গরিবের মাটির ঘরই 'এসি বাড়ি'

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈরি বাড়িঘর। গ্রামবাংলায় এখন আর মাটির ঘর তেমন চোখে পড়ে না। তবে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এখনও চোখে পড়ে হাজার হাজার মাটির ঘর। উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের ১৩ গ্রামের সব বাড়িতেই মাটির ঘর রয়েছে। সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা এসব গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘরগুলো গরিবের ‘এসি’ বাড়ি হিসেবে খ্যাত। মাটির বাড়ি শীত ও গরম মৌসুমে আরামদায়ক বলে টাঙ্গাব ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও মাটির দ্বিতল বাড়ি তৈরি করেছেন। এখানকার বাসিন্দারা মাটির ঘরে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এক সময় মাটির বাড়ির প্রচলন ছিল এদেশের গ্রামগঞ্জে। গ্রামের মানুষের কাছে মাটির বাড়ি ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। গ্রামের বিত্তশালীরা অনেক অর্থ ব্যয় করে মাটির দোতলা বাড়ি তৈরি করতেন, যা এখনও কিছু কিছু এলাকায় চোখে পড়ে। গফরগাঁওয়ের টাঙ্গাব ইউনিয়নের সব গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে একটি করে একতলা ও দোতলা মাটির ঘর রয়েছে। ইউনিয়নটির সব বাড়িতেই সারিবদ্ধ মাটির ঘরের দেখা মেলে।

এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিণত করে ৩ থেকে ৪ ফুট চওড়া করে দেওয়াল তৈরি করা হয়। একতলা মাটির বাড়ির জন্য ১২ থেকে ১৪ ফুট উঁচু দেওয়ালে কাঠ-বাঁশ অথবা লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে সিলিং তৈরি করে তার ওপর টিনের ছাউনি দেয়া হয়। আর দোতলা বাড়ির জন্য ১৩ থেকে অন্তত ২৫ ফুট উঁচু দেওয়াল তৈরি করে ১৩ ফুটের মাঝে তালের গাছের ফালি দিয়ে পাটাতন তৈরি করে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি মোটা কাঠের ছাউনি দেয়া হয় আর ২৫ ফুটের মাথায় একতলা বাড়ির মতো টিনের ছাউনি দেয়া হয়। কোনো কোনো বাড়ির এসব মাটির ঘরে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ভূমিকম্পে মাটির ঘরের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। একেকটি মাটির ঘর এক থেকে দেড়শ বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর কালের পরিক্রমায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব মাটির বাড়ি ইটবালির দালান-কোঠা আর বড় বড় অট্টালিকার কাছে হার মানছে।
টাঙ্গাব ইউনিয়নের পাঁচাহার গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন খান, জালাল উদ্দিন খান, আবুল কাশেম খান, বজলুর রহমান, কালাম খানসহ আরো অনেকে জানান, তারা প্রত্যকেই পৈতৃক সূত্রে মাটির তৈরি বাড়ি পাওয়ার পরও নতুন করে একটি একতলা ও একটি দোতলা মাটির ঘর তৈরি করেছেন। তাদের পূর্বপুরুষরা মাটির বাড়িতে জীবন কাটিয়েছেন। মাটির তৈরি বাড়ি বসবাসের জন্য বেশ আরামদায়ক।
তারা জানান, এ ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতেই দোতলা ঘরের পাশাপাশি প্রত্যেকেরই একটি করে একতলা মাটির ঘর রয়েছে। কেউ কেউ দোতলায় বসবাস করেন আবার কেউবা দোতলায় ধান সংরক্ষণ করেন। টাঙ্গাব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগর জানান, ইউনিয়নটির ১৩টি গ্রামের সব বাড়িতেই মাটির তৈরি একতলা ও দোতলা ঘর রয়েছে।

 সম্প্রতি সময়ে যেসব বাড়িতে ইটের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে সেসব বাড়িতে একাধিক মাটির ঘর রয়েছে। সুতরাং নিঃসন্দেহে এ ইউনিয়নকে মাটির বাড়ির ইউনিয়ন বলা যেতে পারে।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত