৎ কোনো জালেমের কাজে সাহায্যে করেছে।’ (ইবনে মাজাহ : ৪১০১)। 

জুলমের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
জালেম শুধু নিজের অভিশাপ টেনে আনে না, বরং তার অত্যাচারে দেশে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারও বিরাজ করে। দেশে অশান্তি সৃষ্টি হয়। অন্যায়-অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এমনকি পশু-পাখিরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শোনেন, জালেম একমাত্র নিজেরই ক্ষতি করে থাকে। এ কথা শুনে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তুমি ঠিকই বলেছ। তবে জালেমের অত্যাচারের অভিশাপে সারস পাখিও নিজের বাসায় কাতর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। (মেশকাত : ৪৯০৯)।


লোক-দেখানো দান সদকা নয়
ইসলামি পরিভাষায় দান করাকেই সদকা বলা হয়। সদকা শব্দটি এসেছে
বিস্তারিত
সদকার ব্যাপকতা
পৃথিবীতে চলমান অধিকাংশ পেশাই এমন, যেগুলো আল্লাহপাকের ইবাদতের মাধ্যম হতে
বিস্তারিত
প্রতারণা বন্ধ করুন
প্রতারণা মানে কাউকে ধোঁকা দেওয়া, ঠকবাজি করা। ভালোর সঙ্গে মন্দের
বিস্তারিত
পার্থিব লক্ষ্যে কোরআন তেলাওয়াত প্রসঙ্গ
কোরআনের শুদ্ধ তেলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের বিশেষ মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখা
বিস্তারিত
জীবন ও মরণের রহস্য সন্ধান
আমাদের ঘুম ছোট মৃত্যু আর জেগে ওঠা ছোট হাশর। এ
বিস্তারিত
ইসলামে আদব কায়দার গুরুত্ব
আমাদের প্রিয়নবী (সা.) উম্মতের জন্য আদব তথা শিষ্টাচারের সব নিয়মই
বিস্তারিত