ভবিষ্যতের খবর আল্লাহই জানেন

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কে জানে? কাল কী হবে কে বলতে পারে? এক সেকেন্ড পরে কী হবে, তা-ও কি কেউ বলতে পারে? মানুষের ভবিষ্যৎ বলার কোনো ক্ষমতা আছে কি? নবী-রাসুলরাও কি ভবিষ্যৎ বলতে পারতেন? অন্য কোনো প্রাণী ভবিষ্যৎ জানে কি? বিশেষ করে জিনরা কি ভবিষ্যৎ বলতে পারে? ওঝা, ফকির, পীর-আউলিয়া যারা, তারাও কী কাল কি হবে বলতে পারবেন? প্রশ্নগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক। কেননা ভবিষ্যৎ জানতে মানুষ বরাবরই উন্মুখ, উৎসাহী। কৌতূহলী সবসময়। বুঝে হোক না বুঝে হোক, ভবিষ্যৎ জানতে গিয়ে মানুষ শিরকে লিপ্ত হচ্ছে। 
শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম, জঘন্য গোনাহ। পবিত্র কোরআনে অসংখ্যা জায়গায় স্পষ্ট করে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘ভবিষ্যতের খবর শুধু তিনিই জানেন। আল্লাহ ছাড়া ভবিষ্যৎ কেউ জানেন না। কোনো সন্দেহ নেই, দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ নেই বিন্দুমাত্র। রাসুল (সা.) ততটুকুই বলতে পারতেন যতটুকু তাকে আল্লাহ জানাতেন। তিনি কখনোই ভবিষ্যৎ জানেন, তা বলেননি। যদি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ভবিষ্যৎ না জেনে থাকেন, তাহলে অন্য কেউ কীভাবে ভবিষ্যৎ জানবেন? নেহাতই কা-জ্ঞানহীন না হলে কেউ এটা বিশ্বাস করার কথা নয়। কাউকে ভবিষ্যৎ বলনেওয়ালা ভাবলে ঈমানই চলে যাবে। ঈমান যার নেই তার যেন কিছুই অবশিষ্ট নেই। ভবিষ্যৎ আল্লাহই জানেন। এখানে তর্কবির্তক থাকতে পারে না। এবার দেখা যাক পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এ বিষয়ে কী বলেছেনÑ ‘বল, আল্লাহ ব্যতীত আকাশম-লী ও পৃথিবীর কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং তারা জানে না তারা কখন পুনরুত্থিত হবে।’ (সূরা নামল : ৬৫)। 
‘আকাশম-লী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই এবং কেয়ামতের ব্যাপার তো চক্ষুর পলকের মতো, বরং ওর চেয়েও সত্ব¡র। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ (সূরা নামল : ৭৭)। নবী করিম (সা.) এর জবানীতে কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি তোমাদের এ কথা বলছি না যে, আমার কাছে আল্লাহর সব ধনভা-ার রয়েছে এবং আমি (এ কথা বলছি না যে) অদৃশ্যের সব কথা জানি। আর আমি এটাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আর যারা তোমাদের চোখে হীন আমি তাদের সম্পর্কে এটা বলতে পারি না যে, আল্লাহ কখনও তাদের কোনো নেয়ামত দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা কিছু আছে, তা আল্লাহ উত্তমরূপে জানেন, আমি তো এরূপ বললে অন্যায়ই করে ফেলব।’ (সূরা হুদ : ৩১)। 
‘(হে মুহাম্মদ সা.) আপনি ঘোষণা দিন, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তাছাড়া আমার নিজের ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে আমার কোনো অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের তত্ত্ব ও খবর জানতাম তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতে পারতাম আর কোনো অমঙ্গল ও অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করতে পারত না। (এতএব অদৃশ্যের কোনো খবরই আমি রাখি না)। আমি শুধু মোমিন সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদবাহী।’ (সূরা আরাফ : ১৮৮)। এছাড়া সূরা আনআমের ৫০ ও ৫৯, সূরা ইউনুসের ২০ নম্বর আয়াতেও বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) অদৃশ্যের খবর জানতেন না, শুধু আল্লাহই তা জানেন। কোনোভাবেই মানুষের চেয়ে জিনজাতি শ্রেষ্ঠ নয়। মানুষ আল্লাহর সেরা সৃষ্টি, আশরাফুল মাখলুকাত। তবু মানুষ জিনদের শরণাপন্ন হয়, ভবিষ্যৎ জানতে চায়। এটা শুধু একটা ভুল নয়, শিরকের মতো জঘন্য গোনাহ। জিনদের বুদ্ধিমত্তা কতটুকু, তারা ভবিষ্যৎ জানে কি নাÑ আমরা তার প্রমাণ পাই হজরত সুলাইমান (আ.) এর মৃত্যুর ঘটনার পরে। সূরা সাবার ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যখন আমি সুলাইমান (আ.) এর মৃত্যু ঘটালাম, তখন জিনদের তার মৃত্যু বিষয় জানাল উইপোকারা, যারা সুলাইমান (আ.) এর লাঠি খাচ্ছিল। যখন সুলাইমান (আ.) পড়ে গেলেন, তখন জিনরা বুঝতে পারল যে, তারা যদি অদৃশ্য বিষয় জানত তাহলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে আবদ্ধ থাকত না।


বিশ্ববিখ্যাত মুসলিম স্থাপত্য
অগণিত মুসলিম মহামনীষীর অক্লান্ত প্রচেষ্টার কল্যাণে বিশ্বজুড়ে আজ ইসলামের মর্মবাণী
বিস্তারিত
আদর্শ মূল্যবোধ তৈরিতে ধর্ম
ধর্ম তিনভাবে মানুষের নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধ করছে। ১. সরাসরি এসব
বিস্তারিত
ইসলামি জ্ঞানের মাহাত্ম্যকথা
বিচারপতি মুফতি তাকি উসমানি   আমাদের যেসব মুসলমান ভাই ও বোন সেক্যুলার
বিস্তারিত
ব্যবহার্য বস্তু ধার করা :
কিছু বস্তু নিঃশেষ করলেই শুধু উপকার লাভ করা যায়। যেমনÑ
বিস্তারিত
দামের ওপর দাম করা
মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব   হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
বিমানে পরিবেশিত খাবার প্রসঙ্গে
প্রশ্ন : আমি একটি মাসআলার ব্যাপারে মুফতিদের অভিমত জানতে চাচ্ছি।
বিস্তারিত