সিলেটের সদর ও ফেঞ্চুগঞ্জ শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন

সরকার ঘোষিত শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতায় সিলেট জেলার অধিকাংশ এলাকা-ই এখন বিদ্যুতের আওতাভুক্ত। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুতের আওতায় আসবে সিলেটের ১৩টি উপজেলার গ্রামীণ জনপদ।

এরই মধ্যে সিলেটের সদর ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সমাপ্ত করে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্বনাথ, বালগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ উপজেলার এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে।
 জৈন্তাপুর উপজেলারও প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকি কাজ ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে ওসমানীনগর ও জকিগঞ্জ উপজেলায়। গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পনীগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ এর আওতায় সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় নতুনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ৪৯৬ গ্রাহক।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর তথ্যমতে, গেল ৯ বছরে প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ কাজ সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই শেষ হয়ে যাবে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষণার অপেক্ষায় আছে দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার উপজেলা। ৮৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের স্থলে ৭৯৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলায়। বাকি ৩৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজ চলছে, যা আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানান সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুল হক।

 তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ ও ওসমানী নগর উপজেলার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। একটু ধীরগতি থাকলেও জকিগঞ্জ উপজেলার আওতাভুক্ত এলাকা জুন মাসের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাভুক্ত আটটি উপজেলার ২ হাজার ১৪৩টি গ্রামকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে মোট ২ হাজার ২৬৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে, এতে ২৯৪ কোটি ৪৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ পর্যন্ত নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহক। এতে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর তথ্যমতে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি হতে এ পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাভুক্ত পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ২৬৩টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে, এর আওতায় নতুন গ্রাহক হয়েছেন প্রায় ৮৮ হাজার ৪৯৬ জন।
২০১৭ সালের জুনেই সিলেট সদর উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, আমাদের উপজেলায় আগে বিদ্যুতের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। কিন্তু বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা হিসেবে এবং তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাত্র ৮ বছরেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন হয়েছে। আগে যেখানে বিদ্যুতের জন্য সন্ধ্যার পর পড়তে বসা যেত না, এখন সেখানে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধার কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের লামারগাঁও (হাওরবাড়ী) গ্রামের কৃষক আজির উদ্দিন বলেন, মাত্র কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ এসেছে। এখন আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। বিদ্যুৎ আসায় কৃষি ক্ষেতে যথা সময়ে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফসলের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা রাতে পড়ালেখা করতে পারছে। এজন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জৈন্তাপুর উপজেলার ৭২৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের প্রয়োজন, এরই মধ্যে ৪৮৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ১২৬ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজ চলমান আছে। অবশিষ্ট অংশের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা আগামী ফেব্রুয়ারির আগেই সম্পন্ন হবে আশা প্রকাশ করছেন সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আবু হানিফ মিয়া।
 তিনি আরও বলেন, ৯ বছরে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার ৪৯৬ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে গেল বছরের নভেম্বর পর্যন্ত। এতে ব্যয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৬৭টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯০০ গ্রাহক। অবশিষ্ট অংশের কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২৮৭ কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপনের মাধ্যমে ৪৩টি গ্রামে নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও ১৬২ কিলোমিটার লাইন স্থাপনের কাজ চলমান আছে। এছাড়া ৩২৪ কিলোমিটার নতুন লাইনের দরপত্র আহ্বান করার অপেক্ষায় আছে। দরপত্র আহ্বান শেষে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ সম্পন্ন করে সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র : বাসস


আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষে মুন্সীগঞ্জের
মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় টমেটো চাষে কৃষকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। গত
বিস্তারিত
মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের রি-হায়ারিং ‘মেয়াদ বাড়ছে’
মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের রি-হায়ারিংয়ের সময়সীমা শেষ হবে আগামী
বিস্তারিত
শেরপুরে আমন চাষে লাভবান কৃষক
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় লাভবান কৃষক।
বিস্তারিত
বারোমাসি আমে লাভ বহুগুণ
ফুলতলা উপজেলার পূর্ব মশিয়ালী গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বারোমাসি
বিস্তারিত
সিরাজদিখানে আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এবার ধানের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
ড্রাগনফল গাছে ফুলের হাসি, স্বপ্ন
শেরপুরের নকলায় চাষকরা ড্রাগনফল গাছে ফুল আসায় কৃষকের মুখে হাসি
বিস্তারিত