সালামের শিষ্টাচার

এক. অন্যের সালামের অপেক্ষায় না থেকে প্রথমে সালাম দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) সবসময় আগেই সালাম দিতেন। রাসুল (সা.) বলেন, প্রথমে সালাম প্রদানকারী অহংকার থেকে মুক্ত। (খতিব আত-তিবরিজি, মিশকাতুল মাসাবিহ, ৩য় খ-, বৈরুত : আল-মাকতাবুল ইসলামী, ১৯৮৫ খৃ., অধ্যায় : আদাব, অনুচ্ছেদ : সালাম, পৃ. ৯, হাদিস ৪৬৬৬)।
দুই. স্পষ্ট উচ্চরণে সালাম দেওয়া ও সালামের উত্তর প্রদান করা। কারণ, আরবি ভাষার উচ্চরণ সামান্য কম-বেশিতেই অর্থের বিকৃতি ঘটে। যেমন আস-সামু আলাইকুমের অর্থ তোমার মৃত্যু হোক। এতে শান্তি কামনার বিপরীতে অশান্তি কামনা করা হয়। সালামের অপব্যবহারসহ এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। ইহুদিরা মুসলমানদের এভাবে বিকৃত করে সালাম দিত। তাদের সালামের উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ওয়া আলাইকুম (অর্থাৎ তোমাদের প্রতিও) বলতে বলেছেন। (মুসলিম, চতুর্থ খ-, অধ্যায় : সালাম, অনুচ্ছেদ : আহলে কিতাবদের সালামের জবাব, পৃ. ৫১৯, হাদিস নং ৫৭৮২)।
তিন. আরোহী হেঁটে চলা ব্যক্তিকে, চলমান থেমে থাকা ব্যক্তিকে, আগমনকারী অবস্থানকারীকে, কম সংখ্যক লোক বেশি সংখ্যককে এবং কম বয়সী বেশি বয়সীকে সালাম প্রদান করা সমীচীন। (বোখারি, পঞ্চম খ-, অধ্যায় : অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ : কমসংখ্যক লোক বেশি সংখ্যককে সালাম, পৃ. ২৩০১, হাদিস নং ৫৮৭৭; মুসলিম, সপ্তম খ-, অধ্যায় : সালাম, অনুচ্ছেদ : আরোহী হেঁটে চলা ব্যক্তিকে সালাম, পৃ. ২, হাদিস নং ৫৭৭২)। 
চার. মুখের উচ্চারণের মাধ্যমেই সালাম প্রদান করতে হবে। মাথা ঝোঁকানো বা হাত নাড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে সালামের আওয়াজ পৌঁছার সম্ভাবনা না থাকলে প্রয়োজনে শুধু বোঝানোর জন্য হাত তোলার অনুমতি রয়েছে। (জামিআত-তিরমিজি, পঞ্চম খ-, অধ্যায় : অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ : হাতের ইশারায় সালাম মাকরুহ, পৃ. ৫৬, হাদিস নং ২৬৯৫)।
পাঁচ. ওজু-গোসল, পেশাব-পায়খানা বা পার্থিব কোনো কাজে গভীর নিমগ্ন ব্যক্তিকে সালাম দেওয়ার দরকার নেই। এতে সালামের অবমূল্যায়ন হয়।

সালাম আদান-প্রদান পদ্ধতি : স্পষ্ট ভাষায় আস-সালামু আলাইকুম বলে সালাম দিতে হয়। জবাবে একটু বাড়িয়ে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে উত্তর দিতে হয়। সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বললে জবাবে ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু বলতে হয়। আর সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু বললে জবাবেও অনুরূপ ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু বলতে হয়। এর চেয়ে অতিরিক্ত আর কিছু নয়। সালাম প্রদান ও জবাব দেওয়ার ব্যাপারে এমন বিধানের প্রতি আল্লাহ তায়ালা নির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম প্রত্যাভিবাদন করবে অথবা তার অনুরূপ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।’ (কোরআন, সূরা নিসা, আয়াত : ৮৬)।
সালামের জবাব সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া জরুরি। শোনানোর পরিবেশ না হলে ইশারায় জবাব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যের পক্ষ থেকেও সালাম পৌঁছানো যায়। যেমন কেউ বলল অমুক তোমাকে সালাম বলেছেন। এর জবাব হলোÑ ওয়া আলাইকা ওয়া আলাইহিস সালাম। অর্থাৎ তোমার প্রতি ও তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। 

