সুফি কোষ

ওয়ালিমা

ওয়ালিমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচুমানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরি নয়; বরং সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওয়ালিমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়, দ্বীনদার ও গরিব-মিসকিনদের দাওয়াত দেওয়া হয় না, সে ওয়ালিমাকে হাদিসে নিকৃষ্টতম ওয়ালিমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে
বাসররাতের পর ছেলের পক্ষে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাক্সক্ষী এবং গরিব-মিসকিনদের তওফিক অনুযায়ী আপ্যায়ন করাকে ‘ওয়ালিমা’ বলে। বাংলায় ওয়ালিমাকে বউভাত বলা হয়ে থাকে। বাসররাতের পরের দিন বা পরবর্তীতে সুবিধামতো কাছাকাছি সময়ের মধ্যে ওয়ালিমা করা বিধেয়। তবে তিন দিনের মধ্যে করা উত্তম। যে-কোনো ধরনের খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ওয়ালিমা করা যায়। ওয়ালিমা একটি ইবাদত। এক দিন ওয়ালিমা করা সুন্নত, দুই দিন ওয়ালিমা করা মুস্তাহাব, তিন দিন ওয়ালিমা করা জায়েজ। (মুসলিম : ১৪২৭)। ওয়ালিমা করা এক গুরুত্বপুর্ণ সুন্নত। রাসুল (সা.) নিজে ওয়ালিমা করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.) এর সঙ্গে বাসররাত অতিবাহিত করার পর ওয়ালিমা করেছিলেন। (বোখারি : ৫১৭০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাফিয়াহ (রা.) কে বিয়ের পর তিন দিন ধরে ওয়ালিমা খাইয়েছিলেন। (মুসনাদে আবু ইয়ালা : ৩৮৩৪)। 
ওয়ালিমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচুমানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরি নয়; বরং সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওয়ালিমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়, দ্বীনদার ও গরিব-মিসকিনদের দাওয়াত দেওয়া হয় না, তাকে হাদিসে নিকৃষ্টতম ওয়ালিমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (আবু দাউদ : ৩৭৫৪)। 
বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের জন্য ওয়ালিমা করা সুন্নত। আজকাল মেয়ের বাড়িতে যে ভোজের আয়োজন করা হয়, তা শরিয়তসম্মত নয়। বিয়েতে মেয়েপক্ষের কোনোরূপ খরচ করার কথা নয়। এরপরও যেটা করা হয়, সেটা সৌজন্যমূলক আপ্যায়নমাত্র। মেয়েপক্ষের ওপর আপ্যায়নের যে চাপ সৃষ্টি করা হয়, তা সম্পূর্ণ হারাম। সর্বোপরি শর্তারোপ করে বরযাত্রীর নামে বরের সঙ্গে অধিকসংখ্যক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়িতে মেহমান হয়ে কনের বাবার ওপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘন্য কুপ্রথা, যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। (মুসনাদে আহমাদ : ২০৭২২; বোখারি : ২৬৯৭)। কনেপক্ষের অনিচ্ছাকৃত বা চাপের মুখে বাধ্যতামূলক আপ্যায়ন ও মেহমানদারি সম্পূর্ণ নাজায়েজ। এতে অংশগ্রহণ করাও হারাম ও পাপ কাজ। কারও ওপর জোর প্রয়োগ করে কোনো খাবার গ্রহণ করা জুলুমের শামিল। (আল দায়েউস সানায়ে, কিতাবুন নিকাহ; দুররুল মুখতার, রদ্দুল মুহতার)।


মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী 
সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া
ইনস্টিটিউট অব সুফিজম  


কৃতজ্ঞ ও কৃতজ্ঞতার মাহাত্ম্য
আর আমাদের নবী (সা.) এর কথা তো বলাই বাহুল্য। নিজ
বিস্তারিত
মিতব্যয়িতা : ইসলামের মধ্যমপন্থার একটি
  দুনিয়ার এ সংক্ষিপ্ত জীবনে আল্লাহ মানুষকে সম্পদের মালিকানা দিয়ে
বিস্তারিত
শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়নে ইসলামের শ্রমনীতি
খতিব : হাজী জাহেদ আলী ফকির কেন্দ্রীয় শাহী মসজিদ, আমতলী,
বিস্তারিত
ন্যাড়া গ্যাংয়ের পাবলিসিটি
সারিবদ্ধভাবে একই রকম পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে এলাকায় ঘুরছে একদল কিশোর। যাদের
বিস্তারিত
সুফি সাহেবের বিশ্বাসঘাতক বউ
লোকটির পরিচয় সুফি। তার আধ্যাত্মিক সাধনার ঠিকানা খানকাহ। জীবন-জীবিকার জন্য
বিস্তারিত
সুফিকোষ
‘নাজিব’ আরবি শব্দ, বিশেষণ, একবচন, পুংলিঙ্গ; এর স্ত্রী-লিঙ্গ হলো ‘নাজিবাহ’।
বিস্তারিত