আল্লাহর খেলাফতের দায়িত্ব চেতনা

মহাপরাক্রমশালী, সর্বশক্তিমান, পুরো জগতের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষ তথা আমাদের তাঁর প্রতিনিধি রূপে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা বাকারা : ৩০)। আমরা যাতে সুষ্ঠু, সুন্দর সঠিকভাবে সাফল্যের সঙ্গে, যোগ্যতার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করতে পারি, সে অনুযায়ী আমাদের উপযুক্তরূপে সৃষ্টি করেছেন তিনি। আমাদের দিয়েছেন পর্যাপ্ত শক্তি, সামর্থ্য, সক্ষমতা, সাহস, মনোবল, জ্ঞানবুদ্ধি, চিন্তাশক্তি, বিজ্ঞতা, বিচক্ষণতা, ধৈর্য, সহনশীলতা, পরিমিতিবোধ, কর্মপ্রেরণা, ন্যায়-অন্যায় বোধ, উৎসাহ প্রগাঢ় বুদ্ধিমত্তা, দৃঢ়তা, অফুরন্ত পরাক্রমশালী সৃজনশীলতা, অদম্য ও অভূতপূর্ব চেতনা, স্বয়ংক্রিয় আশ্চর্য প্রতিভা, জীবনের কল্যাণ সাধনে অনিবার্য প্রেরণা, পরাক্রমশালী নেতৃত্ববোধ। আরও দিয়েছেন পরামর্শ, উপদেশ, নিষেধ, দিকনির্দেশনার জন্য আসমানি কিতাব এবং হাতে-কলমে সবকিছু শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন নবী ও রাসুল।