মুসাফা বা করমর্দন : মুসাফা বা করমর্দন হলো সালামের পরিপূরক। হজরত আবদুুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘সালামের পরিপূর্ণতা হলো মুসাফা।’ (জামিআত-তিরমিজি, পঞ্চম খ-, অধ্যায় : অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ : মুসাফা, পৃ. ৭৫, হাদিস নং ২৭৩০)। হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.) এর অভ্যাস ছিল, কোনো ব্যক্তি এগিয়ে এলে মুসাফা করতেন। সে ব্যক্তি হাত না সরানো পর্যন্ত তিনি নিজের হাত সরাতেন না এবং চেহারা না ফেরানো পর্যন্ত তিনি মুখ ফেরাতেন না। সঙ্গে উপবিষ্ট লোকদের সামনে হাঁটুদ্বয় ছড়িয়ে বসতেন না।’ (জামিআত-তিরমিজি, পঞ্চম খ-, অধ্যায় : অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ : মুসাফা, পৃ. ৭৪, হাদিস নং ২৭২৭)। হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুইজন মুসলমান পরস্পর সাক্ষাতের পর মুসাফা করলে তাদের পৃথক হওয়ার আগেই তাদের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (জামিআত-তিরমিজি, পঞ্চম খ-, অধ্যায় : অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ : মুসাফা, পৃ. ৭৪, হাদিস নং ২৭২৭; সুনানু আবি দাউদ, চতুর্থ খ-, অধ্যায় : আদব, অনুচ্ছেদ : মুসাফা, পৃ. ৫২১, হাদিস নং ৫২১৪)। 

মুয়ানাকা বা কোলাকুলি
দীর্ঘদিন পর একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরে মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করা সুন্নত। কেউ সফর থেকে এলে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ায় সাহাবায়ে কেরাম মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) যখন মদিনায় এলেন তখন নবী (সা.) আমার ঘরে ছিলেন। জায়েদ (রা.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমার ঘরে এলেন এবং দরজায় টোকা দিলেন। রাসুল (সা.) নিজের কাপড় সামলাতে সামলাতে উঠে গেলেন এবং জায়েদের সঙ্গে কোলাকুলি করলেন এবং তাকে আদর করলেন।’ (জামিআত-তিরমিজি, পঞ্চম খ-, অধ্যায় : অনুমতি প্রার্থনা, অনুচ্ছেদ : মুয়ানাকা, পৃ. ৭৬, হাদিস নং ২৭৩২)। শা’বি (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম পরস্পরে মুসাফা করতেন আর কেউ সফর থেকে এলে তার সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। (ইবনে আবি শায়বা, আল-মুসান্নাফ, ১৩তম খ-, পৃ. ১৮৫, হাদিস নং ২৬২৩৪)।


পারস্পরিক সহযোগিতা
অসংখ্য হাদিসে নববি মুসলিম সমাজের তাকাফুল বা পারস্পরিক সহযোগিতার মাহাত্ম্য
বিস্তারিত
বিপদে পাশে থাকুন
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেনÑ
বিস্তারিত
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে লেনদেন
ইসলামি অর্থনীতি হলো কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা।
বিস্তারিত
আজানের সময় যে আমল করা
মুয়াজ্জিন যখন আযান দেয়, তখন সবার জন্য ৫টি আমল পালন
বিস্তারিত
সুলতান মাহমুদ গজনভী ও আয়ায
আমিরের নেতৃত্বে সিপাহিরা রাতে তালা ভেঙে আয়াযের কামরায় প্রবেশ করে।
বিস্তারিত
গিবত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক
ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ সর্বত্র আজ গিবতের ছড়াছড়ি। কোরআন ও হাদিসের
বিস্তারিত