ঘরভর্তি পাখির খবর

চৈতি ভেবেছিল, এসব দেখে মা-বাবা কী ভাববেন কে জানে? হয়তো বিরক্ত হবেন। কিন্তু ছুটির দিন বলে বাবা নিজেই পাখিগুলোর জন্য সাদা ভাত খেতে দিতে লাগলেন। মা একের পর এক ফোন করে সবাইকে এ অদ্ভুত ঘটনা বলতে লাগলেন। সাড়ে ১১টার দিকে চৈতি ফেসবুকে পাখিদের সঙ্গে তোলা সেলফি পোস্ট করে দিল

চৈতির ঘুম ভেঙে গেল অদ্ভুত শব্দে। শব্দটা আসলে অদ্ভুত নয়। কিন্তু যেখানে হচ্ছে, সেখানে ওরকম হওয়ার কথা নয়। ওরা থাকে একটা দশতলা ভবনের ছয়তলায়। ঘরের জানালাগুলো কাচ দিয়ে ঢাকা। ছয়তলার ঘরের জানালার কাচে টোকা দেয়ার শব্দ শুনে একটু ভয় পাওয়া যেতেই পারে।
শব্দটা কানে আসতেই চমকে গিয়েছিল চৈতি। ঘুমমাখা চোখ কচলে বোঝার চেষ্টা করল, ঘটনাটা কী? চিৎকার করে আম্মুকে ডাকতে গিয়েও থেমে গেল ও। ভাবল, এখন ভোর বেলা, কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা হচ্ছে, কিন্তু দিন তো! দিনের বেলা এভাবে ভয় পাওয়া ঠিক হবে না।
একটুও শব্দ না করে বিছানা ছাড়ে ও। ভয়ে ভয়ে উঁকি দেয় জানালায়। মোটা কাচ ভেদ করে ওর দৃষ্টি বেশিদূর যেতে পারে না। জানালার ওপাশেই ঘন কুয়াশার বেড়া। ভোরের হালকা আলো আর বাতাসের তোড়ে ওগুলোকে দেখাচ্ছে ফুটন্ত বরফের মতো।
আরও ভালো করে দেখার জন্য জানালার কাচে নাক ঠেকিয়েছিল চৈতি। হঠাৎ ‘ঠক্ ঠকাস’ শব্দে চমকে পেছাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল ও। মুখ থেকে বের হয়ে গেলÑ ও মাগো। পাশের ঘর থেকে মায়ের আওয়াজ এলো, কী হয়েছে চৈতি।
ততক্ষণে ও সামলে নিয়েছে। দেখেছে একটা চড়–ই উড়ে এসে ঠোঁট দিয়ে কাচে আঘাত করছে। চৈতি উত্তর দেয়, কিছু না মা, বিছানা থেকে নামতে গিয়ে আঙুলে ব্যথা পেয়েছি।
জানালায় আবার শব্দ হয়। এবার একটা না, দুটো চড়–ই পাখি। চৈতি জানালা সামান্য একটু খুলে দেয়। ঠান্ডা বাতাস আর একটু কুয়াশার সঙ্গে পাখিদুটোও ঘরে ঢোকে। উড়ে বেড়ায় ঘরজুড়ে। তারপর মেঝেতে দাঁড়িয়ে কিচমিচ করে কী যেন বলতে থাকে। চৈতি অবাক হয়। ধারণা করে শীতে কষ্ট পেয়ে ওরা এ রকম করছে।
ঘরের কোনায় একটা প্লাস্টিকের বাবুই পাখির বাসা ঝুলছিল। একটা পাখি সেদিকে যায়। অন্যটা বাইরে গিয়ে আরও দুইটি পাখিকে নিয়ে আসে। যখন এটা ঘটে, তখন কেবল ভোর হয়েছে। বেলা ১০টা নাগাদ চৈতির ঘরের পাখির সংখ্যা পঞ্চাশ পার হয়ে যায়!
চৈতি ভেবেছিল, এসব দেখে মা-বাবা কী ভাববেন কে জানে? হয়তো বিরক্ত হবেন। কিন্তু ছুটির দিন বলে বাবা নিজেই পাখিগুলোর জন্য সাদা ভাত খেতে দিতে লাগলেন। মা একের পর এক ফোন করে সবাইকে এ অদ্ভুত ঘটনা বলতে লাগলেন। সাড়ে ১১টার দিকে চৈতি ফেসবুকে পাখিদের সঙ্গে তোলা সেলফি পোস্ট করে দিল। আধঘণ্টার মধ্যে ওর বান্ধবী মাধবী তার সাংবাদিক মামাকে নিয়ে হাজির। সেখানেই বসেই তিনি একটা অনলাইন সংবাদপত্রে নিউজ দিয়ে দিলেন। পরের দিন সকালে অনেক পেপারে এ খবর গুরুত্ব দিয়ে ছাপল। দুপুরে অফিস থেকে বাবা ছুটে এসে জানালেন, পরিবেশমন্ত্রী তোকে আর তোর পাখিদের দেখতে আসতে চাইছেন!
ঘরভর্তি পাখি আর দর্শনার্থীর মাঝেও চৈতির মুখে হাসি ফুটে উঠল। একটা বড় কাগজে সে লিখলÑ পাখিপ্রেমিক ও পাখিদের আশ্রয়দাতাদের স্বাগতম। তারপর সেটা বাইরের দরজায় স্কচটেপ দিয়ে লাগিয়ে দিল! 


বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
এলিয়েন এসেছিল
হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত
বাংলা মায়ের সবুজ প্রাণ
ইস্টি কুটুম মিষ্টি পাখির দুষ্ট ছানা আকাশ নীলে মেলছে খুশির নরম
বিস্তারিত
হেমন্তের নেমন্ত
ধানের ছড়ায় ঝুলছে সোনা আসলো ঋতু হেমন্ত শিশির কণা চিঠি
বিস্তারিত