আল্লাহ আমাদের জন্য দিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল কোরআন সংবিধান হিসেবে। কোরআনে আছে সর্বকালের সব বিষয়ের সর্বোৎকৃষ্ট দিকনির্দেশনা ও সমাধান। কোরআনের আলোকে দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী হাতে-কলমে আল্লাহর প্রতিনিধির কাজ শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল ও আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে। মহানবী (সা.) তাঁর অনুপম, অনিন্দ সুন্দর বিশ্বখ্যাত চরিত্র মাধুরী দ্বারা মানুষের ভেতর আল্লার দেওয়া সুস্থ গুণগুলোকে যথাযথভাবে জাগ্রত করে মহাপবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য গড়ে তোলেন এক দুর্বার আন্দোলন। আন্দোলনকারীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সর্বস্ব এবং সর্বোচ্চ কোরবানির জন্য থাকতেন সদা প্রস্তুত। অল্পসময়ের মধ্যে মহানবী (সা.) স্বীয় চরিত্র মাধুরী, সত্যবাদিতা ও মানবতা দিয়ে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বিগ্রহে রক্তাক্ত, গোত্রে গোত্রে কলহ কোন্দলে বিদীর্ণ অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত কুৎসিত আচার-আচরণ ও কুসংস্করের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত জাতিকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক অধঃপতনের গভীর রসাতল থেকে টেনে তোলেন ন্যায় ও পবিত্রতার ধারণায়। 
তাদের দেন একটি জীবনবিধান। ঐক্যবদ্ধ করেন ভ্রাতৃত্ব ও বদান্যতার বন্ধনে। জাতির সুস্থ চেতনার মাঝে সঞ্চার করেন প্রচ- প্রাণশক্তি, উত্তীর্ণ করেন একটি সংহত জাতি সত্তায়, অনুপ্রাণিত করেন স্থায়ী জীবন বোধে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন বর্ণাশ্রম ও একচেটিয়া সুবিধার প্রাচীর। স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে সক্ষম হন সাম্যবাদ এবং পৃথিবীর সর্বপ্রথম কল্যাণ রাষ্ট্র। একটি বর্বর জাতি মহাপবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনের আলোকে আলোকিত হয়ে সাহসিকতায় শৌর্যে-বীরত্বে, অপরাজিত শক্তিতে ও জ্ঞানে-গুণে-শিক্ষায়-সংস্কৃতিতে-বিজ্ঞানে-মনিষায় সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবম-িত সব্যতার অধিকারী হলো। ছড়িয়ে দিল কোরআনের আলো দেশে দেশেÑ বাংলাদেশেও। 
মহাপ্রভু দয়ালু আল্লাহ তায়ালার প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য মানুষের ভেতরকার সম্ভাবনাময় গুণগুলো ছাড়াও আমাদের সামনে আছে মহানবী (সা.) এর জীবনের নিখুঁত চিত্র হাদিস ও অনুসরণীয়-অনুকরণীয় ঘটনাবহুল জীবনাদর্শ। অতি উজ্জ্বল ও অতুলনীয় মহাগ্রন্থ কোরআনের আলোকে গড়ে ওঠা ইস্পাত কঠিন ঈমানি শক্তি, পর্বতের মতো অবিচল রুহানি শক্তির অধিকারী খলিফারা, খালেদ বিন ওয়ালিদের মতো মহাবীর সেনানী ও লাখ লাখ সাহাবির শৌর্যবীর্যসহ অকুতোভয় সর্বস্বত্যাগী বীর মুজাহিদদের গৌরবগাথা। তাদেরই অনুসারীরা এ দেশের মানুষকে আল্লাহর প্রতিনিধির বানানোর জন্য সুদূর ইয়েমেন থেকে ৩৬০ জন সঙ্গী বুজুর্গকে নিয়ে আসেন হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহ পরান (রহ.)। এমনিভাবে আসেন হজরত শাহ আলী বাগদাদি (রহ.), হজরত শাহ মখদুম (রহ.), হজরত শাহ বলখি (রহ.), হজরত খানজাহান আলী (রহ.), চট্টগ্রামের বারো আউলিয়া (রহ.)। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে এ দেশে জন্ম নেন নবাব আবদুল গণি, নবাব সলিমুল্লাহ, শাহ সুফি আহ্ছানউল্লা, হজরত মাওলানা মেহেরুল্লাহ মুন্সি, মাওলানা আতাহার আলী, মাওলানা আবদুর রহীম, মাওলানা হাফেজ্জি হুজুুর এবং আরও অসংখ্য পীর-আউলিয়া। 
অতএব সেন্টমার্টিন থেকে বাংলাবন্ধ, বান্দরবনের থানচি থেকে বাগেরহাটের কালীগঞ্জ সুন্দরবন, খাগড়াছড়ি থেকে দর্শনা পর্যন্ত সমগ্র দেশের ঈমানি চেতনায় উজ্জীবিত মানুষ আকাশ-বাতাস মথিত করে আওয়াজ তুলুন-ঘোষণা করুন, ‘ওহে আত্মবিস্মৃত বাংলাদেশের শিশু-কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধা, নারী-পুরুষ তুমি ছোট নও, তুমি তুচ্ছ নও, তুমি মহান, তুমি শক্তিমান, তুমি দুনিয়ার বুকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতিনিধি, তোমার মর্যাদা অনেক উপরে, তুমি আশরাফুল মাখলুকাত। ফেরেশতার উপরে তোমার স্থান।’ 
দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে অনেক অনেক নেয়ামত ও সম্পদ দিয়েছেন। আসুন আমরা সবাই শুধু ঘোষণা নয় আমাদের প্রিয় একমাত্র নেতা আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এর অনুসরণে-অনুকরণে শতসহস্র বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে এ দেশের দ্বারে দ্বারে, বাড়ি বাড়ি, হাটেঘাটে, বাজারে, খেত-খামারে, কলকারখানায়, অফিস-আদালতে, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মক্তব, বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়ে, মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, মুচি-মেথর, রিকশাওয়ালা, ছাত্র-শিক্ষক, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, মুটে-মজুর, ধনী-দরিদ্র সবার হাত ধরে আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার দাওয়াত দিই। যেন এ দেশের প্রতিটি মানুষ আল্লাহর প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে যায়। সেভাবে জীবনযাপন করতে পারে এবং আল্লাহর প্রকৃত প্রতিনিধি রূপে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে দক্ষতার সঙ্গে সুসম্পন্ন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। 
প্রসঙ্গত আল্লাহর প্রতিনিধির প্রধান কাজ মূলতÑ এক. আল্লাহর আইন এবং আল্লাহর দ্বীন ইসলামকে নিজ ব্যক্তি জীবনের চিন্তাচেতনায়, মন-মননে, ধ্যান-ধারণায়, ইচ্ছায়, কামনায়-বাসনায় তথা সমগ্র সত্তার সঙ্গে আত্মস্থ করে স্বীয় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সর্বপ্রকার কর্মকা-, আচার-আচরণ, ব্যবহার, চাল-চলনে, কথা-বার্তায় প্রকাশ এবং প্রতিষ্ঠা করা। একইভাবে পাবিরারিক জীবন, সমাজজীবন, কর্মজীবন তথা চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যে, অফিসে-আদালতে, কলকারখানায়, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প-সাহিত্যে, সংস্কৃতিতে-ঐতিহ্যে, প্রশাসন ব্যবস্থায়Ñ সর্বক্ষেত্রে সর্বস্তরে আল্লাহর আইন এবং আল্লাহর দ্বীন ইসলাম প্রচার-প্রসার করা। 
দুই. আল্লাহ তায়ালার সব সৃষ্টি তথা কীটপতঙ্গ, পশুপাখি, জীবজন্তু-জানোয়ার, মানুষ, গাছপালা, তরুলতা, পরিবেশ-প্রকৃতি, পাহাড়-পর্বত, বনজঙ্গল, নদীনালাকে নিঃশর্তভাবে এবং নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা এবং সেবা করা, মঙ্গল সাধনা করা। সব ধরনের শোষণ জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন, সর্বপ্রকার অধিকার হরণ, অন্যায়, অবিচার-অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম সমূলে ধ্বংস করে সমাজে সুখ-শান্তি নিরাপত্তা ও উন্নতি সাধনা করা।


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত